Advertisement
E-Paper

চোখাচোখি রেস্তরাঁয়, প্রথম দেখাতেই রাজীব গাঁধীর প্রেমে পড়েছিলেন! ছয় দশক পরে স্মৃতিরোমন্থন সনিয়া গাঁধীর

আগামী ১০ নভেম্বর সারা বিশ্বে প্রকাশিত হওয়ার কথা সনিয়া গাঁধীর স্মৃতিগ্রন্থ ‘বিলংগিং— আ জার্নি অফ লভ’। লেখিকার কথায়, ‘‘ভালবাসা, কর্তব্য, হারানোর বেদনা এবং নিজের জায়গা খুঁজে পাওয়ার গল্প রয়েছে।”

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৩০
Sonia Gandhi

আগামী ১০ নভেম্বর সারা বিশ্বে প্রকাশিত হওয়ার কথা সনিয়ার স্মৃতিগ্রন্থ ‘বিলংগিং— আ জার্নি অব লভ’। ছবি: সংগৃহীত।

ওই যে কথায় বলে, প্রথম দর্শনে প্রেম। তাঁদের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছিল। তাঁরা মানে রাজীব গাঁধী এবং সনিয়া গাঁধী। রেস্তরাঁয় আলাপ। সেখান থেকে প্রেম, পরিণয় এবং রাজনীতির আঙিনায় আসা। এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রথম পোস্টে সেই সমস্ত স্মৃতিরোমন্থন করলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী। কখন, কী ভাবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দেখা, কী ভাবে পরিচয় হয়েছিল, স্বল্প কথায় তুলে ধরলেন ভিডিয়োয়।

আগামী ১০ নভেম্বর সারা বিশ্বে প্রকাশিত হওয়ার কথা সনিয়ার স্মৃতিগ্রন্থ ‘বিলংগিং— আ জার্নি অব লভ’। সংক্ষেপে তার বিষয়বস্তু জানাতে সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরার মা। তিনি বলেছিলেন, ‘‘ভালবাসা, কর্তব্য, হারানোর বেদনা এবং নিজের জায়গা খুঁজে পাওয়ার গল্প এই বই।” শনিবার এক্সে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে রাজীবের সঙ্গে প্রেমের দিনগুলোর কথা তুলে ধরলেন। জানালেন, কী ভাবে এক লহমায় জীবনের গতিপথ বদলে গিয়েছিল তাঁদের।

সনিয়ার কথায়, “রাজীব আর আমি ভালবাসা, হাসি এবং স্মৃতিতে ভরা একটা পৃথিবী তৈরি করেছিলাম। আগামী ১০ নভেম্বর সেই পৃথিবী আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেব।” তিনি জানান তখনই দু’জনেই পড়ুয়া। কেমব্রিজে একটি ছোট্ট গ্রিক রেস্তরাঁয় ইউরোপীয় এবং ভারতীয় পড়ুয়াদের যাতায়াত লেগে থাকত। ইটালিয়ান খাবারের খোঁজে সেই রেস্তরাঁতে ঢুকে পড়েছিলেন তিনি। পরে জানলেন সেটি গ্রিক রেস্তরাঁ। তবে যাই হোক, সেখানেই তিনি প্রথম দেখেন রাজীবকে। সনিয়ার কথায়, ‘‘ওই রেস্তরাঁতেই রাজীবের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা। যখন ওর সঙ্গে দেখা হল, আমি প্রায় সঙ্গে সঙ্গে অনুভব করলাম, এমন একজনের সঙ্গেই তো আমি থাকতে চাই। পরে জানলাম, ও ঠিক এটাই অনুভব করেছিল।’’

সনিয়া জানান, তাঁর এবং রাজীব, দু’জনেরই এক বন্ধু ছিলেন। তাঁর মাধ্যমেই দু’জনের পরিচয়। দুই ভিন্ন দেশের দুই তরুণ-তরুণীর প্রথম সাক্ষাৎ শুভ পরিণয়ে গড়াল।

প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রী জানান, ওই সময় ইংল্যান্ডে এত রেস্তরাঁ ছিল না। যে কয়েক’টি ছিল তাতে মূলত ব্রিটিশ খাবার-দাবারই মিলত। সে দিক থেকে গ্রিক রেস্তরাঁটি জনপ্রিয় ছিল তাঁদের কাছে। রাজীবের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের কথা স্মরণ করে সনিয়া জানান, শুধু চেহারা নয়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর নম্র স্বভাবের জন্য তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিলেন। সনিয়ার কথায়, ‘‘বলা বাহুল্য ও খুব সুদর্শন ছিল। আবার ভীষণ নম্র ছিল। আচরণে সেটা প্রকাশ পেত। ওটাই আমায় সত্যিকারের স্পর্শ করেছিল। দাগ কেটেছিল মনে।”

এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করা প্রথম ভিডিয়োয় সনিয়ার বলেছেন, কেমব্রিজের বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের ঘুরে বেড়ানোর কথা। কলেজজীবনের সাদামাঠা কিছু অভিজ্ঞতা।

১৯৬৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজীব ও সনিয়ার বিয়ে হয়। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন রাজীব। ’৯১ সালে তামিলনাড়ুতে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে আততায়ীর হাতে নিহত হন তিনি। সনিয়ার জন্ম ইটালিতে। রাজীবের সূত্র ধরে তাঁর ভারতে আসা এবং এ দেশের একজন হওয়া। স্বামীর অবর্তমানে কংগ্রেসের শীর্ষ পদে তিনি-ই ছিলেন। বলা বাহুল্য ব্যক্তিগত জীবন থেকে রাজনীতির কথাও থাকবে গাঁধী-ঘরণির স্মৃতিগ্রন্থে। থাকবে তাঁর মেয়েবেলায় ইটালি এবং যৌবন থেকে ভারতকে কী ভাবে জেনেছেন। বিশেষত রাজনীতি। যে কাহিনি শুরু হয়েছিল কেমব্রিজের গ্রিক রেস্তরাঁয়।

Sonia Gandhi Rajib Gandhi

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy