প্রযুক্তি সংস্থা মেটার সঙ্গে টানাপড়েনের মাঝে ফের পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। এ বার মেটাকে তার অ্যালগরিদম নতুন করে সাজানোর জন্য বলেছে কেন্দ্রীয় বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে এমনটাই জানাচ্ছে এএনআই। বিশেষ করে ডিপফেক বা কোনও বিকৃত কনটেন্ট বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের রুখতে সুনির্দিষ্ট অ্যালগরিদম তৈরির উপরে জোর দিয়েছে কেন্দ্র। এই বিষয়গুলি মেনে চলতে কী পদক্ষেপ করছে মেটা, সে বিষয়েও একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি পোস্ট সাময়িক ভাবে সমাজমাধ্যম থেকে মুছে দেয় মেটা। সেখান থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে মেটা-কর্তাদের তলব করেছিল কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট সাময়িক ভাবে মুছে যাওয়ার জন্য কেন্দ্রের কাছে ক্ষমাও চায় তারা। এ সবের মধ্যে চলতি সপ্তাহে পর পর তিন দিন ধরে কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠক হয় মেটার আধিকারিকদের। সেখানে প্রযুক্তিগত বিভিন্ন বিষয়ও উঠে আসে। এএনআই সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক ওই বৈঠকের সময়েই মেটাকে অ্যালগরিদম ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর জন্য বলেছে কেন্দ্র।
এ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি আইন মেটা ঠিকঠাক মেনে চলছে কি না, তার উপরেও নজর রাখছে কেন্দ্র। পিটিআই সূত্রে খবর, গত বৃহস্পতিবারের বৈঠকেই সে বিষয়টি উঠে আসে। তাতে প্রযুক্তি সংস্থাও কেন্দ্রকে আশ্বাস দেয়— তারা ডিপফেক, বট বা আপত্তিকর কনটেন্টের সমস্যা দূর করতে বদ্ধপরিকর। অর্থের বিনিময়ে একপেশে তথ্যের প্রচার বা অপপ্রচার চালানো কিছু কনটেন্টের ‘বুস্ট’ (প্রচুর প্রচার পাওয়া) নিয়েও ওই বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল কেন্দ্র। সূত্রের খবর, এই ধরনের ঘটনাগুলি ঠিক ভাবে সামাল দিয়ে উঠতে না পারার জন্য কেন্দ্রের কাছে ক্ষমাও চেয়েছিল প্রযুক্তি সংস্থা।
আরও পড়ুন:
এই বিতর্কের মাঝেই এ বার মেটার পরবর্তী পরিকল্পনা কী রয়েছে, তা জানতে চাইল কেন্দ্র। এএনআই সূত্রে খবর, ‘কনটেন্ট মডারেশন’ (সমাজমাধ্যমে পোস্ট হওয়া বিষয়বস্তুর উপর নজরদারি) ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার জন্য বলা হয়েছে মেটাকে। সরকার অনুমোদিত কোনও কর্তৃপক্ষ কোনও কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার অনুরোধ করলে, তার প্রেক্ষিতে দ্রুত পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। সূত্রের খবর, শুক্রবার কেন্দ্রের আধিকারিকদের সঙ্গে মেটার বৈঠকে আপত্তিকর কনটেন্ট কী ভাবে সামাল দেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। সেখানেই ডিপফেক বা বিকৃত কনটেন্টের প্রচার আটকাতে সুনির্দিষ্ট অ্যালগরিদম তৈরি করার উপরে জোর দেন কেন্দ্রের আধিকারিকেরা।