Advertisement
E-Paper

‘সোনম ওয়াংচুক তো আমাদের প্রশংসা করেছেন’! ককরোচ নেতা অভিজিৎ দীপকে বললেন, ‘অযথা বিতর্ক হচ্ছে’

ওই পডকাস্টের ভাইরাল ক্লিপে ওয়াংচুককে বলতে শোনা গিয়েছে যে, ভবিষ্যতে ককরোচ নেতারা কী করতে পারেন, তা তিনি জানেন না। এ প্রসঙ্গে দীপকে বলেন, ‘‘বক্তব্যের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। আমি নিজেও তো জানি না, কার ভবিষ্যতে কী রয়েছে।’’

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:৩৪

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা তথা আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে মঙ্গলবার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন যে, লাদাখের সমাজসৈনিক তথা পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক আদতে তাঁদের প্রশংসাই করেছেন। সেই সঙ্গে ককরোচ নেতার মন্তব্য, ‘‘সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ক্লিপটিতে তাঁর (ওয়াংচুক) বক্তব্যের মাত্র ১ শতাংশ তুলে ধরে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। বক্তব্যের ৯৯ শতাংশই সম্পাদনা করে বাদ দেওয়া হয়েছে।’’

সম্প্রতি একটি পডকাস্টে ওয়াংচুক বলেন, ‘‘যন্তর মন্তরের আন্দোলনের সময় সিজেপি নেতাদের বাইরে থেকে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মনে হতে পারে, কিন্তু আদতে তাঁরা মনোবল হারিয়ে ফেলছিলেন। সিজেপি-র কয়েক জন নেতা প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষ করার জন্য আমার কাছে কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করেছিলেন।’’ সেই সঙ্গে, নিট বিরোধী আন্দোলনপর্বে যন্তর মন্তরে অনশনকারী ওয়াংচুকের মন্তব্য ছিল— ‘‘সিজেপি নেতারা কেউ সাধুসন্ন্যাসী নন। তাঁরা একেবারে নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করছেন না।’’ তাঁর ইঙ্গিত ছিল, দীপকে এবং তাঁর সঙ্গী ককরোচ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাসদের ‘রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা’র দিকে।

ওই পডকাস্টের ভাইরাল ক্লিপে ওয়াংচুককে বলতে শোনা গিয়েছে যে, ভবিষ্যতে ককরোচ নেতারা কী করতে পারেন, তা তিনি জানেন না। এ প্রসঙ্গে দীপকে বলেন, ‘‘বক্তব্যের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। আমি নিজেও তো জানি না, কার ভবিষ্যতে কী রয়েছে।’’ প্রসঙ্গত, যন্তর মন্তরে টানা ৩৬ দিনের ককরোচ বাহিনীর অবস্থান-বিক্ষোভের পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পর থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণ-সহ তিন দফা দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরে পর ২৫ জুলাই আন্দোলনের ইতি টানার কথা ঘোষণা করেছিল ‘টিম দিপকে’। ২০ জুন থেকে যন্তর মন্তরে শুরু হয়েছিল ওই ককরোচ-কর্মসূচি। ২৮ জুন থেকে সেই মঞ্চেই অনশনের বসেছিলেন ওয়াংচুক। ১৮ জুলাই সেখানে থেকে তাঁকে জোর করে দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালে সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। তার পরেও অবশ্য অনশন চালিয়ে যান ওয়াংচুক। হয় হাসপাতাল বদলও।

শেষ পর্যন্ত টানা ২৬ দিন অনশনের পরে ২৩ জুলাই মধ্যরাতে গুরুগ্রামের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওয়াংচুক দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের হাতে ফলের রস খেয়ে অনশন ভেঙেছিলেন। বস্তুত, তার পর থেকেই সিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে ওয়াংচুকের দূরত্ব নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। গুরুগ্রামের হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে ২৭ জুলাই দিল্লির রাজঘাটে মহাত্মা গাঁধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন ওয়াংচুক। কিন্তু সিজেপি-র পরিচিত কোনও মুখকেই তাঁর সঙ্গে দেখা যায়নি। ছিল না উৎসাহী জনতার ভিড়ও। ৫৯ বছরের ওয়াংচুক গত শনিবার একটি পডকাস্টে যন্তর মন্তরের আন্দোলন চলাকালীন ২০ জুলাই ককরোচ বাহিনীর সংসদ ভবন অভিযান ঘিরে অশান্তির প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি দাবি করেন, পুলিশি দমন পীড়নের আন্দোলনকারীরা অনেকেই ফিরে গিয়েছিলেন। হতোদ্যোম সিজেপি নেতৃত্ব তখন আন্দোলন প্রত্যাহারের উপায় খুঁজছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘সিজেপির নেতা হাতজোড় করে আমাকে আন্দোলন থেকে বেরিয়ে আসার একটি উপায় খুঁজে বার করার অনুরোধ করেছিলেন।’’ তিনি বলেন, ‘‘ওরা চেয়েছিল, আমি কিছু পোস্ট করি। ওদের বলি যে, তোমাদের এ বার বিশ্রামের প্রয়োজন। বাড়ি যাও। যন্তর মন্তরে আর থেকো না। পরে কী করা যায় দেখব।’’

ওয়াংচুকের দাবি, এমন বার্তার খসড়াও লেখাও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি আর পোস্ট করা হয়নি। আন্দোলনের মধ্যপর্বে ককরোচ নেতৃত্বের এমন অবস্থান পরিবর্তনের জন্য ‘রাজনৈতিক মানসিকতা’কে দায়ী করেন ওয়াংচুক। পডকাস্টে তিনি বলেন, ‘‘আমি বলব, তাদের রাজনৈতিক মনোভাব এই পরিবর্তিত মানসিকতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।’’ তবে দীপকে বা তাঁর সহযোগীদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে দোষারোপ করেননি ওয়াংচুক। তিনি বলেন, ‘‘রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা খুব স্বাভাবিক। আগে কোনও রাজনৈতিক যোগাযোগ ছিল কি না, তাতে যায়-আসে না। বর্তমান এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক যোগাযোগেও সমস্যার কিছু নেই। ওঁরা কেউ সন্ন্যাসী নন যে, একেবারে নিঃস্বার্থ ভাবে এই সমস্ত করে যাবেন।’’ সিজেপি নেতাদের সদিচ্ছা এবং দক্ষতার প্রশংসা করেছেন ওয়াংচুক। জানিয়েছেন, দীপকে-রা দক্ষ এবং তাঁদের সদিচ্ছা রয়েছে। গড়পড়তার চেয়ে তাঁরা উচ্চমানের। রাজনীতির সংস্পর্শে তাঁরা যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েন? ওয়াংচুকের জবাব, ‘‘মানুষ বদলায়। আমি আশা করব ওঁরা বদলাবেন না।’’

সংক্ষেপে
  • দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠক করার পর সিজেপি জানায়, তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার পরেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তাদের আবেদন, এত দিন যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলছিল, তা তুলে নিন।
  • ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের চাপে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল সিজেপি।
  • ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এই ‘জয়ের’ কৃতিত্ব পুরোটাই দেশের পড়ুয়া এবং যুব সমাজকে দিচ্ছে সিজেপি। কয়েক দিনের এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ দীপকে। শত ‘চাপে’ অনড় ছিলেন দাবিতে। সেই দাবি পূরণ হতেই বাঁধভাঙা আনন্দে ফেটে পড়েন তিনি।
Cockroach Janta Party NEET Paper Leak Case Abhijeet Dipke Sonam Wangchuk CJP protests

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy