টাটা সন্স এবং টাটা ট্রাস্টসের মধ্যে চলতে থাকা দ্বন্দ্বের মাঝে এ বার মুখ খুললেন রাহুল গাঁধী। কেন্দ্রকে তোপ দেগে তাঁর অভিযোগ, টাটা গোষ্ঠীকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়া হচ্ছে। সমালোচনা করেছেন দেশের শিল্পপতিদেরও। লোকসভার বিরোধী দলনেতার ক্ষোভ, এই পরিস্থিতিতেও কোনও শিল্পপতি ‘একটা কথা বলারও সাহস পাচ্ছেন না’। শিল্পপতিদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, “আপনারা আর কত দিন চুপ করে থাকবেন?” এ নিয়ে শিল্পমহলের প্রতিক্রিয়া না-এলেও বিরোধী দলনেতাকে পাল্টা বিঁধেছে কেন্দ্র।
টাটা গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ বিবাদ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। দেশের প্রথম সারির অন্যতম এই শিল্প সংস্থার মাথায় রয়েছে দু’টি প্রতিষ্ঠান। একটি টাটা ট্রাস্টস, অন্যটি টাটা সন্স। টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদে এন চন্দ্রশেখরনের নিয়োগে সায় দিয়েছে তাদের পরিচালন পর্ষদ। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা। সংস্থার এই অন্তর্কলহের মাঝেই এ বার টাটা গোষ্ঠীর বর্তমান পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুললেন রাহুল।
বুধবার সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে রাহুল লেখেন, “টাটাকে অপরাধমূলক ভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। তা-ও কোনও শিল্পপতি একটা কথা বলারও সাহস পাচ্ছেন না। অথচ কোনও ব্যবসায়িক নেতা একটি কথাও বলার সাহস পাচ্ছেন না।” শিল্পপতিদের ভূমিকার সমালোচনা করে রাহুলের প্রশ্ন, “আপনারা আর কত দিন চুপ করে থাকবেন? যত ক্ষণ না আপনাদেরও নিজেদের কব্জায় নিয়ে ফেলে?” এর পরই কেন্দ্রকে একহাত নিয়ে রাহুলের তোপ, “ভারতীয় শিল্প মোদী-শাহের খেলার পুতুল নয়। আপনাদের (শিল্পপতিদের) সাহসের অভাব থাকতে পারে, কিন্তু আমার নেই।”
আরও পড়ুন:
রাহুলের এই পোস্টের পর টাটা গোষ্ঠীর কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে পাল্টা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণও। রাহুলকে ‘সব বিষয়ে রাজনীতি না করার’ জন্য পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কংগ্রেস নেতাকে পাল্টা দিয়ে নির্মলা বলেন, “আপনি দেশের শিল্প এবং শিল্পপতিদের সাফল্যকে বার বার নিন্দা করেছেন। এখন কি আপনি আমাদের শিল্পপতিদের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করতে এবং বিষ ছড়াতে চেষ্টা করছেন?”