আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত সোমবার রায় ঘোষণার পরেই পত্রপাঠ প্রত্যাখ্যান করেছিল নয়াদিল্লি। পরিস্থিতি প্রতিকূল বুঝে তাই এ বার সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসে সিন্ধু জলচুক্তি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের আবেদন জানাল ইসলামাবাদ।
বুধবার পাকিস্তান বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, ‘‘আমরা ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তির পরিকাঠামোর অধীনে গঠনমূলক আলোচনা চাইছি। আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত জানিয়েছে, ‘দু’দেশের মধ্যে সিন্ধু জলচুক্তি পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে’, তাই আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চাই। পাকিস্তান চুক্তিটি ‘অক্ষরে অক্ষরে এবং চেতনায়’ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি ভারতকে মেনে চলতে হবে বলে সোমবার রায় দিয়েছিল নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত। রায়ে বলা হয়, দু’দেশের মধ্যে সিন্ধু জলচুক্তি পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। কারণ বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত চুক্তিটি একতরফা ভাবে বাতিল বা স্থগিত করার কোনও ক্ষমতা ভারতের নেই।
আরও পড়ুন:
আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের ওই রায় ঘোষণার পরেই পত্রপাঠ তা খারিজ করে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘আদালতের রায়ের কোনও প্রভাব ভারত সরকারের পদক্ষেপের উপর পড়বে না। সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখা হবে।’’ আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের রায়ে বিশ্বব্যাঙ্ক কর্তৃক নিযুক্ত একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে হিমালয় অঞ্চলে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ সিন্ধু জলচুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু সেই সম্ভাবনাও খারিজ করেছে ভারত। এমনকি, আন্তর্জাতিক ওই আদালতের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার বলেছে, ‘‘অবৈধ ভাবে গঠিত ওই সংস্থার কথার কোনও মূল্য নেই।’’
গত বছর এপ্রিলে পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর সন্ত্রাসবাদী হামলার পরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ করেছিল ভারত সরকার। তার মধ্যে অন্যতম ছিল সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখা। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর আমলে ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধুচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু ও তার উপনদীগুলির মধ্যে পূর্বমুখী শতদ্রু, বিপাশা এবং ইরাবতীর জল ভারতের প্রাপ্য। পশ্চিমমুখী সিন্ধু, চন্দ্রভাগা এবং বিতস্তার জলে পাকিস্তানের অধিকার রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী কৃষি বা পানীয় জলের প্রকল্পে পশ্চিমমুখী নদীগুলির জল ভারত ব্যবহার করতে না পারলেও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু কিশনগঙ্গা এবং রতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে ভারত জল আটকে দিচ্ছে বলে ২০১৬ সালে দ্য হেগে অভিযোগ করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু সে সময়েও আদালতের সুপারিশ অগ্রাহ্য করার কথা জানিয়েছিল ভারত।