প্রশ্নফাঁসরোধী বিল নিয়ে লোকসভায় কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গাঁধীর বক্তৃতার ‘শব্দচয়ন’ নিয়ে আপত্তি তুলল বিজেপি। মন্তব্যের জন্য রাহুলকে ক্ষমা চাইতে হবে, সেই দাবিও তোলেন বিজেপি সাংসদেরা। শেষপর্যন্ত রাহুলের ব্যবহার করা ‘আপত্তিকর’ কিছু শব্দ লোকসভার রেকর্ড থেকে বাদ দিতে বলেন স্পিকার ওম বিড়লা।
সংসদে বক্তৃতায় রাহুল ‘তিন শ্রেণির মানুষের’ কথা উল্লেখ করেন— পড়ুয়া, বোকা (ইডিয়ট্স) এবং অন্ধভক্ত। লোকসভার বিরোধী দলনেতার এ ধরনের শব্দ ব্যবহারে আপত্তি তোলেন এনডিএ-র সাংসদেরা। বক্তৃতার সময় রাহুল নিট আন্দোলনের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এক ১৮ বছর বয়সি পড়ুয়ার সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের কথা স্মরণ করেন। সেই পড়ুয়া তাঁকে বলেছেন, ‘‘অন্ধভক্ত হলেন এমন একজন, যিনি পুরোপুরি মেনে নেন যে, অন্য এক ইডিয়ট্ই ভগবান।’’
রাহুলের কথায়, ‘‘আমাকে ওই পড়ুয়া বলেন, একজন শিক্ষার্থী সবসময় সত্যের পিছনে ছুটতে থাকে। তার কাছে সত্যই সুন্দর। তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, তা হলে ইডিয়ট্স কারা? তখন ওই পড়ুয়া আমাকে বলেন, বোকাদের একটা প্রতিচ্ছবির প্রয়োজন। বোকারা নিজেকে ঈশ্বর হিসেবে প্রতিপন্ন করতে চান। তার পরেই আমি তাঁকে তৃতীয় শ্রেণির মানুষের কথা জিজ্ঞাসা করি। আমার কাছে তিনি জানতে চান, তৃতীয় শ্রেণির মানুষ কারা? আমি তাঁকে বলি, অন্ধভক্ত। অন্ধভক্তদের কোথায় রাখা উচিত? তখন তিনি আমায় বলেন, অন্ধভক্ত হলেন এমন একজন, যিনি বিশ্বাস করেন যে, এক জন বোকাই ঈশ্বর।’’
রাহুলের বক্তৃতার মাঝেই আপত্তি তোলেন বিজেপি সাংসদ কিরেন রিজিজু। কেন বিরোধী দলনেতাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী সাংসদেরা। তখন রিজিজু বলেন, ‘‘রাহুল গাঁধী যদি অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার না-করতেন, তবে আপত্তি তুলতাম না। আমি মনে করি, একজন পড়ুয়ার নামে তিনি অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করতে পারেন না। এটি বর্জন করা উচিত।’’ সংসদের রেকর্ড থেকে শব্দগুলি মুছে ফেলার আবেদন জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ।
আরও পড়ুন:
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও নিশানা করেন রাহুল। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র (সিজেপি) সংসদ অভিযানে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তোলেন প্রশ্ন। সরাসরি শাহকে নিশানা করে রাহুলের দাবি, ‘‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পড়ুয়াদের গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পড়ুয়াদের শরীরে ছর্রা গেঁথে দিয়েছেন।’’ তাঁর অভিযোগ, দিল্লি পুলিশকে বলপ্রয়োগের অনুমতি একমাত্র কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই দিতে পারেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, শাহ কেন সংসদে উপস্থিত নেই? ভয় পেয়েই কি আসেননি তিনি? রাহুলের এই অভিযোগেও আপত্তি তোলেন বিজেপি সাংসদেরা।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘকেও (আরএসএস) আক্রমণ করেছেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, ‘‘শিক্ষামন্ত্রী নন, আরএসএস-ই শিক্ষা মন্ত্রক চালায়।’’ রাহুলের দাবি, ‘‘আরএসএস শিক্ষার্থীদের জ্ঞান এবং সত্যের সন্ধানে বাধা দিচ্ছে। পড়ুয়াদের উপর তাদের মনগড়া ইতিহাস চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’’ তার পরেই রাহুল দাবি করেন, ‘‘ধর্মেন্দ্র প্রধান শুধুমাত্র প্রতীক। আমাদের দেশের পড়ুয়াদের আসল শত্রু আরএসএস।’’