Advertisement
E-Paper

হরমুজ়ে বোমা ছোড়ার মুখে ইরানের রকেট লঞ্চার উড়িয়ে দিল আমেরিকা! প্রতিবাদে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা

আমেরিকা শেষ বার ইরানে সরাসরি হামলা চালিয়েছিল জুলাই মাসে। এক মাসেরও বেশি সময় পরে ফের মার্কিন বাহিনী সক্রিয় হল। হামলা-পাল্টা হামলায় উত্তেজনার পারদ চড়ছে পশ্চিম এশিয়ায়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩১ অগস্ট ২০২৬ ০৯:৪৯
ইরানের দ্বীপের রকেট লঞ্চারে হামলা আমেরিকার বাহিনীর।

ইরানের দ্বীপের রকেট লঞ্চারে হামলা আমেরিকার বাহিনীর। —ফাইল চিত্র।

আমেরিকা এবং ইরানের দ্বৈরথে ফের উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। সোমবার ভোরে হরমুজ় প্রণালীর কাছে ইরানের লারাক দ্বীপে আমেরিকা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ। তার জবাবে ইরান পাল্টা নিশানা করেছে পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে। জর্ডনের দু’টি মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।

আমেরিকা শেষ বার ইরানে সরাসরি হামলা চালিয়েছিল জুলাই মাসে। প্রায় এক মাস পরে ফের মার্কিন বাহিনী সক্রিয় হল। অভিযোগ, লারাক দ্বীপ থেকে হরমুজ় লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইরান। রকেট লঞ্চারে বসানো হচ্ছিল ‘মাইন’ (সমুদ্রবোমা)। ইরানের সামরিক বাহিনীর এই তোড়জোড় দেখার পর আর দেরি করেনি মার্কিন সেনা। তারা লারাক দ্বীপে সরাসরি সেই রকেট লঞ্চারগুলি নিশানা করেই হামলা চালিয়েছে। দু’টি লঞ্চার উড়ে গিয়েছে। ইরানের দাবি, আমেরিকার এই হামলায় অনেক সাধারণ নাগরিক এবং ইরানি যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। অনেকে গুরুতর জখম হয়েছেন। মার্কিন আগ্রাসনের বদলা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিল তেহরান।

ইরানের পাল্টা দাবি, সোমবার ভোরেই জর্ডনের কিং হুসেন এবং আল আজ়রাক মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরানের বাহিনী। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আগ্রাসনের শাস্তি’। এর প্রভাবে জর্ডনে অবস্থিত আমেরিকার প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, দাবি তেহরানের। পরে রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘হরমুজ় প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করার জন্য শত্রুপক্ষ যে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে, আগ্রাসন বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তার সমাধান সম্ভব নয়। প্রত্যেক হামলার বদলে পাল্টা আরও তীব্র হামলা হবে।’’

গত ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন। তার পর থেকেই আমেরিকা-ইরানের সংঘাত ক্রমে তীব্র হয়েছে। ইরানকে কোনও ভাবে পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হতে দেওয়া যাবে না, জানিয়ে দিয়েছে আমেরিকা। সেই লক্ষ্যে পর পর হামলা চালানো হয়েছে হরমুজ়ের ধারের দেশটিতে। কূটনৈতিক স্তরেও এই সংঘাত থামানোর চেষ্টা চলছে। তবে আলোচনার টেবিলে এখনও কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। উল্টে আমেরিকার আগ্রাসনের জবাব দিতে পশ্চিম এশিয়ার একের পর এক দেশকে নিশানা করেছে তেহরান। নতুন সংঘর্ষ সেই বিদ্বেষের মাত্রাই আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করা হচ্ছে।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
Strait of Hormuz US Iran Conflict Rocket Launcher Jordan

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy