উত্তর আরবসাগরে রুটিন টহলদারির সময় ভারতীয় নৌসেনার জাহাজকে ধাক্কা মারল পাকিস্তান নৌসেনার টহলদারি জাহাজ। আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুই দেশের জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনার পরই দিল্লিতে নিযুক্ত পাক দূতাবাসের শীর্ষ কূটনীতিক সাদ আহমদ ওয়ারিচকে তলব করেছে নয়াদিল্লি। এই ঘটনাকে ‘অপেশাদার এবং গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে বার্তাও দেওয়া হয়েছে নয়াদিল্লির তরফে। এবং এই ধরনের ঘটনা একেবারেই কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেছে নয়াদিল্লি।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, উত্তর আরবসাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টহল দিচ্ছিল ভারতীয় নৌসেনা। সেই সময় পাকিস্তানের নৌসেনার টহলদারি একটি জাহাজ দ্রুতগতিতে এসে ধাক্কা মারে ভারতীয় নৌসেনার জাহাজে। যদিও এই ঘটনায় বিশেষ ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে। তবে পাকিস্তানি জাহাজের গতি অত্যন্ত বেশি ছিল এবং বিপজ্জনক ভাবে ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ।
এই বিষয়টিকে শুধু একটি নিছক সামুদ্রিক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছে না নয়াদিল্লি। দুই দেশের নৌবাহিনীর জাহাজ জড়িত থাকায় ঘটনাটি কূটনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি নৌবাহিনীর এই আচরণ ১৯৯১ সালের ভারত-পাকিস্তান চুক্তির অনুচ্ছেদ ১০-এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী, সামরিক মহড়া, রণকৌশলগত অনুশীলন বা যুদ্ধজাহাজের টহলদারি চলার আগে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে আগে থেকে রুট, সময় সব আগাম জানাতে হয়। এক্ষেত্রে সেই নিয়ম অনুসরণ না করে সরাসরি চুক্তি লঙ্ঘন করার অভিযোগ উঠেছে পাক নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে।
আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ধরনের ঘটনা বেনজির বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও ২০১১ পাক নৌসেনার জাহাজ ‘বাবর’-এর সঙ্গে ভারতীয় নৌসেনার জাহাজ ‘গোদাবরী’র সংঘর্ষ হয়েছিল। সেই ঘটনাকে ঘিরে দু’দেশের মধ্যে টানাপড়েন চরমে পৌঁছোয়। ১৫ বছর পর সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে পাক দূতাবাসের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করে কড়া বার্তা দিল নয়াদিল্লি।