নিটের প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কলকাতায় আয়োজিত মিছিলে অশান্তির ঘটনায় আরও দু’জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। সোমবার সকালে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৬। সূত্রের খবর, গার্ডেনরিচ এবং পার্ক সার্কাস এলাকা থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার পর্যন্ত এই সংক্রান্ত মামলায় ১৪ জন ধরা পড়েছিলেন। ধৃতদের পাঁচ জনকে সোমবার বেলার দিকে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য ধর্মতলার ডরিনা ক্রসিংয়ের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের সঙ্গে খালি পায়ে হাঁটতে দেখা গিয়েছে তাঁদের।
মিছিলে অশান্তির ঘটনায় ধৃত মহম্মদ আফরোজ় নিয়ে সোমবার ধর্মতলায় পুুলিশ। —নিজস্ব চিত্র।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পার্ক সার্কাসের কড়েয়া এলাকা থেকে ধরা পড়েছেন ওয়াকার আজ়ম নামের ৩৫ বছর বয়সি এক যুবক। এ ছাড়া, গ্রেফতার করা হয়েছে গার্ডেনরিচের কাছে নাদিয়াল থানা এলাকার বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সি জাভেদ আখতারকেও। শুক্রবারের মিছিলে অশান্তি এবং ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে তাঁরা যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন:
সোমবার ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য ধর্মতলায় আনা হয়েছিল মহম্মদ আফরোজ়, সলমন, আলমগির, খালিদ রেজ়া এবং মহম্মদ মইনুদ্দিনকে। এক এক করে তাঁদের গাড়ি থেকে নামিয়ে ধর্মতলার মোড় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের সঙ্গে কথাবার্তা হয়। তার পর আবার গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। বিধানসভা থেকে শনিবার এই আফরোজ়ের নামই করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে যে মামলাটি রুজু করেছিল, তার ভিত্তিতে এই পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, ধর্মতলার মিছিলে ইচ্ছাকৃত ভাবে অশান্তি পাকানো হয়েছে। পুলিশ অন্তত ৭০ জনকে চিহ্নিত করেছে, যাঁরা ছাত্র বা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সদস্য নন। নিট-আন্দোলনের সঙ্গেও তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। পাঁচ জন ‘কুখ্যাত দুষ্কৃতী’র নামও বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু। তাঁদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত মামলায় রাজ্যে সদ্য পাস হওয়া গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগ করেছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘গুন্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেব, যাতে এক দিন নয়, গুন্ডাদের তিন পুরুষ মনে রাখবে।’’ মুখ্যমন্ত্রীর ওই ঘোষণার পর ধরপাকড় আরও বেড়েছে।
ঘটনার পুনর্নির্মাণের পর গাড়িতে তোলা হচ্ছে অভিযুক্তদের। —নিজস্ব চিত্র।
নিটের প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে শুক্রবার কলকাতায় মিছিলের ডাক দিয়েছিল এসএফআই-সহ বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। এ ছাড়া, সিজেপি-র তরফেও জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছিল। বহু মানুষ জমায়েত করেছিলেন সেখানে। অভিযোগ, মিছিল থেকে সাংবাদিকদের হেনস্থা করা হয়, জুতো এবং বোতল ছুড়ে মারা হয়। এ ছাড়া, পুলিশের উপরেও হামলার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। হেয়ার স্ট্রিট এবং এন্টালি থানা মিলে মোট সাতটি মামলা রুজু হয়েছিল। তাতেই ধরপাকড় চলছে।