আসন পুনর্বিন্যাস বিলে এ বার কেন্দ্রকে সমর্থন দিতে পারে এনসিপি (শরদ)। সেই সম্ভাবনা উস্কে দিয়েছেন শরদ পওয়ারের কন্যা তথা সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে। সংসদে বিলটি ধাক্কা খাওয়ার পর থেকেই এনসিপি (শরদ)-এর সঙ্গে দৌত্য শুরু করে কেন্দ্র। এ বার তা আরও স্পষ্ট হল সুপ্রিয়ার বক্তব্যে।
গত এপ্রিলে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন পায়নি কেন্দ্রের আসন পুনর্বিন্যাস বিল। তার পর থেকেই খবর ছড়ায়, বিরোধী শিবিরের বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে কেন্দ্র। এনসিপি (শরদ)-র সঙ্গেও আলোচনা চলছে তাদের। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ছেড়ে শরদের দল কেন্দ্রের শাসক জোট ‘এনডিএ’-তে যোগ দিতে পারে— সম্প্রতি এমন গুঞ্জনও শুরু হয়। যদিও সুপ্রিয়ার দাবি, এমন কোনও সম্ভাবনা নেই। এনসিপি (শরদ) বিরোধী জোটের সঙ্গেই থাকবে বলে দাবি তাঁর। তবে একই সঙ্গে এ-ও বুঝিয়ে দিয়েছেন, কেন্দ্র প্রতিশ্রুতি মতো কাজ করলে আসন পুনর্বিন্যাস বিলে সমর্থন করতে পারে এনসিপি (শরদ)।
বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ শুরু থেকেই আসন পুনর্বিন্যাস বিলের বিরোধিতা করে আসছে। তাদের বক্তব্য, জনগণনার নিরিখে আসন পুনর্বিন্যাস হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির আসন ৫০ শতাংশ বাড়বে না। কারণ, দক্ষিণের রাজ্যগুলির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হিন্দি বলয়ের তুলনায় কম। ফলে লোকসভায় দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলক ভাবে কমে যাবে। বিরোধীদের আরও অভিযোগ ছিল, মোদী সরকার এমন ভাবে আসন পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে, যাতে হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলিতে ভাল ফল করলেই ২০২৯-এ ক্ষমতায় ফিরতে পারে।
এ অবস্থায় আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে অবিজেপি বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। সূত্রের খবর, সব রাজ্যেই আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্র। সেই মতো বিলে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতেও তৈরি তারা। এ অবস্থায় শরদ-কন্যার ইঙ্গিত, কেন্দ্র যদি সব রাজ্যে আসন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে সংশোধনী আনে, তাতে সমর্থন দিতে পারে এনসিপি (শরদ)।
আরও পড়ুন:
কেন্দ্রের উদ্দেশে শরদ-কন্যা বলেন, “৫০ শতাংশের শর্তটি লিখিত ভাবে দিন, তারপর আমরা আলোচনা করব।” সাংসদের বক্তব্য, সম্প্রতি এই বিলের বিষয়ে আলোচনার জন্য একটি সর্বদল বৈঠক ডেকেছিলেন সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজুজু। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সুপ্রিয়া নিজেও বৈঠকে ছিলেন। এনসিপি (শরদ) সাংসদের দাবি, ৫০ শতাংশ আসন বৃদ্ধির বিষয়টি বিলে অন্তর্ভুক্ত করার একটি প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্র। তিনি বলেন, “বিলটি এখনও আমাদের কাছে এসে পৌঁছোয়নি। বিলটি হাতে না আসা পর্যন্ত আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।”
সুপ্রিয়া জানান, বিলটি হাতে পাওয়ার পরে তাঁরা সেটি খতিয়ে দেখবেন। তার পরে এ বিষয়ে দলের মতামত জানানো হবে। সাংসদের কথায়, “শুধুমাত্র জনসংখ্যার নিরিখে আসন পুনর্বিন্যাস হলে তা দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতি অবিচার হবে।” ঘটনাচক্রে, এমন এক সময়ে সুলে এই মন্তব্য করেছেন যখন এনসিপি (শরদ)-এর শিবির বদল ঘিরে জল্পনা চলছে। যদিও এমন কোনও সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন সুপ্রিয়া। তিনি বলেন, “আমাদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গুজব রটছে। সবই সূত্রের উপর ভিত্তি করে। আমাদের দলকে বদনাম করার চেষ্টা হচ্ছে। আমাদের কোথাও যাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। আমরা ‘ইন্ডিয়া’-তেই আছি।”