অপহরণের পর মুক্তিপণ বাবদ ৪০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। তার মধ্যে ৫ হাজার টাকা অনলাইনে নিয়েছিলেন। সেই ইউপিআই লেনদেনের সূত্র ধরেই অভিযুক্ত অপহরণকারীকে পাকড়াও করল দিল্লি পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে ১৩ বছর বয়সি অপহৃত কিশোরকেও।
গত শুক্রবার থেকে কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না দিল্লির শাহদরার এলাকার বাসিন্দা ওই কিশোরের। ওই দিনই জ্যোতিনগর থানায় গিয়ে ছেলের নিখোঁজ হওয়ার কথা জানান কিশোরের মা। পুলিশকে তিনি জানান, কিছু জিনিসপত্র কিনতে ছেলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। কিন্তু আর ফিরে আসেনি। সে খবর পাওয়ার পর স্থানীয় থানা ওই কিশোরের খোঁজ শুরু করে। এরই মধ্যে মহিলার কাছে এক অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। বলা হয়, ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। ফেরত পেতে হলে ৪০ হাজার টাকা দিতে হবে। তৎক্ষণাৎ পুলিশকে খবর দেন তিনি। পুলিশও অপহরণের মামলা রুজু করে নিখোঁজ কিশোরকে খুঁজতে একটি বিশেষ দল গঠন করে।
পুলিশ সূত্রে খবর, তল্লাশি চলাকালীন ফের ওই অপহরণকারীর ফোন যায় পরিবারের কাছে। অনলাইনে মুক্তিপণের টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পাঠানো হয় একটি কিউআর কোডও। সেই কিউআর কোড থেকেই অপহরণকারীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা শুরু করে পুলিশ। ওই কিউআর কোডে আর্থিক লেনদেন ‘ট্র্যাক’ করার জন্য এক পুলিশকর্মীর অ্যাকাউন্ট থেকেই সেখানে ৫০০০ টাকা পাঠানো হয়। সেই সূত্র ধরে তদন্তকারীরা পৌঁছে যান দিল্লির কারওয়াল নগরের এক সাইবার ক্যাফেয়। ক্যাফে মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, এক যুবক তাঁর ক্যাফেতে গিয়েছিল। সঙ্গে এক কিশোরও ছিল। ৫০ টাকা কমিশনের বিনিময়ে ওই যুবক তাঁর সাইবার ক্যাফের ইউপিআই কিউআর কোড ব্যবহার করে ৫০০০ টাকা নেন।
আরও পড়ুন:
ওই ক্যাফের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত যুবককে চিহ্নিত করে পুলিশ। তাঁকে ফের সাইবার ক্যাফে পর্যন্ত নিয়ে আসার জন্য টোপও ফেলেন তদন্তকারীরা। পরিবারের সদস্যদের দিয়ে অপহরণকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে ফের এক বার ৫০০০ টাকা পাঠানো হয় ওই কিউআর কোডে। অভিযুক্ত সেই টাকা নিতে আসতেই তাঁকে হাতেনাতে পাকড়াও করেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তের অতীতে কোনও অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার রেকর্ড নেই। তবে তাঁর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।