সিট বেল্ট না-পরে দু’চাকা চালানো অপরাধ? হেলমেট না-পরে চারচাকা বা অটোরিকশা চালানোও অপরাধ? ওড়িশায় এই কারণ দেখিয়ে জরিমানা করা হয়েছে বহু চালককে, জানালেন কম্পট্রোলর অ্যান্ড অডিটর জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (সিএজি)। ২৯৮৮টি দু’চাকার নামে চালান কাটা হয়েছে সিট বেল্ট না-পরার জন্য। ৪৭৮৬টি তিন ও চারচাকা গাড়ির নামে চালান কাটা হয়েছে হেলমেট না-পরার জন্য। এখানেই শেষ নয়। রাউরকেলায় ৬০ হাজার ৫৮ মেট্রিক টন আবর্জনা ফেলার জন্য ট্রাক নয়, ব্যবহার হয়েছে দু’টি মোটরবাইক, একটি ই-রিকশা, একটি চারচাকা গাড়ি এবং এমন একটি গাড়ি যার কোনও অস্তিত্বই নেই।
ওড়িশা মোটর গাড়ি বিধি ১৯৪বি(১) ও ১৯৪(ডি) অনুযায়ী দু’চাকা চালানোর সময় হেলমেট ও চারচাকা চালানোর সময় সিট বেল্ট না-পরলে হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়।
সিএজির অডিটে বলা হয়েছে, ‘‘২০১৯-২৪ সালের বাহন ও ই-চালান সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গিয়েছে, ২৯৯৮টি মামলায় সিট বেল্ট না-পরে গাড়ি চালানোর জন্য ২৯ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা জরিমানা নেওয়া হয়েছে। অথচ সবক’টি গাড়ি দু’চাকা! ৪৭৮৬টি মামলায় হেলমেট না-পরে গাড়ি চালানোর জন্য ৪৭ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবক’টি গাড়ি তিন বা চারচাকা।’’ সংস্থাটির তরফে জানানো হয়েছে, এই গরমিল থেকে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দায়িত্বজ্ঞানের অভাব স্পষ্ট।
আরও পড়ুন:
কয়েকটি সংশোধনমূলক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে সিএজি। ভুল ই-চালানগুলি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। যে আধিকারিকেরা এই ভুল চালানগুলি কেটেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে।
এ ছাড়াও আর-একটি অদ্ভুত তথ্য উঠে এসেছে। এক কার্যনির্বাহী সংস্থার সঙ্গে ২০২২ সালে একটি চুক্তি হয়েছিল। তার ভিত্তিতে রাউরকেলার বিজু পটনায়েক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির কাছে একটি আবর্জনা ফেলার জায়গা থেকে ৬১ হাজার ১৫৬ মেট্রিক টন আবর্জনা বায়োমাইনিং করার কথা ছিল ওই সংস্থার।
‘‘এই সংস্থাকে সাত মাসে ভাউচারের মাধ্যমে ৫ লক্ষ ৮১ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল ১ লক্ষ ৬ মেট্রিক টন আবর্জনা বায়োমাইনিংয়ের জন্য। যে গাড়িতে এই আবর্জনা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে সংস্থার দাবি, পরিবহন পোর্টালের তথ্যের সঙ্গে সেই গাড়িগুলির রেজিস্ট্রেশন নম্বর মিলিয়ে দেখা হয়েছে। ৬০ হাজার ৫৮ মেট্রিক টন আবর্জনা ফেলার জন্য ব্যবহার হয়েছে দু’টি মোটরবাইক, একটি ই-রিকশা, একটি চারচাকা গাড়ি। এই পরিবহণের জন্য কার্যনির্বাহী সংস্থাটিকে ৩ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল।’’ ট্রাকের বদলে এই ছোট গাড়িগুলির সাহায্যে কী ভাবে আবর্জনা সরানো হল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিএজি।
জেলা খনিজ ফাউন্ডেশন (ডিএমএফ) তহবিল স্কিমের নামে অপ্রয়োজনীয় খরচ করা হচ্ছে বলেও সিএজির অভিযোগ। ভারতের সবক’টি রাজ্যের মধ্যে কেন্দুঝর ডিএমএফের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি টাকা পেয়ে থাকে। অডিটে ধরা পড়েছে ডিএমএফের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের অনুমতি ছাড়াই কেন্দুঝর ডিএমএফ ৬ কোটি ৬ লক্ষ্য টাকা সরিয়ে নেয়। এই টাকা দেওয়া হয়েছিল ৫ জন ছাত্রকে। এঁদের অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেশনাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (মাইনিং) স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করার জন্য বাছাই করা হয়েছিল।
এই অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের উপকারে লাগবে এমন শিক্ষার পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিবর্তে মুষ্টিমেয় কিছু শিক্ষার্থীর বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বিষয়ে সিএজি আপত্তি জানালে রাজ্য সরকার দাবি করে যে, স্থানীয় যুবসমাজের ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যেই সদিচ্ছা নিয়ে এই ব্যয় করা হয়েছিল। তবে ওই পাঁচজন শিক্ষার্থী যে সরাসরি ওই অঞ্চলের গ্রামগুলিরই বাসিন্দা, তা নিশ্চিত করা হয়নি।