Advertisement
E-Paper

অরুণাচল নিয়ে চাপানউতরের মাঝেই চিন সফরে যাচ্ছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ডোভাল! বসবেন সীমান্ত-বৈঠকে

ছ’বছর আগে লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় বাহিনীর উপর হামলা চালিয়েছিল চিনা ফৌজ। তার জেরে চার বছরের বেশি সময় ধরে দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ অগস্ট ২০২৬ ১৬:১৩
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। — ফাইল চিত্র।

সীমান্ত বাণিজ্য শুরু হলেও চাপানউতর কাটেনি। অরুণাচল প্রদেশ প্রসঙ্গে চিনের অবস্থান মোটেও পছন্দ করছে না ভারত। দ্বিপাক্ষিক এই টানাপড়েনের মাঝে সোমবার বেজিঙে যাচ্ছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে বিশেষ প্রতিনিধি স্তরের বৈঠকে বসবেন তিনি। পিটিআই জানাচ্ছে, আগামী মঙ্গলবারের ওই বৈঠকে মুখ্য আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে সীমান্ত পরিস্থিতি।

ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে ২০০৩ সাল থেকে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা হয়ে আসছে। ডোভালের এ বারের সফরে বিশেষ প্রতিনিধি স্তরের ২৫ তম দফার আলোচনায় বসবে দুই দেশ। ঘটনাচক্রে, এমন এক সময়ে এই বৈঠক হচ্ছে যখন অরুণাচল প্রদেশ ঘিরে দিল্লি এবং বেজিঙের মধ্যে চাপানউতর নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন এলাকার ‘চিনা নামকরণ’ নিয়ে অসন্তুষ্ট দিল্লি। ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, সীমান্ত পরিস্থিতির উপরেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নির্ভর করবে।

অন্য দিকে আগামী মাসেই ব্রিক্‌স সম্মেলন রয়েছে দিল্লিতে। আন্তর্জাতিক এই গোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য বেজিং। চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙেরও ওই সম্মেলনে থাকার কথা। বেজিং এখনও নিশ্চিত ভাবে কিছু না জানালেও তাঁর দিল্লি সফর নিয়ে আশাবাদী দু’দেশই। সে ক্ষেত্রে ব্রিক্‌সের পার্শ্ববৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং জিনপিঙের আলাদা ভাবে আলোচনায় বসারও সম্ভাবনা রয়েছে। আসন্ন ওই ব্রিক্‌স সম্মেলনের কয়েক সপ্তাহ আগে ডোভালের চিন সফর আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শনিবার দিল্লিতে এক আলোচনাসভাতেও ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়ে দিল্লির অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। জানিয়ে দিয়েছেন, সীমান্তে শান্তি এবং স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে। চিনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটিই ভারতের প্রধান পূর্বশর্ত। বিদেশমন্ত্রীর কথায়, “সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে সীমান্ত এলাকায় শান্তি এবং স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে। আমাদের সম্পর্ক কেমন হবে, তা স্বাভাবিক ভাবেই অনেকাংশে স্থির করবে দু’দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি।”

২০২০ সালে লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় বাহিনীর উপর হামলা চালিয়েছিল চিনা ফৌজ। ওই ঘটনার পর থেকে প্রায় চার বছরেরও বেশি সময় ধরে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। শেষে ২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজ়ানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক হয় চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের। তার পর থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ফের ধীরে ধীরে উন্নত হতে শুরু করে। প্রায় ছ’বছর বন্ধ থাকার পরে সদ্য সিকিমের নাথু লা, হিমাচল প্রদেশের শিপকি লা এবং উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ দিয়ে ফের ভারত-চিন বাণিজ্যপথ শুরু হয়েছে।

এরই মধ্যে অরুণাচল প্রদেশ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। অতীতে বিভিন্ন সময়ে অরুণাচলের বিভিন্ন জায়গার নিজের মতো নামকরণ করে গিয়েছে চিন। তার যথাযোগ্য প্রতিবাদও করেছে ভারত। বুঝিয়ে দিয়েছে, ওই নামকরণের কোনও গুরুত্ব নেই। তবে চিনও বার বার অরুণাচল প্রসঙ্গে নাক গলিয়েছে। সম্প্রতি অরুণাচলের ২৭টি এলাকাকে মানচিত্রে আনুষ্ঠানিক ভাবে ভারতীয় নামে চিহ্নিত করে দিল্লি। তাতে আপত্তি জানায় বেজিং। চিনের বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে ওই ভারতীয় নামকরণকে ‘অবৈধ’ বলে দাবি করে। পাল্টা দিল্লিও জানিয়ে দেয়, , অরুণাচল ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং এই বাস্তব পরিস্থিতি বদলানো যাবে না। এমন এক চাপানউতরের মাঝে সোমবার বেজিং যাচ্ছেন ডোভাল।

Ajit Doval National Security Adviser India China Border

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy