Advertisement
E-Paper

দু’দশক পরে ইরাক থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করছে আমেরিকা! ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের আগে নতুন কৌশল?

ইরানের নেতৃত্বাধীন অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স-এর সদস্য দুই জঙ্গিগোষ্ঠী ইরাকের মাটিতে মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলিতে হামলা চালাতে পারে বলে সম্প্রতি কয়েকটি রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৪৭
US forces to exit Iraq after two decades, leaving a space for Iran

ইরাকে মার্কিন সেনা। ছবি: সংগৃহীত।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আবহেই ইরাক থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল আমেরিকা। ইরানের প্রতিবেশী দেশে দু’দশকেরও বেশি সময় পরে থাকবে না আর কোনও মার্কিন সেনাঘাঁটি। ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জমানায় ওয়াশিংটন সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত চুক্তি করেছিল বাগদাদের সঙ্গে। সেই চুক্তিরই এ বার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার জানিয়েছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত প্রতিবেদন জানাচ্ছে, মার্কিন বাহিনী বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে ইরাকের শেষ ঘাঁটিগুলি থেকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর বার্তা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ইরাক থেকে পেন্টাগনের সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত তেহরানের কৌশলগত অবস্থান মজবুত করবে বলেই সামরিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন। ঘটনাচক্রে, ইরাকে সক্রিয় ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘পপুলার মোবিলাইজ়েশন ফোর্স’ (এমপিএফ) এবং ইরান ফৌজের এলিট বাহিনী ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড’-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গঠিত কাতেইব হিজ়বুল্লা আগামী দিনে পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালাতে পারে বলে সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদে দাবি করা হয়েছিল। দু’টি সংগঠনই ইরাক-কেন্দ্রিক। ইরান-ইরাক সীমান্তবর্তী এলাকায় এমপিএফ যথেষ্ট সক্রিয়।

ইরানের নেতৃত্বাধীন ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ (অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স)-এর সদস্য ওই দুই জঙ্গিগোষ্ঠী ইরাকের মাটিতে মসুল, কিরকুক, বডরা বা নাসিরিয়ার মতো মার্কিন সেনাঘাঁটিতে তারা হামলা চালাতে পারে বলে সম্প্রতি কয়েকটি রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। ইরাকি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মার্কিন সেনা চলে গেলে ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। আরও সক্রিয় হতে পারে ইরানপন্থী শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি। ‘ইরাকি ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’-এর কমান্ডার আবু মোজতবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ বলে দাবি করেছেন মঙ্গলবার। প্রসঙ্গত, সাদ্দাম হুসেন সরকারের পতন ঘটাতে ২০০৩ সালের মার্চ মাসে ‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’ শুরু করেছিল পেন্টাগন। সেই সময় থেকেই ইরাকের মাটিতে তাদের উপস্থিতি ছিল। এর পর ধারাবাহিক ভাবে ইরাকে আল কায়েদা, আইএস এবং ইরানপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হয়েছে মার্কিন বাহিনীকে। দু’দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতপর্বে প্রায় ৪,৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
US forces Iraq Iran US Army US-Iran Conflict

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy