আরামদায়ক পরিবেশ তো দূর অস্ত, জীবনযাপনের ন্যূনতম স্বাচ্ছন্দ্যও মেলে না। দিল্লির মেসবাড়িগুলিতে একরকম ‘বন্দিদশায়’ দিন কাটান ভবিষ্যৎ গড়তে আসা পড়ুয়ারা! সত্য নিকেতনে মেসবাড়ি ভেঙে পড়ে সাত জনের মৃত্যুর পর পড়ুয়াদের করুণ দশাই বার বার উঠে আসছে শিরোনামে। শুধু তা-ই নয়, পড়ুয়াদের সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাসে মাসে হাজার হাজার টাকা ভাড়া গুনেও নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য থেকে বঞ্চিত পড়ুয়ারা।
দিল্লির বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে রয়েছে ‘কোচিং সেন্টার’। ইঞ্জিনিয়ারিং, আইএএস, আইপিএস বা ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে পড়ুয়ারা এসে ভিড় করেন রাজধানীতে। পাশাপাশি রয়েছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। সেখানকার পড়ুয়াদের একটা অংশ মাথা গোঁজার জন্য খোঁজেন হস্টেল বা মেসবা়ড়ি। আর সেই চাহিদা মেটাতেই দিল্লির মুখার্জি নগর, সত্য নিকেতন, পুরনো রাজেন্দ্র নগর বা চাণক্যপুরীর মতো জায়গা গজিয়ে ‘ঘুপচি ঘুপচি’ আস্তানা!
এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে করোলবাগ এলাকার এক ‘পেয়িং গেস্ট’ আবাসনের ‘ভয়াবহ’ ছবি তুলে ধরেছেন। ওই আবাসনের গা-ঘেঁসেই দাঁড়িয়ে একটি ল্যাম্পপোস্ট। তাতে বৈদ্যুতিক তারের জটলা। কখনও শর্ট সার্কিট হলে মুহূর্তে বড়সড় অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা রয়েছে। ওই আবাসনের ভিতরের অবস্থা আরও খারাপ। সরু সিঁড়ি। তার প্রায় সব ক’টাই ভাঙা। ঘরগুলো ছোট ছোট। সেখানে পর পর বিছানা পাতা। তার মধ্যেই অস্থায়ী ‘রান্নাঘর’। আর মেসবাড়ির শৌচাগার শেষ কবে পরিষ্কার হয়েছে, তা মনে করতে পারছেন না আবাসিকেরাই!
আরও পড়ুন:
ওই আবাসনের এক আবাসিক বিকাশ মিশ্রের কথায়, ‘‘এখানে বিশুদ্ধ পানীয় জল নেই।’’ চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে এসেছেন তিনি। স্থানীয় এক কোচিং সেন্টারে পড়েন। বিকাশ বলেন, ‘‘আমাদের এখানে থাকাটা জেলে থাকার মতো।’’ প্রতিবাদ বা অভাব-অভিযোগ কানে তোলেন না মালিক। সেই সঙ্গে আছে দালালদের ‘উপদ্রব’ও। মোটা টাকা ভাড়া দিয়েও ঠিকঠাক পরিষেবা না-পাওয়ার অভিযোগ অন্য আবাসিকদেরও।
বেহাল পরিষেবার দিকে নজর নেই সরকারেরও— অভিযোগ, ওই এলাকার আর এক আবাসনের বাসিন্দা সাক্ষী সিংহের। তাঁর কথায়, ‘‘সরকারের লোক আসেন। রাস্তাটা ঘুরে চলে যান।’’ সাক্ষীর দাবি, ‘‘শুধু রাস্তা দেখলে হয় না। বাড়ির ভিতরগুলির অবস্থাও দেখা উচিত সরকারের।’’ শুধু কারোলবাগ নয়, এমন অবস্থা দিল্লির অনেক জায়গাতেই।