পঞ্জাব পুলিশের অ্যাসিসট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর (এএসআই) হরজিৎ সিংহের খুনের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এক অভিযুক্তকে খুঁজে ‘এনকাউন্টার’ করল পুলিশ। বাকি আর এক অভিযুক্তের খোঁজ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের সঙ্গে ‘এনকাউন্টারে’ হত ওই অভিযুক্তের নাম দীপক সিংহ। তিনি অমৃতসরের মুলচকের বাসিন্দা।
শুক্রবার অভিযুক্তের হদিস পায় পুলিশ। তাঁকে ধরতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করেন। গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পিছু ধাওয়া করে পুলিশও। কয়েক কিলোমিটার ধাওয়া করার পর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার রাত পৌনে ১০টা নাগাদ দুই সন্দেহভাজন স্কুটারে চেপে আসছিলেন। এএসআইয়ের হত্যার পর বিভিন্ন রাস্তায় নাকাতল্লাশি চলছিল। সে রকমই একটি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় নাকা তল্লাশি চলছে দেখে স্কুটার ঘুরিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন দুই সন্দেহভাজন। পুলিশ তাঁদের দাঁড়াতে বলে। পুলিশের দাবি, তখনই তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান স্কুটারের এক আরোহী। তার পরই স্কুটার নিয়ে চম্পট দেন। পিছু ধাওয়া করে পুলিশ। পরবর্তী নাকার দিকে পালানোর সময় পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। গুলিতে দীপক আহত হন। তাঁর সঙ্গী পালাতে সক্ষম হন। দীপককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয় সূত্র এবং ডিজিটাল সূত্র ধরে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়। তাঁদের মধ্যে এক জন দীপক। তাঁর কাছ থেকে একটি .৩০ বোরের পিস্তল, দু’টি ম্যাগাজিন, আটটি গুলি, মোবাইল ফোন এবং একটি অ্যাক্টিভা স্কুটার উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তদন্তে পাকিস্তানের এক জঙ্গির সঙ্গে দীপকের যোগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই জঙ্গি হামলার জন্য অভিযুক্তদের টাকা দিয়েছিল বলেও তদন্তে তথ্য উঠে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোরে অমৃতসরের ভগতানওয়ালা গ্রেন মার্কেটের কাছে টহলের দায়িত্বে থাকা এএসআই হরজিৎ সিংহকে বাইকে আসা দুই হামলাকারী গুলি করে পালিয়ে যায়। এক মাসের মধ্যে দুই এএসআই খুন এবং হামলায় আরও এক জন এএসআই আহত হওয়ার ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে রাজনীতি সরগরম হয়ে ওঠে। প্রশ্নের মুখে পড়তে পুলিশ প্রশাসন এবং সরকারকে। এএসআই হরজিৎকে হত্যার প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এক অভিযুক্তকে ‘এনকাউন্টার’ করল পুলিশ।