দক্ষিণ আফ্রিকার সাবি স্যান্ডস গেম রিজার্ভের হেয়ারি-বেলি, গুজরাতের গির জাতীয় উদ্যানের জয়-বীরু কিংবা মধ্যপ্রদেশের বান্ধবগড় ব্যাঘ্র প্রকল্পের দাউ-বলরাম। প্রকৃতিতে বিড়াল গোত্রের পুরুষ প্রাণীদের সখ্যের বিরল উদাহরণ হিসাবে উঠে আসে ওই সিংহ এবং বাঘ জুটিদের কথা। এ বার সেই তালিকায় জুড়ে গেল আফ্রিকা থেকে কুনো জাতীয় উদ্যানে নিয়ে আসা দুই পুরুষ চিতা— কেএনজি২৩ এবং সিসিবি৪।
বেশ কয়েক মাস ধরেই ওই দুই পুরুষ চিতাকে কুনোর প্রান্তরে এক সঙ্গে ঘুরতে দেখছেন মধ্যপ্রদেশ বনবিভাগের কর্মীরা। একই সঙ্গে শিকার করতে এবং ভাগাভাগি করে খেতে দেখা গিয়েছে তাদের। সাধারণ ভাবে বিড়াল গোত্রের পুরুষেরা এলাকার দখলদারি কায়েমের বিষয়ে খুবই সচেতন। বাঘ, সিংহ, চিতাবাঘ বা চিতাদের ক্ষেত্রে বাবা-ছেলে, ভাই-ভাই সংঘাত এমনকি প্রাণহানিও স্বাভাবিক ঘটনা। হেয়ারি-বেলি বা দাউ-বলরাম জুটি এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। যদিও তারা একই বংশের প্রতিনিধি। কিন্তু কেএনজি২৩ এবং সিসিবি৪-এর বংশ পুরোপুরি আলাদা। তাদের মধ্যে জিনগত কোনও মিলও নেই।
গত বছরের মার্চ মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা নির্বা নামের একটি চিতার গর্ভে জন্ম নিয়েছিল কেএনজি২৩। তার চেয়ে সাত-আট মাসের বড় সিসিবি৪-কে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আফ্রিকারই বৎসোয়ানা থেকে কুনোয় নিয়ে আসা হয়েছিল। চলতি বছরের গোড়ায় চোট পাওয়া কেএনজি২৩-কে বনকর্মীরা চিকিৎসার প্রয়োজনে মা ও ভাই-বোনেদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে জঙ্গল থেকে ধরে এনে একটি এনক্লোজ়ারে রেখেছিলেন। পাশের এনক্লোজারেই রাখা হয়েছিল সিসিবি৪-কে। সে সময়ই তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে বলে কুনোর কয়েক জন বনকর্মী জানিয়েছেন।
কুনো জাতীয় উদ্যানের ডিরেক্টের উত্তমকুমার শর্মা বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা যেটি বিশেষ ভাবে আকর্ষণীয় তা হল, এরা দু’জন পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কহীন পুরুষ চিতা, যাদের বয়সের পার্থক্য প্রায় ছ’-সাত মাস। তবুও তারা একে অপরের সঙ্গে মিলে একটি জোট গঠন করেছে। আফ্রিকার সাভানা তৃণভূমিতে দুই পুরুষ চিতার জুটির উদাহরণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন উত্তম। কিন্তু সেগুলি প্রায় সবই দু’ভাইয়ের জোট। তাদের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা একই সঙ্গে। কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশ থেকে আসা পৃথক বংশের দুই চিতার এমন মৈত্রী নজিরবিহীন বলে জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু কেন কুনোয় এসে এ ভাবে জোট বানাল কেএনজি২৩ এবং সিসিবি৪? বন্যপ্রাণ গবেষকদের একাংশ বলছে কুনোর তৃণভূমির বাসিন্দা আর এক প্রবলতর প্রতিপক্ষ চিতাবাঘের (লেপার্ড) হাত থেকে বাঁচতেই দুই পুরুষ চিতার এমন অভিনব মৈত্রী।