প্রতিবেশী দেশ কানাডার সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্যের আলোচনা ভেস্তে গেল। দেশটির উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আপাতত এই শুল্কহার নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। আমেরিকাকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ‘ডলারে ডলারে’ হিসাব নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
জুলাই মাস থেকেই আমেরিকা এবং কানাডা বাণিজ্যিক চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। কিন্তু সমঝোতায় পৌঁছোতে পারেনি কোনও পক্ষ। ট্রাম্প আগেই কানাডার বিরুদ্ধে চড়া হারে শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বলা হয়েছিল, ১৯ অগস্ট থেকে কানাডার ২০০০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসবে। পরে আলোচনা চলছিল বলে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। শনিবার থেকে সেই শুল্কহার কার্যকর করা হচ্ছে, জানিয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
আরও পড়ুন:
সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন শুল্কের বড় কোনও প্রভাব এখনই কানাডার অর্থনীতিতে পড়বে না। কারণ, যে ধরনের পণ্যের উপর এই শুল্ক কার্যকর হচ্ছে, তা তেমন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক উপাদান নয়। আইস হকির কাঠের স্টিক-সহ কিছু নির্দিষ্ট পণ্য এই শুল্কের আওতায় আসছে, যা কানাডা থেকে আমেরিকায় খুব কম রফতানি হয়ে থাকে। আমেরিকা সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য করে প্রতিবেশী মেক্সিকো এবং কানাডার সঙ্গে। কানাডা থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমেরিকায় যায়, তার পাঁচ শতাংশের উপর ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক কার্যকর হচ্ছে। তবে অর্থনীতির চেয়ে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি।
শুক্রবার রাতে (স্থানীয় সময়) আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসার কথা ঘোষণা করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। জানান, এই আলোচনা ভাল ভাবেই এগোচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে শর্তাবলিতে আমেরিকা কিছু পরিবর্তন করেছে। তা কানাডার মানুষের পক্ষে উপযোগী নয়। ওই পরিবর্তনকে ‘অন্যায্য, অর্থনৈতিক ভাবে অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করেছেন কার্নি। অভিযোগ, ওই ধরনের শর্ত যে কোনও চুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়। তাই আলোচনা চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হয়নি। কানাডার মধ্যস্থতাকারীদের অবিলম্বে ফিরে আসার নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী। শেষ মুহূর্তে আমেরিকা শর্তাবলিতে ঠিক কী কী পরিবর্তন করেছিল, তা অবশ্য উল্লেখ করেননি তিনি।
কানাডার পদক্ষেপের পরেই আমেরিকা ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করে দেয়। মার্কিন বাণিজ্যিক প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির একটি বিবৃতিতে বলেন, ‘‘কিছু দিন আগে যে শর্তে কানাডা সম্মত হয়েছিল, তার ভিত্তিতে এখন বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করবে না বলে জানিয়েছে। আমাদের বাজারে রফতানির ক্ষেত্রে কানাডাকেই সবচেয়ে বেশি সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা পূর্বের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে।’’ মার্কিন শুল্কের কথা শোনার পরেই পাল্টা হুঁশিয়ারি দেন কার্নি। জানিয়ে দেন, ডলারে ডলারে এর হিসাব নেবেন। আমেরিকার বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্কও আরোপের কথা বলেছেন তিনি।
সূত্রের খবর, কানাডার স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো পণ্যে মার্কিন শুল্কের পরিমাণ ৫০ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার বিষয়ে আলোচনা চলছিল দুই দেশের। পরিবর্তে কানাডার বাজারে আমেরিকার মদ বিক্রিতে ছাড় দিতে রাজি ছিলেন কার্নি। কিন্তু শেষমেশ চুক্তি হল না।