বেঙ্গালুরুতে এক বৃদ্ধ দোকানদারকে ঠকিয়ে প্রায় দু’লক্ষ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ উঠল এক যুবতীর বিরুদ্ধে। পুলিশের বেশ ধরে দোকানদারকে কথা দেন, তাঁর স্ত্রীর হারিয়ে যাওয়া সোনার চেন খুঁজে দেবেন। কিন্তু তার আগেই ফোন ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। জানা গিয়েছে, যুবতীর নাম শিব রানি।
শ্রীরামুলু নায়ডু নামের ওই দোকানদার মিকো লেআউটের ১৬তম রোডে পড্ডুর (চাল-ডালের মিশ্রণে তৈরি একপ্রকার ভাজা) দোকান চালান। তিন মাস আগে তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন ওই যুবতী। দাবি করেন, তিনি পুলিশ। শ্রীরামুলু তাঁকে কথায় কথায় জানান, ছ’মাস আগে হোসুর বাসস্টপের কাছ থেকে তাঁর স্ত্রীর একটি সোনার চেন হারিয়ে যায়। অভিযোগ, তখন শিব তাঁকে আশ্বাস দেন, সেই চেন খুঁজে দেবেন।
শ্রীরামুলুর বিশ্বাস অর্জন করতে মাঝেমধ্যেই তাঁর দোকানে আসতেন শিব। পরনে থাকত পুলিশের মতো খাকি রঙের শাড়ি। তা ছাড়াও শ্রীরামুলুকে জানিয়েছিলেন, তাঁর ভাই আদালতে চাকরি করেন। তাঁর সাহায্যে সেই হারানো চেন খুঁজে পাওয়া যাবে বলেও আশ্বাস দেন। চেন খোঁজার জন্য পুলিশকে টাকা দেওয়ার নাম করে ও নানা অছিলায় দোকানদারের কাছ থেকে পরের তিন মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা নেন শিব।
আরও পড়ুন:
২৬ অক্টোবর শ্রীরামুলুকে তাঁর ভাড়াবাড়িতে ডেকে পাঠান শিব। সঙ্গে সমস্ত জরুরি কাগজপত্র আনতে বলেন। প্রথমে দোকানদারের ফোনটি চেয়ে নেন শিব। বলেন, ফোন করবেন। সেই ফোন থেকেই ডিজিটাল মাধ্যমে এক লক্ষ ৬০ হাজার টাকা সরিয়ে নেন নিজের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। তার পর দোকানদারকে তিনি অনুরোধ করেন কাছের দোকান থেকে কয়েকটি ওষুধ নিয়ে আসতে। তত ক্ষণে শ্রীরামুলুর ফোনে তাঁর ভাইয়ের নম্বরটি লিখে দেবেন বলে তিনি জানান। দোকানদার ফিরে দেখেন, ১৮ হাজার টাকার মোবাইলটি সমেত চম্পট দিয়েছেন ওই যুবতী।
নায়ডু পুলিশকে জানিয়েছেন, নিজের শেষকৃত্য সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করার জন্যই টাকা জমাচ্ছিলেন তিনি। তাঁর সন্তানেরা আলাদা থাকেন। তাঁদের কাছে হাত পাততে নারাজ শ্রীরামুলু। তাঁর বয়স ৭৫। তবু খেটেখুটে শেষ সময়ের জন্য টাকা জমাচ্ছিলেন। বেগুর পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৩১৮ ধারায় শিবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, শিব আপাতত পলাতক। তাঁকে দ্রুত গ্রেফতার করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগেও এক ব্যক্তিকে ঠকিয়ে ১৬ লক্ষ টাকা নিয়ে পালানোর মামলায় তাঁর নাম জড়িয়েছে। সেই মামলা দায়ের হয়েছিল বানসবাডি থানায়।