Advertisement
E-Paper

দিল্লিতে ‘জল’ গড়াচ্ছে, শাহের আবেদনও মানলেন না রাহুল, প্রিয়ঙ্কারা! চার দাবিতে মোদীর বাংলোর সামনে রাতভর ধর্না?

রাহুল সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘আমি প্রত্যেক দেশপ্রেমিক ভারতীয়ের কাছে আবেদন জানাই— যিনি বিশ্বাস করেন যে আমাদের শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়া উচিত, প্রধানমন্ত্রী আবাসনের সামনে আমাদের ধর্নায় যোগ দিন।’’

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬ ১৮:৪১
Rahul Gandhi and Mallikarjun Kharge leads Congress protest outside PM’s residence over CJP crackdown

মোদীর বাংলোর সামনে ধর্নায় প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা এবং রাহুল গাঁধী। ছবি: পিটিআই।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লোককল্যাণ মার্গের মতো উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে অবস্থান-বিক্ষোভ না করার বার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু তা উপেক্ষা করেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের অদূরে রাহুল গাঁধী, মল্লিকার্জুন খড়্গে, প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা-সহ কংগ্রেস সাংসদেরা রাতভর ধর্নার প্রস্তুতি শুরু করেছেন বলে কংগ্রেস সূত্রে খবর। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও কংগ্রেস নেতৃত্বের ধর্নায় যোগ দিয়েছেন।

দিল্লিতে ছাত্র-যুবদের মিছিলে লাঠি, কাঁদানে গ্যাস নিয়ে ‘পুলিশি হামলা’র প্রতিবাদে মঙ্গলবার মোদীর বাংলোর সামনে ধর্নায় বসার আগে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল এক্স পোস্টে লেখেন, ‘‘শিক্ষার্থীদের উপর হামলা মানে প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের উপর হামলা। প্রধানমন্ত্রী মোদী মনে করেন যে, তিনি কোনও জবাব না দিয়েই, কোনও পরিণতির মুখোমুখি না হয়েই পার পেয়ে যাবেন — পারবেন না, এবার তো একেবারেই না। আমি প্রত্যেক দেশপ্রেমিক ভারতীয়ের কাছে আবেদন জানাই— যিনি বিশ্বাস করেন যে আমাদের শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়া উচিত, প্রধানমন্ত্রী আবাসনের সামনে আমাদের ধর্নায় যোগ দিন। ভারতের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে উপেক্ষা করা যায় না।’’

কংগ্রেস সাংসদদের পাশাপাশি দুই কংগ্রেস-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কেরলের ভিডি সতীশন এবং কর্নাটকের ডিকে শিবকুমারও মঙ্গলবার যোগ দিয়েছেন রাহুলদের ধর্না-বিক্ষোভে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর লোককল্যাণ মার্গের বাংলোর অদূরে ধর্না-বিক্ষোভ শুরু করার পরে তাঁদের সঙ্গে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ। উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের অন্তর্গত ওই এলাকা থেকে ধর্না প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান তিনি। এর পরে ধর্নাস্থল থেকে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে আবার লোককল্যাণ মার্গে ফিরে যান জিতেন্দ্র। ধর্না প্রত্যাহারের জন্য শাহের ‘আবেদনের’ কথা জানান কংগ্রেস নেতৃত্বকে।

কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘বরফ গলেনি’। সূত্রের খবর, রাহুলেরা চারটি দাবিতে রাতভর ধর্নায় বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পাশাপাশি, পুলিশি অত্যাচারের দায় স্বীকার করে মোদী সরকারের ক্ষমাপ্রার্থনা, সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি নিয়ে সংসদের বাদল অধিবেশনে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই দাবি মানার বার্তা দেয়নি মোদী সরকার।

প্রসঙ্গত, মেডিক্যাল প্রবেশিকায় (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সোমবার অশান্ত হয়েছিল দিল্লি। পুলিশের লাঠি-কাঁদানে গ্যাসের বাধা কাটিয়ে সোমবার দুপুরে সংসদ ভবনের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা। নিরাপত্তার কারণে সংসদের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সোমবার থেকেই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে। সংসদ ভবনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দলের সাংসদেরা। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যেরাও।

সিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দমনমূলক আচরণ করেছে পুলিশ। এক মাস আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি তুলে সিজেপি যন্তর মন্তরে যে আন্দোলনে নেমেছিল, তাকে গোড়ায় ধর্তব্যের মধ্যে আনেননি নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহেরা। কিন্তু ধর্নাস্থলে সোনম ওয়াংচুকের যোগদান ও টানা অনশন, জনসমর্থন এবং সরকারের বিরুদ্ধে পথে জনতার পুঞ্জীভূত ক্ষোভের উদ্‌গীরণ দেখে সমাধানসূত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডাকে। বিক্ষোভে ইতি টানতে সোমবার দফায় দফায় সিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সিজেপি-র দাবি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে তার মধ্যে রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিও। এ বার সেই আন্দোলনে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টির ‘উপস্থিতি’র জেরে বাদল অধিবেশনের গোড়াতেই পারদ চড়ল রাজনীতিতে।

সংক্ষেপে
  • দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠক করার পর সিজেপি জানায়, তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার পরেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তাদের আবেদন, এত দিন যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলছিল, তা তুলে নিন।
  • ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের চাপে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল সিজেপি।
  • ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এই ‘জয়ের’ কৃতিত্ব পুরোটাই দেশের পড়ুয়া এবং যুব সমাজকে দিচ্ছে সিজেপি। কয়েক দিনের এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ দীপকে। শত ‘চাপে’ অনড় ছিলেন দাবিতে। সেই দাবি পূরণ হতেই বাঁধভাঙা আনন্দে ফেটে পড়েন তিনি।
Priyanka Gandhi Vadra Rahul Gandhi Cockroach Janata Party Congress NEET Paper Leak Case Sonam Wangchuk

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy