পঞ্জাবের লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটিতে এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা অস্বীকার করে ভিডিয়ো রেকর্ড করেছিলেন তিন ছাত্রী। নির্যাতিতা যে হস্টেলে থাকেন, তাঁরাও সেখানকারই আবাসিক। তাঁরা দাবি করেছিলেন, তাঁদের হস্টেলে এমন কোনও ঘটনাই ঘটেনি। ওই ভিডিয়ো দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রবিক্ষোভ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ‘ইউ-টার্ন’ নিয়ে ফেললেন ওই তিন ছাত্রী। দাবি, তাঁদের দিয়ে ওই বয়ান রেকর্ড করিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের না-জানিয়েই পরে তা ব্যবহার করা হয়েছে। তিন ছাত্রীর নতুন বয়ানে অস্বস্তিতে পড়েছেন কর্তৃপক্ষ।
বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের অভিযোগ, গণধর্ষণের পর অভিযুক্তদের কারও শাস্তি হবে না ধরে নিয়েই নির্যাতিতা বাড়ি চলে গিয়েছেন। শনিবার রাত থেকে ক্যাম্পাসে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হয়। রবিবার জাতীয় সড়ক অবরোধও করেছিলেন পড়ুয়ারা। হট্টগোলের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিকা গুলাতি একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেন। নির্যাতিতা তিন নম্বর হস্টেলের ৫০৪ নম্বর ঘরে থাকতেন। ভিডিয়োতে তিন ছাত্রী দাবি করেন, তাঁরা গত দু’মাস ধরে ওই ঘরে থাকেন এবং সেখানে গণধর্ষণের মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ বা বিক্ষোভকারীরা তাঁদের যেন বিরক্ত না করেন, সেই অনুরোধও ভিডিয়োতে করতে শোনা গিয়েছিল ছাত্রীদের।
আরও পড়ুন:
-
পর পর দু’দিন গাড়িতে হামলা! কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ কুণাল ঘোষ, তবে দ্রুত শুনানি হবে না, জানালেন বিচারপতি
-
শেষ মুহূর্তে কেন স্থগিত ব্যাঙ্ক ধর্মঘট? রাতের বৈঠকে কী কী সমঝোতা হল? প্রতি শনিবার ব্যাঙ্ক বন্ধের দাবি মানা হবে কি
-
কারও শাস্তি হবে না ভেবে বাড়ি চলে গিয়েছেন নির্যাতিতা ছাত্রী? ‘গণধর্ষণ’ নিয়ে উত্তাল পঞ্জাবের বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লাস বন্ধ ১০ দিন
এই ভিডিয়ো দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রবিবার দাবি করেন, অভিযোগ ভুয়ো। প্রতিষ্ঠানের নাম কলঙ্কিত করার জন্য চক্রান্ত চলছে। যদিও বিক্ষোভ তাতে থামেনি। কয়েক ঘণ্টা পরে পৃথক ভিডিয়ো প্রকাশ করেন ওই তিন ছাত্রী। জানান, ভিডিয়োতে ওই সমস্ত কথা বলতে বলা হয়েছিল তাঁদের। ছাত্রীদের বক্তব্য, ‘‘আমাদের বলতে বলা হয়েছিল, ছাত্রছাত্রীরা আমাদের বিরক্ত করছেন। আমাদের পুরো বক্তব্য প্রকাশও করা হয়নি। কেটে দেওয়া হয়েছে। ওটা যে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া হবে, আমরা তা জানতাম না। আমাদের অনুমতি নেওয়া হয়নি। এখন অযথা আমাদের হেনস্থা হতে হচ্ছে। এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনও যোগ নেই।’’ তিন ছাত্রীর নতুন বয়ান নিয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও কিছু বলেননি।
ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পঞ্জাবের পুলিশ ইতিমধ্যে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে। এফআইআর রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে ক্যাম্পাসের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। অভিযুক্ত কে বার কারা, এখনও স্পষ্ট নয়। গোটা ঘটনায় পঞ্জাবের ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা রয়েছে। সোমবার থেকে ১০ দিনের জন্য সেখানে পঠনপাঠন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে মিড-টার্মের পরীক্ষাও।