২০১৯ থেকে ২০২৩— টানা চার বছর প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু তাঁর নেতৃত্বে ২০২২-এর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস মাত্র দু’টি আসন জিতেছিল। এখন প্রিয়ঙ্কা সাধারণ সম্পাদক হলেও নির্দিষ্ট কোনও দায়িত্বে নেই। কিন্তু আগামী বছর উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনিই ফের রাজ্যের হাল ধরবেন বুঝিয়ে প্রিয়ঙ্কা আজ উত্তরপ্রদেশের নেতাদের সঙ্গে তিন ঘণ্টা বৈঠক করলেন। সূত্রের খবর, সমাজবাদী পার্টি (এসপি)-র সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে দুই দলের নেতাদের মধ্যে চাপানউতোরে বিরোধী জোটে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছে, তা ধামাচাপা দিয়ে কংগ্রেস, এসপি-র আসন সমঝোতা মসৃণ ভাবে সেরে ফেলতে চাইছেন প্রিয়ঙ্কা।
প্রিয়ঙ্কা দিল্লিতে নিজের বাড়িতে আজ উত্তরপ্রদেশের পর্যবেক্ষক রাজেন্দ্র পাল গৌতম, প্রদেশ কংগ্রেস সভানেত্রী আরাধনা সিংহ-সহ দলের নেতানেত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে গৌতম বলেন, নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা হবে। কংগ্রেস, এসপি একসঙ্গে ভোটে লড়বে। বাকি ছোট দলগুলিকে জোটে নেওয়া হবে কি না, তা দু’দল ঠিক করবে। অনেক ছোট দল রয়েছে, যারা ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চকে সমর্থন করতে চায়। দু’দিন আগেই গৌতম এসপি-র দলত্যাগী ওবিসি নেতা স্বামীপ্রসাদ মৌর্যের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। মৌর্য আপনি জনতা পার্টি তৈরি করেছিলেন। রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’র জনসভাতেও তাঁর দলের উপস্থিতি ছিল। কিন্তু অখিলেশ বলেছেন, উত্তরপ্রদেশের বিরোধী জোটে মৌর্য থাকবেন না। তা নিয়ে দুই শরিকের বাদানুবাদ বেধেছিল।
৪০৩ আসনে অখিলেশের দল ৩৫০ আসনে নিজেই লড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। সে ক্ষেত্রে কংগ্রেসের জন্য ৫৩টি আসন পড়ে থাকে। কিন্তু কংগ্রেস প্রাথমিক ভাবে ১৭৫টি আসন চিহ্নিত করে এসপি-কে দিয়েছে। প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে বৈঠকের পরে প্রদেশ কংগ্রেস সভানেত্রী আগের অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এসপি, কংগ্রেস দুই দলই কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপি সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে প্রচারে যেতে চাইছে। উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস নেতারা আজ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে গিয়ে অভিযোগ করেছেন, উত্তরপ্রদেশের পড়ুয়ারা কোচিং, হস্টেলের খরচ জোগাড় করতে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায় প্রতি মাসে রক্ত বিক্রি করছেন।