Advertisement
E-Paper

ঘরে এক-একটি শয্যার ভাড়াই ১৮ হাজার! দিল্লির মেসবাড়ির দেওয়ালে ফাটল বাড়ছিল, পাঁচ সেকেন্ডে ধূলিসাৎ পাঁচতলার ভবন

রবিবার দুপুরে চাণক্যপুরীর মোতি বাগে ছ’তলা মেসবাড়ি ভেঙে পড়ে। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ভবনটি ধূলিসাৎ হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৫৯
দিল্লির চাণক্যপুরীতে ভেঙে পড়া মেসবাড়ির দিকে উঁকিঝুঁকি, অন্য ভবনের ছাদ থেকে।

দিল্লির চাণক্যপুরীতে ভেঙে পড়া মেসবাড়ির দিকে উঁকিঝুঁকি, অন্য ভবনের ছাদ থেকে। ছবি: পিটিআই।

দিল্লির চাণক্যপুরীতে ছেলেদের মেসবাড়ি ভেঙে মৃত্যু হয়েছে ছ’জনের। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ছ’তলা ওই বাড়িটিতে ‘পেইং গেস্ট’ হিসেবে ছাত্রেরা থাকতেন। ভাড়াও ছিল চড়া। ঘরের ভিত্তিতে নয়, শয্যার হিসাবে ভাড়া দেওয়া হত। নীচতলার ঘরগুলিতে এক-একটি শয্যার ভাড়া ছিল ১৮ হাজার টাকা!

রবিবার দুপুরে চাণক্যপুরীর মোতি বাগে ভবনটি ভেঙে পড়ে। এলাকার সিসি ক্যামেরার যে ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে ভবনটি ধূলিসাৎ হতে চার থেকে পাঁচ সেকেন্ড লেগেছে। উল্টো দিকে এক দোকানি বসেছিলেন। তিনি কিছু শুনতে পেয়ে উপর দিকে তাকান। মুহূর্তের মধ্যে হুড়মুড় করে বাড়িটি ভেঙে পড়ে। কোনও রকমে পালিয়ে বাঁচতে পেরেছেন ওই দোকানি। দমকলের অন্তত আটটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। জাতীয় এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও উদ্ধারকাজে হাত লাগায়। ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি গাড়ি পার্ক করে রাখা ছিল। দুর্ঘটনার অভিঘাতে সেগুলি গুঁড়িয়ে গিয়েছে। এখনও ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকাজ চলছে। নীচে আরও কেউ কেউ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা।

অভিযোগ, বেআইনি ভাবে ভবনটি তৈরি করা হয়েছিল। দোতলা পর্যন্ত নির্মাণে পুরসভার অনুমোদন ছিল। কিন্তু পরে আরও চারটি তলা তৈরি করা হয়। জানা গিয়েছে, ওই ভবনের একতলা, চারতলা এবং পাঁচতলা ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। দোতলা, তিনতলায় কেউ ছিলেন না। প্রত্যেক তলায় চারটি করে ঘর ছিল। এক-একটি ঘরে দুই থেকে তিনটি করে শয্যা। কোন তলায় ঘর, তার উপর ভাড়ার পরিমাণ নির্ভর করত। একতলার ঘরগুলিতে ভাড়া ছিল বেশি, শয্যা প্রতি ১৮ হাজার। চতুর্থ এবং পঞ্চম তলায় প্রতি শয্যায় যথাক্রমে ১৬ হাজার এবং ১৪ হাজার টাকা করে ভাড়া নেওয়া হয় ‘পেইং গেস্ট’ ছাত্রদের থেকে।

স্থানীয়দের দাবি, বাড়িটি অন্তত ৫০ বছরের পুরনো। মালিক হরিরাম বনসল বছর ২০ আগে গুরুগ্রাম চলে যান। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থাকায় এলাকায় ঘরের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। কয়েক মাস আগে বসতবাড়ি়টি ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা করেন বনসলেরা। তড়িঘড়ি সংস্কার করে ভাড়া দেওয়া শুরু হয়। বেসমেন্টে সংস্কারের কাজ চলছিল। এই ঘটনায় মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করেছে দিল্লি পুলিশ। অবহেলা, হত্যার ধারা যোগ করা হয়েছে তাতে।

অভিযোগ, বাড়িটির দেওয়ালে ফাটল বাড়ছিল। জরুরি পরিস্থিতিতে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য দ্বিতীয় কোনও দরজাও ছিল না। এই গলদগুলি খতিয়ে দেখবে পুরসভা। ইতিমধ্যে দিল্লি পুরসভা এলাকায় চারতলার বেশি উঁচু সমস্ত বাড়ি ‘সিল’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় এমন অবৈধ বাড়ি আরও আছে, যেগুলি ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। আগেও এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রশাসনের টনক নড়েনি।

Building Collapse Delhi Paying Guest Delhi Police

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy