আম আদমি পার্টি (আপ) সরকারের জমানায় নীতিপঙ্গুত্ব, প্রশাসনিক স্থবিরতা এবং মাদক সমস্যায় জর্জরিত পঞ্জাব। বুধবার বিজেপির ‘নেশামুক্ত পঞ্জাব যাত্রা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই অভিযোগ করেছেন। সেই সঙ্গে মোগায় আয়োজিত জনসভায় কার্যত আসন্ন বিধানসভা ভোটের প্রচারের সূচনা করে পঞ্জাবে সরকার পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন তিনি।
পঞ্জাব বিজেপির প্রথম সারির নেতা-নেত্রীদের প্রায় সকলেই বুধবার শাহের সভায় হাজির ছিলেন। ব্যতিক্রম, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিংহ। ঘটনাচক্রে, তাঁর বিজেপি ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে জল্পনা চলছে গত মাসখানেক ধরে। গত সপ্তাহে সেই জল্পনা উস্কে দিয়ে অমরিন্দর সিংহ ‘ইন্ডিয়া টুডে’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন— ‘‘আমি গত ৬০ বছর ধরে পঞ্জাবে রাজনীতি করছি। কিন্তু বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি নেতৃত্ব আমার কোনও মতামত নেওয়ারই প্রয়োজন মনে করেন না।’’ তবে বুধবার অমরিন্দরের ঘনিষ্ঠ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, হাঁটুতে অপারেশনের কারণে তিনি শয্যাশায়ী। তাই শাহের সভায় যোগ দিতে পারেননি।
পঞ্জাব কংগ্রেসে অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে মুখ্যমন্ত্রিত্ব থেকে অমরিন্দরকে সরিয়েছিল দলের শীর্ষনেতৃত্ব। এর পর সে বছরেরই নভেম্বরে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধীকে সাত পাতার চিঠি লিখে দল ছাড়ার ঘোষণা করেন তিনি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পঞ্জাবের বিধানসভা ভোটের আগের নয়া দল ‘পঞ্জাব লোক কংগ্রেস’ গড়ে বিজেপির সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছিলেন অমরিন্দর। কিন্তু বিধানসভা ভোটে একটি আসনেও জিততে পারেনি তাঁর দল। এমনকি, পটীয়ালার রাজ পরিবারের সন্তান তাঁর পুরনো আসনে হেরে গিয়েছিলেন। তবে সেই ভোটে আম আদমি পার্টি (আপ)-এর কাছে হেরে পঞ্জাবের ক্ষমতা খুইয়েছিল কংগ্রেসও। ২০২২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন অমরিন্দর।
আরও পড়ুন:
অমরিন্দর গরহাজির থাকলেও তাঁর স্ত্রী তথা প্রাক্তন লোকসভা সাংসদ প্রীণিত কউর বুধবার শাহের সভায় হাজির ছিলেন। তবে এ ক্ষেত্রে অতীতের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। অমরিন্দর ২০২১ সালের নভেম্বরে দল ছাড়লেও প্রীণিত ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি দলবিরোধী কার্যকলাপে সাসপেন্ড হওয়ার আগে পর্যন্ত কংগ্রেসেই ছিলেন। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে বিজেপিতে যোগ দিয়ে লোকসভায় প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু জিততে পারেননি। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মণিপুর, গোয়ার সঙ্গে পঞ্জাবেও বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। সেখানে বিজেপির কয়েক জন নেতানেত্রী ফের কংগ্রেসে ফিরতে পারেন বলে জল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী জানিয়েছিলেন, ‘আঙ্কল’ অমরিন্দর তাঁর প্রিয় বিজেপি নেতা! সম্প্রতি কংগ্রেস হাইকমান্ড বিভিন্ন রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত এআইসিসি সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে বেশ কিছু রদবদল করেছে। পঞ্জাবের ভার দেওয়া হয়েছে রাজস্থানের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী সচিন পাইলটকে। কংগ্রেসে থাকাকালীন অমরিন্দরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল সচিনের।