অযোধ্যার রামমন্দির থেকে ১০৫ বার প্রণামী চুরি হতে দেখা গিয়েছে সিসি ক্যামেরায়। প্রণামী চুরির ঘটনায় যাঁরা জড়িত, সকলকেই ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এমনটাই জানাল উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। শীঘ্রই এই মামলায় চার্জশিট জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে রামমন্দিরের প্রণামী চুরি সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছে। এ দিন প্রধান বিচারপতির এজলাসে মেহতা বলেন, তদন্ত প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রামমন্দিরের প্রণামী চুরির কাণ্ডে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। সলিসিটর জেনারেল বলেন, “প্রথম গ্রেফতারির দিন থেকে ৯০ দিনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৫ সেপ্টেম্বর। তার মধ্যে চার্জশিট জমা না-হলে অভিযুক্তেরা জামিন পেয়ে যেতে পারেন। আমরা দু’দিনের মধ্যে (চার্জশিট) জমা করে দেব।”
প্রধান বিচারপতির এজলাসে এ দিন সিটের একটি তদন্ত রিপোর্টের কথা উল্লেখ করেন সলিসিটর জেনারেল। ‘এনডিটিভি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিটের রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে— অযোধ্যার রামমন্দিরের সিসি ক্যামেরায় ১০৫ বার প্রণামী চুরির ঘটনা ধরা পড়েছে। তদন্তে এ পর্যন্ত কী কী বিষয় উঠে এসেছে, প্রণামী চুরির বিষয়ে কী কী তথ্যপ্রমাণ মিলেছে, তা-ও জানানো হয় আদালতকে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং অন্য তথ্যপ্রমাণ কী ভাবে বিশ্লেষণ করা হয়, সে বিষয়েও স্টেটাস রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।
আরও পড়ুন:
গত ৭ জুন প্রথম রামমন্দিরের প্রণামী চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হলে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ জানান, এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত হবে। গঠন করা হয় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। পরবর্তী সময়ে গত ২০ জুলাই বিশেষ তদন্তকারী দলে কিছুটা বদলের পরামর্শ দেয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। সেইমতো গত ২৬ জুলাই সিটের প্রধান করা হয় লখনউ রেঞ্জের ইনস্পেক্টর জেনারেল কিরণ এস-কে। তাঁর সঙ্গে সিটে রাখা হয়েছে অযোধ্যার ডিআইজি সোমেন বর্মা এবং এসএসপি গৌরব গ্রোভারকে।
বিতর্কের মাঝে রামমন্দির পরিচালন সমিতি ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্রে ট্রাস্টে’ বেশ কিছু বদল করা হয়। সম্প্রতি রামমন্দিরের ট্রাস্টে প্রথম বারের মতো সিইও নিয়োগও করা হয়েছে।