১১ দিন ধরে পালিয়ে বেড়ানোর পর অবশেষে গ্রেফতার হয়েছেন লখনউয়ের মডেল তথা সমাজমাধ্যম প্রভাবী শ্রদ্ধা দুবে। কী ভাবে কোন পথ ধরে পুলিশকে এড়িয়ে ঠিকানা বদল করছিলেন, জেরায় তা তিনি জানিয়েছেন বলে তদন্তকারী সূত্রের খবর। ২০ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় শ্রদ্ধা, তাঁর বোন রশ্মি এবং গাড়িচালক আদিলকে।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, নেপালে পালিয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই শ্রদ্ধাদের খোঁজে সেখানেও যায় পুলিশের একটি দল। কিন্তু সেখানেও তাঁদের নাগাল পাওয়া যাচ্ছিল না। নেপালে তাঁদের খোঁজে পুলিশ পৌঁছে গিয়েছে, এই খবর জানার পর থেকেই বার বার ঠিকানা বদলানো শুরু করেন তাঁরা। শ্রদ্ধার দাবি, সব ক্ষেত্রে সাহায্য করছিলেন তাঁর প্রেমিক আমির। তিনি তাঁদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন।
জেরায় শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, নেপাল থেকে ফিরে প্রথমে তাঁরা কানপুরে যান। সেখান থেকে আগরা। ১৮ অক্টোবর কানপুরে একটি হোটেল বুক করার চেষ্টা করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষ শ্রদ্ধার কাছে পরিচয়পত্র চান। শ্রদ্ধার ভয় ছিল, পরিচয়পত্র দিলে তিনি ধরা পড়ে যেতে পারেন। তাই হোটেল বুক না করেই তাঁরা বেরিয়ে যান। তার পর সেখান থেকে একটি গাড়ি ভাড়া করে নাগপুরে যান। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় শ্রদ্ধাদের।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, জেরায় শ্রদ্ধা দাবি করেছেন, ক্যাফে মালিক শিবা শর্মার মৃত্যুর পর লখনউ থেকে তাঁদের পালাতে সাহায্য করেছিলেন প্রেমিক আমির। তিনি নেপালেও যেতে সাহায্য করেন। আমিরের নামে একটি এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। লখনউয়ের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সেন্ট্রাল) জানিয়েছেন, শুধু আমির নন, শ্রদ্ধাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল আরও কয়েক জনের। তাঁরা কারা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ৯ অক্টোবর লখনউয়ের একটি আবাসনের চারতলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় ক্যাফে মালিক শিবার। ওই আবাসনেই থাকতেন শিবার লিভ ইন সঙ্গী শ্রদ্ধা। তাঁর বিরুদ্ধে শিবাকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। যদিও সেই অভিযোগ খণ্ডন করে শ্রদ্ধা পাল্টা দাবি করেছেন, শিবা আত্মহত্যা করেছেন।