Advertisement
E-Paper

রকেট উৎক্ষেপণে সবচেয়ে বেশি খরচ পড়ে ভারতেরই, সবচেয়ে সস্তা হয় আমেরিকায়! কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দাবি

গোটা পৃথিবীতে ভারতের মহাকাশ উৎক্ষেপণের খরচ সবচেয়ে বেশি। আমেরিকা যে খরচে কোনও বস্তুকে মহাকাশে পাঠায়, ভারত তার চেয়ে চার গুণ বেশি খরচ করে ওই একই কাজ করতে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ অগস্ট ২০২৬ ১২:২৮
ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর রকেট উৎক্ষেপণ।

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর রকেট উৎক্ষেপণ। —ফাইল চিত্র।

২০২৩ সালের ২৩ অগস্ট চাঁদে পৌঁছেছিল ভারতের চন্দ্রযান-৩। দিনটিকে জাতীয় মহাকাশ দিবস হিসাবে পালন করা হয় ভারতে। সেই তৃতীয় মহাকাশ দিবসেই প্রকাশ্যে এল ভারতের মহাকাশ গবেষণা এবং কর্মসূচি নিয়ে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ গবেষণা। সেখানে দাবি করা হয়েছে, গোটা পৃথিবীতে ভারতের মহাকাশ উৎক্ষেপণের খরচ সবচেয়ে বেশি। আমেরিকা যে খরচে কোনও বস্তুকে মহাকাশে পাঠায়, ভারত তার চেয়ে চার গুণ বেশি খরচ করে ওই একই কাজ করতে। ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর কাছে এই তথ্য কিছুটা অস্বস্তিকর বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ভারত সরকার এবং ইসরো দীর্ঘদিন ধরেই কম খরচে মহাকাশ অভিযানের কথা প্রচার করে আসছে। কেমব্রিজের গবেষণার ফলাফল সেই প্রচলিত ধারণার পরিপন্থী।

কেমব্রিজের অর্থনীতিবিদ অ্যালেসিও টেরজ়ি এবং ইটালির প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পলিটেকনিকো ডি টোরিনোর অর্থনীতিবিদ ফ্রান্সেস্কো নিকোলির নেতৃত্বাধীন গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে এলসিভিয়ার জার্নাল ইকনমিক্‌স লেটারে। তাঁরা ১৯৬০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ৬,৭৪০টি রকেট উৎক্ষেপণের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন। দেখা গিয়েছে, মহাকাশে (পৃথিবীর নিকটবর্তী কক্ষপথে) এক কিলোগ্রাম ওজনের কোনও বস্তু পাঠাতে ভারত ১৩,৩০২ ডলার খরচ করে। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য ১২ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা। এটি অন্য যে কোনও দেশের চেয়ে বেশি। আমেরিকার ওই একই পরিমাণ বস্তু একই জায়গায় পাঠাতে খরচ হয় মাত্র ৩,২২৫ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৩ লক্ষ ৮ হাজার টাকা), ভারতের চেয়ে চার গুণ কম।

শুধু তা-ই নয়, মহাকাশে পৃথিবীর কাছের কক্ষপথে এক কিলোগ্রাম ওজনের বস্তু পাঠাতে জাপানের খরচ হয় ৫২৮৭ ডলার (৫.০৬ লক্ষ টাকা), চিনের খরচ হয় ৫৮০৯ ডলার (৫.৫৬ লক্ষ টাকা), রাশিয়ার খরচ হয় ৬৬৮২ ডলার (৬.৩৯ লক্ষ) এবং ইউরোপের খরচ হয় ৯৮৯৭ ডলার (৯.৪৭ লক্ষ টাকা)। কেমব্রিজের গবেষণাপত্রে লেখকেরাই বলেছেন, ‘‘এই তথ্য ভারতে প্রত্যাশার বিপরীত বা অস্বাভাবিক মনে হতে পারে। কারণ, দেশটির স্বল্প ব্যয়ের মহাকাশ কর্মসূচির প্রচারের সঙ্গে এটা মিলছে না।’’ কেন বেশি খরচ? তার ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। গবেষকদের দাবি, ব্যয়বহুল অভিযানের নেপথ্যে রয়েছে ভারতের রকেটগুলির আকার। রকেটে সাধারণত কম ওজনের পেলোড ব্যবহার করা হয়। ফলে কম ওজনের বস্তুর উপর নির্দিষ্ট ব্যয় হয়। এর ফলে মহাকাশ অভিযানের সামগ্রিক খরচ কম হলেও প্রতি কিলোগ্রাম বস্তু উৎক্ষেপণের খরচ অন্যদের চেয়ে অনেকটাই বেশি হয়ে যায়।

ইসরো এই গবেষণা মানতে চায়নি। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন জানান, কেমব্রিজের গবেষণায় ভুল তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ঠিক কোন ক্ষেত্রের তথ্য ভুল, তার ব্যাখ্যা মেলেনি। কেমব্রিজের গবেষকদের অবশ্য দাবি, সরকারি রিপোর্ট, প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা এবং প্রকাশ্যে প্রচারিত প্রতিবেদন থেকেই তারা তথ্য সংগ্রহ করেছেন।

ISRO Cambridge Rocket Launcher

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy