E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

মহিলা সাংবাদিকদের হেনস্থা, শীর্ষ কোর্ট ব্যাখ্যা চায় পুলিশের

গত রবিবার সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, বিক্ষোভ-আন্দোলনের সময়ে সাংবাদিকদের মতো পেশাদারদের কাজে বাধা না দেওয়া হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:২৮
ককরোচ জনতা পার্টির এক বিক্ষোভকারীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ককরোচ জনতা পার্টির এক বিক্ষোভকারীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছবি: পিটিআই।

যন্তর মন্তর আন্দোলনের সময়ে মহিলা সাংবাদিকদের যৌন হেনস্থার অভিযোগে দিল্লি পুলিশের কোনও উচ্চপদস্থ কর্তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। এসআইআরের বিরুদ্ধে গত ৩ অক্টোবরের আন্দোলনের সময়ে প্রথমে তিন মহিলা সাংবাদিক পুলিশের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন। এর পর ১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে যন্তর মন্তরে আন্দোলনের সময়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে হিন্দু রক্ষা বাহিনী নামক সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধেও মহিলা সাংবাদিকদের মারধর ও যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। ‘নেটওয়ার্ক অব উইমেন ইন মিডিয়া’ সংগঠনের তরফে দায়ের করা এই মামলায় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেছেন, ‘‘আমরা চাইব, কোনও উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসার আদালতে এসে এর ব্যাখ্যা দিন।’’

গত রবিবার সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, বিক্ষোভ-আন্দোলনের সময়ে সাংবাদিকদের মতো পেশাদারদের কাজে বাধা না দেওয়া হয়। এই নির্দেশের পরেও সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে আদালত অবমাননার মামলা করেছেন সাংবাদিক আমন রাস্তোগি। রাস্তোগির অভিযোগ, সাংবাদিকের পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁকে দিল্লি পুলিশ আটক করেছিল। যন্তর মন্তর আন্দোলনের সময়ে সাংবাদিকদের আটক, হেনস্থা নিয়ে দিল্লিতে প্রেস ক্লাবের তরফে মিছিল হয়েছে। আইনজীবীদের ধরপাকড় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে প্রতিবাদ জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন সংক্রান্ত যাবতীয় মামলার মঙ্গলবারই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে শুনানি হওয়ারকথা ছিল। কিন্তু ওই বেঞ্চের বিচারপতি ভি মোহনা অসুস্থ বলে প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার শুনানি হবে।

মোদী সরকারের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইনের (২০২৩) ১৬ নম্বর ধারায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনারদের পদে থাকাকালীন যে কোনও কাজের ক্ষেত্রে কর্মরত অবস্থায় এমনকি অবসরের পরেও রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে। তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে নতুন মামলা করেছে এডিআর (অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস)। সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় আজ কেন্দ্রীয় সরকার, নির্বাচন কমিশনকে নোটিস জারি করেছে।

রাহুল গান্ধী-সহ ১১ জন বিরোধী দলের নেতানেত্রী এসআইআর ও জ্ঞানেশ কুমারের কাজের পন্থা নিয়ে অভিযোগ তুলে সোমবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। সেই পিটিশনে যে সব প্রক্রিয়াগত ত্রুটি রয়েছে, তা সংশোধন করা হয়েছে। আরও দুই বিরোধী দল, ভিসিকে, ন্যাশনাল কনফারেন্সের তরফেও মামলা দায়ের হয়েছে। সোমবার বিরোধী নেতারা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রিতে গিয়ে ভিড় করে মামলা দায়ের করেছিলেন। তা নিয়ে নালিশ জানিয়ে বিজেপি নেতা ও আইনজীবী গৌরব ভাটিয়া সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন।

বিজেপি অভিযোগ তুলেছে, সুপ্রিম কোর্টের সামনে রাহুল গান্ধী এক মহিলা সাংবাদিককে ধাক্কা মেরেছেন। অন্তঃসত্ত্বা ওই মহিলা পড়ে গিয়ে আহত হন। রিচা পরাশর নামে ওই সাংবাদিকেরও অভিযোগ, রাহুলের ধাক্কায় তিনি পড়ে যান। বিজেপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করান। কংগ্রেসের দাবি, সবটাই বানানো। ভিডিয়োয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, ভিড়ের মধ্যে ওই মহিলার সঙ্গে থাকা আলোকচিত্রীই তাঁকে ধাক্কা দেন। ওই আলোকচিত্রী রাহুলের সামনে চলে গিয়েছিলেন বলে তাঁকে সরানো হয়েছিল। কেন তিনি চোট পেয়ে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন, কেন বিজেপি নেতার ক্লিনিকেই ভর্তি হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস।

সংক্ষেপে
  • মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে শনিবার কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি।
  • সিজেপির কর্মসূচিকে মাথায় রেখে শুক্রবার রাত থেকেই ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ।
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Supreme Court of India

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy