Advertisement
E-Paper

খার্গ দ্বীপে ইরানের তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা? দাবি-পাল্টা দাবির মাঝে চুপ তেহরান-ওয়াশিংটন

খার্গ দ্বীপের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ। ইরানের জ্বালানি অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রকে ঘিরে নতুন করে তীব্র হচ্ছে ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাত।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৩৭
খার্গ দ্বীপ, ইরান।

খার্গ দ্বীপ, ইরান। ফাইল চিত্র।

ফের উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষ পৌঁছে গিয়েছে অর্থনৈতিক ভাবে বিপজ্জনক বাঁকে। ইরানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, শনিবার সে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে একটি তেলবাহী জাহাজ। এই খার্গ দ্বীপ দিয়েই ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রফতানি হয়। দীর্ঘ দিন ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিশানায় ছিল এই দ্বীপ। এমনকি গত সপ্তাহে ট্রাম্প দু’টি এআই নির্মিত ভিডিয়ো পোস্ট করেন, যেখানে দেখা গিয়েছিল আগুনে পুড়ছে দ্বীপটি।

ইরানের ‘স্টুডেন্ট নিউজ় নেটওয়ার্ক’-এর দাবি শনিবার খার্গ দ্বীপের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ে ইরানের একটি তেলবাহী জাহাজ।

এর আগে সে দেশের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্সের দাবি ছিল, দ্বীপ ঘিরে সমুদ্রের জলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। যদিও দ্বীপে উপস্থিত এক সংবাদকর্মীর কথায়, তার পরে কোনও ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়নি। ফলে গোটা ঘটনা এখনও অস্পষ্ট। তেলবাহী জাহাজে হামলা কিংবা দ্বীপের নিকটবর্তী বিস্ফোরণের দাবি— কোনওটিই সরকারি ভাবে নিশ্চিত করেনি ইরান প্রশাসন।

পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশে অবস্থিত এই খার্গ দ্বীপ আসলে ইরানের জ্বালানি-অর্থনীতির মূল স্তম্ভ। ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত হয় এখানেই। ছোট কিন্তু ঘনবসতিপূর্ণ এই শিল্পাঞ্চলে বাস করেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ, যাঁদের অধিকাংশই জ্বালানি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি এই দ্বীপেই রয়ে‌ছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিকাঠামো কেন্দ্র। এখানে ক্ষয়ক্ষতি হলে সরাসরি ধাক্কা লাগবে অশোধিত জ্বালানি রফতানিতে, ফলে বিশ্বের জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হবে।

গত সোমবার হরমুজ় প্রণালীর কাছে ইরানি বাহিনী ও তাদের রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে ফের হামলা শুরু করে আমেরিকা। অতীতে খার্গ দ্বীপ দখল কিংবা একেবারে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প, যদিও বাস্তবে খুব বড় মাপের কোনও হামলা এখনও হয়নি। কথা ও বাস্তবের মধ্যে এই পার্থক্যের কারণেই খার্গ দ্বীপে সত্যিই কোনও হামলা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তাদের দাবি, হরমুজ়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর ও মার্কিন সেনা কর্মীদের উপরে হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল ইরানের বাহিনী (আইআরজিসি)। তারই জবাবে এই পাল্টা হামলা। পাল্টা পুরো অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় তেহরানও।

মঙ্গলবার হরমুজ় প্রণালীর কাছেই হরমোজ়গান প্রদেশের উপকূলবর্তী ছোট্ট শহর কুহেস্তকে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে আছড়ে পড়ে ক্ষেপণাস্ত্র। প্রাণ হারান পাঁচ জন, আহত হন ৬০ জনেরও বেশি।

বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়ান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। উল্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন ইরানি সরকারি সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই। জানান এই দাবি নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে তাঁর। তিনি বলেন, ‘‘সংঘাতে সাধারণ মানুষকে ইচ্ছাকৃত ভাবে নিশানা করে না আমেরিকা, তবে যুদ্ধে মাঝে মাঝে এমন ভুলভ্রান্তি ঘটেই থাকে।’’

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
Iran USA Strait of Hormuz

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy