Advertisement
E-Paper

পথ আটকে কিশোরীকে হেনস্থা! অশালীন স্পর্শ এবং তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা! বিহারের ঘটনায় ফুটেজ দেখে আটক ৩ অভিযুক্ত

ঘটনার দু’টি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। একটি এক মিনিটের কিছু বেশি সময়ের। দ্বিতীয়টি ৩৫ সেকেন্ডের। ওই ভিডিয়োগুলি দেখে ইতিমধ্যে সাত অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:০০
বিহারের জামুইয়ে কিশোরীকে হেনস্থার অভিযোগ একদল যুবকের বিরুদ্ধে।

বিহারের জামুইয়ে কিশোরীকে হেনস্থার অভিযোগ একদল যুবকের বিরুদ্ধে। ছবি: সমাজমাধ্যম।

অন্ধকার রাস্তায় কিশোরীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল বিহারে। মারধর করা হয় তার বন্ধুকেও। জামুইয়ের ওই ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই পদক্ষেপ করল পুলিশ। ভিডিয়ো দেখে ইতিমধ্যেই সাত অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, কিশোরী এবং তার বন্ধু জামুইয়েরই বাসিন্দা। দু’জনেই দশম শ্রেণির পড়ুয়া। গত শনিবার সন্ধ্যায় টিউশন সেরে স্কুটারে চেপে জামুইয়ের মারওয়া পাহাড়ে ঘুরতে গিয়েছিল দু’জনে। সেখান থেকে ফেরার পথেই তাদের উপরে চড়াও হয় একদল যুবক। ঘটনার কিছু ভিডিয়ো ইতিমধ্যে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে (যার সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।

একটি ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, কিশোরী এবং তার বন্ধুর রাস্তা আটকায় একদল যুবক। তার পরেই কিশোরীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করতে শুরু করে অভিযুক্ত যুবকেরা। দেখা যায়, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন মিলে কিশোরীকে ঘিরে ধরেছেন। তার নাম, ঠিকানা জিজ্ঞাসা করছেন। এর মধ্যেই কিশোরীকে অশালীন ভাবে স্পর্শ করতেও দেখা যায় এক যুবককে। ওই যুবকদের মধ্যে একজন কিশোরীকে তুলে নিয়ে রাস্তার অন্য প্রান্তে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করেন। দ্বিতীয় একটি ভিডিয়োয় দেখা যায়, ওই যুবকেরা কিশোরী এবং তার বন্ধুকে চলে যেতে দিচ্ছেন।

জামুইয়ের রাস্তায় কত ক্ষণ ধরে এই হেনস্থা পর্ব চলে তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়। এখনও পর্যন্ত ঘটনার দু’টি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। একটি এক মিনিটের কিছু বেশি সময়ের। দ্বিতীয়টি ৩৫ সেকেন্ডের। একটি ভিডিয়োয় দেখা যায় কিশোরীর বন্ধুর জামার কলার ধরে তাকে কিশোরীর থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এক যুবক। কিশোরী পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করেন অভিযুক্তেরা। ওই ফুটেজগুলি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল পড়ে যায়। স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে পুলিশও।

জামুইয়ের পুলিশ সুপার বিশ্বজিৎ দয়াল জানান, দু’দিন আগে ঘটনাটি ঘটলেও রবিবার পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও থানায় অভিযোগ দায়ের হয়নি। ভিডিয়োয় যে স্কুটারটি দেখা যাচ্ছে, সেটির নম্বর প্লেট দেখে সোমবার কিশোর-কিশোরীর সন্ধান পায় পুলিশ। ঘটনার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি পুলিশ সুপার। শুধু জানান, ওই কিশোর-কিশোরী একই কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করত। পুলিশ সুপার বলেন, “জামুই থানায় যে এফআইআর রুজু হয়েছে, সেখানে কিশোর-কিশোরী কোনও অভিযুক্তের নামোল্লেখ করেনি। তবে ভিডিয়ো ফুটেজ খতিয়ে দেখে আমরা সাত জন অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেছি।” ঘটনায় ইতিমধ্যে তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবারের ওই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিহারের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “এটা কোনও সংস্কৃতি নয়, এটা পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা।” এক জন কিশোরী কেন রাস্তায় নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। আম আদমি পার্টিও বিহারের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বেচি বাঁচাও’ স্লোগানের কথা উল্লেখ করে তাদের অভিযোগ, “বিজেপি-শাসিত বিহারে মেয়েদের সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

নিন্দা জানিয়েছে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসও। সমাজমাধ্যমে কালীঘাট তৃণমূলের প্রশ্ন, “কোনও মহিলার অনুমতি ছাড়া তার গায়ে হাত দেওয়ার অধিকার কে দিয়েছে! কোন অধিকারে এই দুষ্কৃতীরা নীতিপুলিশির নামে কিশোর-কিশোরীকে হেনস্থা করল?”

Bihar Jamui

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy