দিল্লিতে মডেল মুস্কান হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত জিম প্রশিক্ষক ইমরানের বিরুদ্ধে এর আগে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। শুধু তা-ই নয়, এক মহিলাকে মারধর করারও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। মডেল হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নয়া তথ্য পেল পুলিশ।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, ইমরানের বিরুদ্ধে তিলকনগরেই এক কিশোরীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল ২০১৮ সালে। তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়েছিল। ২০২১ সালেও এক মহিলাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে ইমরানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, মারধরের কারণে কোমায় চলে যান মহিলা। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রচুর পরিমাণে মাদক সেবন করেন ইমরান। মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার পাশাপাশি আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনার পর তাঁকে জিম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মুস্কানের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গত জুলাইয়ে ইমরানকে নেশামুক্তি কেন্দ্রেও পাঠানো হয়।
পুলিশের সন্দেহ, মুস্কানকে হত্যার আগে সমাজমাধ্যমে লাইভে গিয়ে তাঁকে খুনের হুমকি দিয়েছিলেন ইমরান। ওই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করছে পুলিশ। তার পরই মুস্কানের দেহ উদ্ধার হয়। সূত্রের খবর, ইমরানের ফোন ধরা বন্ধ করে দিয়েছিলেন মুস্কান। সমাজমাধ্যমেও তাঁকে ব্লক করে দেন। তার পরেও মুস্কানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বিভিন্ন নম্বর থেকে তাঁকে ফোন করে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। পুলিশের সন্দেহ, হত্যাকাণ্ডের দিনও মুস্কানকে ফোন করেছিলেন ইমরান। কিন্তু যোগাযোগ করতে পারেননি।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, মুস্কানের ফোন থেকে সমস্ত কথোপকথন মুছে দিয়েছিলেন ইমরান। তার পর সেই ফোন নিয়েও চলে যান। বার বার অবস্থান বদল করছিলেন। তাঁর খোঁজে পুলিশের একাধিক দল তল্লাশি চালাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে অবশেষে রজৌরি গার্ডেনের কাছে ইমরানের হদিস মেলে। পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হন ইমরান। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য, গত বুধবার সন্ধ্যায় দিল্লির তিলকনগরে বাড়িতে ঢুকে মুস্কানকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে ইমরানের বিরুদ্ধে।