ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় এ বার কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারকে নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। সিবিআই তদন্তের আর্জি প্রসঙ্গে তাদের মতামত জানতে চেয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের কাছ থেকেও বক্তব্য জানতে চেয়েছে আদালত।
ঝাড়খণ্ডের সাম্প্রতিক ছাত্রবিক্ষোভ বর্তমানে স্তিমিত। পড়ুয়াদের দাবিমতো বেশ কিছু পরীক্ষা বাতিল করে সার্বিক সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হেমন্ত সোরেনের সরকার (যদিও পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তের উপরে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে ঝাড়খণ্ড হাই কোর্ট)। তবে সিবিআই তদন্তের দাবি এখনও মেনে নেয়নি তারা। এ অবস্থায় পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন হরিশরন দেবগণ নামে এক সমাজকর্মী। সোমবার মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে প্রধান বিচারপতি কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে। মামলাকারীর বক্তব্য, ওই অনিয়মের অভিযোগটি সিবিআই-কে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করানো উচিত। তদন্ত শেষ করার জন্য একটি সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া উচিত বলে আদালতে আবেদন জানান মামলাকারী।
মামলাকারীর মূল অভিযোগ, ২০২৫ সালের ‘ঝাড়খণ্ড কম্বাইন্ড সিভিল সার্ভিসেস প্রিলিমিনারি কম্পিটিটিভ এগ্জ়ামিনেশন নিয়ে। ওই পরীক্ষায় নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে বলে মনে করছেন মামলকারী। তাই অবিলম্বে আদালতের হস্তক্ষেপের আর্জি জানান তিনি। সোমবারের শুনানিতে মামলাকারীর আইনজীবী সওয়াল করেন, এই অভিযোগগুলি সিবিআই-কে দিয়ে তদন্ত করানো হোক। কিংবা সুপ্রিম কোর্টের কোনও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দিয়ে গোটা বিষয়টির অনুসন্ধান করানোর আর্জি জানান আইনজীবী। ওই মামলার প্রেক্ষিতে কেন্দ্র, ঝাড়খণ্ড সরকার এবং ঝাড়খণ্ড পিএসসি-র বক্তব্য জানতে চেয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
আরও পড়ুন:
পড়ুয়াদের লাগাতার আন্দোলনের চাপে হেমন্তের সরকার ২২টি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে যায় উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। গত সপ্তাহেই ওই সিদ্ধান্তের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয় হাই কোর্ট।