অযোধ্যার রামমন্দির পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’ এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। রামমন্দিরে প্রণামী চুরির অভিযোগে সিবিআই তদন্ত চেয়ে দেশের শীর্ষ আদালতে একগুচ্ছ মামলা হয়েছিল। সোমবার সেই সব মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ নোটিস জারির কথা জানায়। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কিত একটি রিপোর্ট বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-কে আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবারের শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে জানান, তদন্ত কতটা এগিয়েছে, সেই সম্পর্কিত রিপোর্ট মুখবন্ধ খামে সুপ্রিম কোর্টে দেবে সিট। আবার পরের সোমবার অর্থাৎ ২০ জুলাই এই মামলার শুনানি হবে।
গত ৭ জুন প্রথম রামমন্দিরের প্রণামী চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হলে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ জানান, এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত হবে। গঠন করা হয় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিটের নেতৃত্বে রয়েছেন লখনউয়ের ডিভিশনাল কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্থ। গত ২৩ জুন সিট তাদের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয় উত্তরপ্রদেশের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব সঞ্জয় প্রসাদের হাতে। তবে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়েনি।
আরও পড়ুন:
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গত দু’বছরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামীর কয়েক কোটি টাকা লুট হয়েছে। রামমন্দিরের কর্মচারী (সেবাদার), এমনকি মন্দিরের ‘ট্রাস্টের সদস্য ও পদাধিকারীদের একাংশও এতে জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা সিটের। ধৃতেরা সকলেই দানের টাকা গোনার কাজে যুক্ত ছিলেন। সেই ঘটনা নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দেন চম্পত রায়। সেই সঙ্গে তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সদস্য (ট্রাস্টি) অনিল মিশ্রও পদত্যাগ করেন। ঘটনাচক্রে, ধৃতদের একাংশের সঙ্গে দু’জনেরই ‘যোগাযোগ’ সম্পর্কিত তথ্য মিলেছে।
রামমন্দিরে প্রণামী চুরির অভিযোগের তদন্তে সিটের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অনেকে। আলাদা আলাদা মামলা দায়ের হয়। আবেদনকারীদের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে এই ঘটনার তদন্ত করুক সিবিআই। সোমবার সেই মামলা শোনেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহন।