ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন, দিল্লিতে সংসদ অভিযান ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যখন জাতীয় রাজনীতি সরগরম, তখন বিরোধী পরিসরে সক্রিয় হতে পদক্ষেপ করল সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই। শুক্রবার দেশ জুড়ে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে তারা। অন্য সংগঠনগুলিকেও শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বুধবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে লাগাতার কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছেন সৃজন ভট্টাচার্য, ঐশী ঘোষেরা।
শুক্রবারই কলকাতায় সমস্ত বাম ছাত্র সংগঠনের ডাকে মিছিলও হবে। শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার অভিমুখে যাবে সেই মিছিল। আরজি কর পর্বে ২০২৪ সালের ১৪ অগস্ট রাতদখলের কর্মসূচি সারা দেশে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই আদলেই ২৪ জুলাই রাত জাগারও ডাক দিয়েছে এসএফআই। যে কর্মসূচির পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘রাত জাগো, দেশ জাগো’।
আরও পড়ুন:
-
‘ককরোচ’ দলের সংসদ ভবন অভিযানে আহত তরুণীর অবস্থার হঠাৎ অবনতি! স্থানান্তরিত করা হল আইসিইউ-তে
-
ছাত্রবিক্ষোভে লাঠি, কাঁদানে গ্যাস কেন? মোদীর বাসভবনের সামনে ধর্নায় রাহুলেরা, হঠাৎ হাজির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র
-
দিল্লিতে ‘জল’ গড়াচ্ছে, শাহের আবেদনও মানলেন না রাহুল, প্রিয়ঙ্কারা! চার দাবিতে মোদীর বাংলোর সামনে রাতভর ধর্না?
২৫ এবং ২৬ জুলাই ‘গাঁধীগিরি’র পথে আন্দোলন করার পরিকল্পনা নিয়েছে বাম ছাত্র সংগঠনটি। ঘোষণা করা হয়েছে, আন্দলোনরত ছাত্রদের উপর পুলিশি লাঠিচার্জের প্রতিবাদে দেশ জুড়ে পুলিশকেই পাল্টা উপহার হিসেবে ‘মেলোডি চকোলেট’ খাওয়ানো হবে।
অন্য দিকে, ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযানে পুলিশের ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ নিয়ে কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চেয়েছে দিল্লি হাই কোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে এ বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে হবে। এ ছাড়া, সংশ্লিষ্ট সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, ভিডিয়োগ্রাফি এবং অন্যান্য রেকর্ড সংরক্ষণের নির্দেশও পুলিশকে দিয়েছে আদালত।
শিক্ষায় দুর্নীতি এবং নিটের প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গত ২০ জুলাই সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। দীর্ঘ দিন ধরেই এ নিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরের সামনে তারা অবস্থান বিক্ষোভ চালাচ্ছে। তাদের সমর্থন জানিয়ে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চেয়ে অনশন করছেন সোনম ওয়াংচুক। এই পরিস্থিতিতে সিজেপি-র মিছিলে পা মিলিয়েছিলেন কয়েক হাজার মানুষ, যাঁদের একটা বড় অংশই পড়ুয়া। অভিযোগ, কঠোর হাতে সেই বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করা হয়েছে।