কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে সব দিক থেকে ঘিরে ফেলতে চায় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। কৃষক, ছাত্রছাত্রী এবং তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে একটি বৃহত্তর মঞ্চ গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। সেই উদ্দেশ্যেই মঙ্গলবার সিজেপি-র নেতৃত্ব দেখা করেছিলেন কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েতের সঙ্গে। নিট-বিক্ষোভের জেরে বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারীদের নিশানা করে পুলিশি এফআইআর এবং ধরপাকড়ের বিরুদ্ধে কেন্দ্রকে চাপে ফেলতে কৃষক সংগঠনের সহায়তা চেয়েছেন তাঁরা। দিল্লিতে তাঁদের আন্দোলন চলাকালীন কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়ে একাধিক বার যন্তর মন্তরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে হাজির হয়েছিলেন রাকেশ।
ভারতীয় কিসান ইউনিয়নের (বিকেইউ) নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সিজেপি-র অন্যতম মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘‘আশা করছি, আমাদের কৃষক ভাইরা, ছাত্রছাত্রীরা এবং এই দেশের তরুণ প্রজন্ম মোদী সরকারকে সব দিক থেকে ঘিরে ধরতে একসঙ্গে কাজ করবেন।’’ সূত্রের খবর, বৈঠকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কী ভাবে তরুণ প্রজন্ম এবং ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কৃষকদের এক মঞ্চে আনা হবে, বৃহত্তর মঞ্চের মাধ্যমে মোদী সরকারের বিরোধিতা করে কী ভাবে গুরুত্বপূর্ণ দাবিদাওয়া আদায় করা যাবে, তার কৌশল স্থির করার চেষ্টা করেছে সিজেপি এবং বিকেইউ।
আরও পড়ুন:
শিক্ষায় দুর্নীতি এবং নিটের প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে দিল্লিতে দীর্ঘ আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সিজেপি-র আন্দোলনের প্রধান দাবি ছিল সেটাই। এ ছাড়াও দু’টি দাবি তারা সরকারের কাছে জানিয়েছিল— এক, নিট বাতিলের কারণে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং দুই, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না-করার নিশ্চয়তা। মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং বাকি দুই ক্ষেত্রে আশ্বাস পাওয়ার পরেই সিজেপি আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিল। কিন্তু অভিযোগ, কেন্দ্র সব কথা রাখেনি। কারণ, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, অসম-সহ বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজস্থানে এখনও এফআইআর করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধেই কৃষক সংগঠনের সহায়তা চেয়েছে সিজেপি। তাদের বক্তব্য, প্রতিবাদের মঞ্চ বৃহত্তর করা গেলে বিক্ষোভও আরও জোরদার হবে। সরকারের উপর আরও বেশি চাপ সৃষ্টি করা যাবে। আপাতত ককরোচেরা সেই চেষ্টাতেই আছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠক করার পর সিজেপি জানায়, তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার পরেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তাদের আবেদন, এত দিন যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলছিল, তা তুলে নিন।
- ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের চাপে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল সিজেপি।
- ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এই ‘জয়ের’ কৃতিত্ব পুরোটাই দেশের পড়ুয়া এবং যুব সমাজকে দিচ্ছে সিজেপি। কয়েক দিনের এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ দীপকে। শত ‘চাপে’ অনড় ছিলেন দাবিতে। সেই দাবি পূরণ হতেই বাঁধভাঙা আনন্দে ফেটে পড়েন তিনি।
-
ককরোচ সমর্থককে মারধরে অভিযুক্ত স্বতন্ত্রকে অবশেষে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ, পাঠানো হল জেল হেফাজতে
-
‘হাতজোড় করে আন্দোলনে ইতি টানতে চেয়েছিলেন’, যন্তর মন্তরে ‘ককরোচদের’ ভূমিকা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ওয়াংচুকের
-
ককরোচদের সংসদ অভিযানের দিন ছর্রা গুলিতে জখম হন অন্তত ১০ জন! আরটিআই-এর জবাবে বলল দুই হাসপাতাল
-
‘অনশন ভাঙার ছবি প্রকাশ করে প্রতিশ্রুতি ভেঙেছেন মন্ত্রীরা!’ নড্ডার হাতে স্যুপ খাওয়ার ১৪ দিন পরে সরব হলেন ওয়াংচুক
-
ধৃত আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবি! বাঁকিপুরে বিজেপির বিপর্যয়ের পরেই পটনায় ফের শুরু ককরোচ বিক্ষোভ