সিকিমে নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ে ইতিমধ্যেই ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, উদ্ধারকাজে নেমে সুড়ঙ্গের ভিতরে আরও পাঁচ-ছ’জনের মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-র সদস্যেরা। তবে সেই দেহগুলি এখনও বাইরে বার করা সম্ভব হয়নি। সে ক্ষেত্রে মৃতের সংখ্যা ২০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে সিকিম প্রশাসন। পুলিশ সুপার (এসপি) সোনম ডি ভুটিয়া জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে পড়া ২৫ জনের মধ্যে ২০ জনই মারা গিয়েছেন।”
সোমবার সিকিমের নামচি জেলার সামারদুং এলাকার তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ধস নামে। ভিতরে আটকে পড়েন বেশ কয়েক জন শ্রমিক। ধসের জেরে সুড়ঙ্গমুখ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভিতরে থাকা শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, মিথেন গ্যাস লিক করার কারণেই এই বিপর্যয়। এই বিষাক্ত গ্যাস লিক করার পরেই সুড়ঙ্গের ভিতরে বিস্ফোরণ হয়। ধস নেমে সুড়ঙ্গমুখ বন্ধ হয়ে যায়। বিষাক্ত গ্যাসভর্তি সুড়ঙ্গে আটকে পড়েন শ্রমিক এবং ইঞ্জিনিয়াররা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে হঠাৎই বিকট শব্দ শোনা যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে ধস নেমে সুডঙ্গমুখ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এর পরেই সেখানে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস লিক হতে শুরু করে, যা উদ্ধারের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
আরও পড়ুন:
সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেমসিংহ তামাং জানিয়েছেন, কী কারণে সুড়ঙ্গের ভিতর মিথেন গ্যাস লিক করল, তা খতিয়ে দেখবে সরকারের বিশেষ কমিটি। ইতিমধ্যেই সিকিম সরকারের তরফে মৃতদের পরিবারকে চার লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। আহতদের পরিবারকে দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা কেন্দ্রের তরফে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে আহতদের।
উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এনএইচপিসি, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), সিকিম পুলিশ, দমকল-সহ বেশ কয়েকটি উদ্ধারকারী দল। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, মিথেন গ্যাস লিক করছে। ফলে সুড়ঙ্গের ভিতরে ঢোকা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে নেমে কয়েক জন উদ্ধারকারী মিথেন গ্যাসের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।