তাঁর নিশানায় ছিলেন বিত্তশালীরা। লখউয়ের হুক্কাবারে দলবল নিয়ে যেতেন সমাজমাধ্যম প্রভাবী তথা মডেল শ্রদ্ধা দুবে। সেখানে আসা বিত্তশালীদের সঙ্গে আলাপ জমাতেন। ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে তুলতেন। এ ভাবে ধীরে ধীরে নিজের জালে ফাঁসিয়ে তাঁদের নানা ভাবে ব্ল্যাকমেল করতেন। তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের হাতে।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, প্রতি দিন রাতে বিভূতিখণ্ডের হুক্কাবারে যেতেন শ্রদ্ধা। বিত্তশালী পরিবারের যুবকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে তাঁদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন। ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি তুলে রাখতেন। শুধু তা-ই নয়, প্রভাবশালীদের ভয় দেখিয়ে তাঁদের উপর নানা ভাবে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন চালানো হত বলে অভিযোগ। আর এই গোটা চক্রে সহযোগিতা করতেন শ্রদ্ধার বোন রশ্মি, শ্রদ্ধার প্রেমিক আমির এবং শ্রদ্ধাদের গাড়িচালক আদিল। কত জনকে এ ভাবে নিজেদের প্রতারণার জালে ফাঁসিয়েছিলেন, শ্রদ্ধাদের জেরা করে তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
আরও পড়ুন:
তদন্তকারী সূত্রের খবর, এই হুক্কাবারেই আলাপ হয়েছিল ক্যাফেমালিক শিবা শর্মার সঙ্গে। তার পর ঘনিষ্ঠতা বাড়ান শ্রদ্ধা। শিবার সঙ্গে লিভ ইন সম্পর্কও তৈরি হয়। শ্রদ্ধা যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, সেই ফ্ল্যাটে নিত্য যাতায়াত ছিল শিবার। মৃত্যুর আগে তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে তদন্তকারীরা এটা জানতে পেরেছেন যে, শিবাকে পুরো নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে রেখেছিলেন শ্রদ্ধা। তাঁকে নানা ভাবে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল। বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হত। শিবা কি আত্মঘাতী হয়েছেন, না কি তাঁকে খুন করা হয়েছে, ঘটনার প্রায় দু’সপ্তাহ হতে চলল, সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, গত ২৩ অক্টোবর শিবার দেহ উদ্ধার হয়। সেই ঘটনায় গ্রেফতার হন জেলবন্দি শ্রদ্ধা-সহ তিন জন।