Advertisement
E-Paper

‘বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মননকুমার মিশ্রের মেয়াদ অস্থায়ী’, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাপে পড়লেন বিজেপি সাংসদ

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বলা হয়েছে, বিসিআই-এর চেয়ারম্যান পদে মননের আসীন থাকা ‘প্রোটেম’ (অন্তর্বর্তিকালীন) ব্যবস্থা। নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে বিসিআই পুনর্গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি কেবল দৈনন্দিন কাজ পরিচালনার জন্যই এই পদে থাকবেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:২১
Supreme Court says, BCI Chairperson Manan Mishra only pro tem until lawyers’ body elects new office-bearers

(বাঁ দিকে) বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান মননকুমার মিশ্র। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার (বিসিআই) চেয়ারম্যান পদে বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ মননকুমার মিশ্র ‘অস্থায়ী’ ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছে, বিসিআই-এর চেয়ারম্যান হিসাবে মননের মেয়াদ ২০৩০ পর্যন্ত নয়।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বলা হয়েছে, বিসিআই-এর চেয়ারম্যান পদে মননের আসীন থাকা ‘প্রোটেম’ (অন্তর্বর্তিকালীন) ব্যবস্থা। নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে বিসিআই পুনর্গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি কেবল দৈনন্দিন কাজ পরিচালনার জন্যই এই পদে থাকবেন। প্রসঙ্গত, বিসিআই-এর নিয়ম অনুযায়ী চেয়ারম্যানের কার্যকাল সর্বোচ্চ দুই বছর হলেও বিজেপি সাংসদ মনন ২০১২ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় রয়েছেন। যদিও তাঁর নিজের দাবি, তিনি নির্বাচিত হয়েই ১৪ বছর ধরে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

গত মাসে মননের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বজনপোষণ-সহ একগুচ্ছ অভিযোগ এনে ১৫ দিনের মধ্যে তাঁর পদত্যাগের দাবি তুলে চিঠি দিয়েছিলেন বিসিআই-এর কো-চেয়ারম্যান ওয়াইআর সদাশিব রেড্ডি। পাশাপাশি, মননের অপসারণের দাবিতে এবং তাঁর মেয়াদ পাঁচ বছরের জন্য বাড়ানোর বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও আবেদন জানিয়েছিলেন কয়েক জন আইনজীবী। তার প্রেক্ষিতেই এই নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্ষ কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ। ২০২৫ সালের এপ্রিলে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিসিআই চেয়ারম্যান পদে মননের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০৩০ সাল পর্যন্ত করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, শীর্ষ আদালত সেটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সম্প্রতি হায়দরাবাদের ‘নালসার ইউনিভার্সিটি অফ ’ল’-এর পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে বিসিআই-এর একটি পদক্ষেপ ঘিরে মননের ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে প্রধান অতিথি করার বিরোধিতা করেছিলেন সেখানকার পড়ুয়া এবং শিক্ষকদের একাংশ। তার প্রতিক্রিয়ায় বিসিআই চেয়ারম্যান মনন ‘নালসার’-এর চলতি বছরের স্নাতকদের নাম নথিভুক্ত করা স্থগিত রাখতে বলেছিলেন। তার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন আইনশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্রবিক্ষোভ দানা বাঁধে। আপত্তি তোলেন বিশিষ্ট আইনজীবীরাও। এই পরিস্থিতিতে বেঙ্গালুরুর ‘ন্যাশনাল ল’ স্কুল অব ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি’র সমাবর্তনে মননকে আমন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়ে সেখানকার পড়ুয়া ও প্রাক্তনীদের একাংশ আপত্তি তুলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত বাতিল হয় ওই অনুষ্ঠান। অন্য দিকে, বিসিআই-এর কো-চেয়ারম্যান সদাশিব তাঁর চিঠিতে কাউন্সিলের ১৫০ কোটি টাকা একটি বেসরকারি ট্রাস্টে স্থানান্তরিত করা, আইন কলেজগুলির কাছ থেকে জোর করে অনুদান নেওয়া, নালসার সংক্রান্ত বিতর্ক এবং ১৪ বছর ধরে এক টানা চেয়ারম্যান পদে থাকা-সহ আটটি অভিযোগ তুলেছেন মননের বিরুদ্ধে। চিঠিতে রেড্ডির দাবি, বার কাউন্সিলের পুরনো অছি পরিষদকে ইচ্ছাকৃত ভাবে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। এর পর ২০২০-র ১৭ সেপ্টেম্বরে মননের পছন্দের সদস্যদের নিয়ে ‘বিসিআই ট্রাস্ট পার্ল-ফার্স্ট’ নামে একটি নতুন বেসরকারি অছি পরিষদ নথিভুক্ত করা হয়। যে সমস্ত আইন কলেজ বিসিআই-এর অনুমোদন বা তার নবীকরণের জন্য আবেদন করছে, তাদের উপর নতুন এই ট্রাস্টে বিপুল অঙ্কের ‘অনুদান’ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ এনেছেন সদাশিব।

Supreme Court of India Bar Council Of India CJI Surya Kant

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy