Advertisement
E-Paper

ধর্মেন্দ্রের জায়গায় কেন প্রহ্লাদকে বাছলেন মোদী? শিক্ষার সঙ্গে আরও দুই মন্ত্রক সামলাতে হবে, কী কী চ্যালেঞ্জ জোশীর

ইতিমধ্যে কেন্দ্রের দু’টি মন্ত্রকের দায়িত্বে আছেন প্রহ্লাদ জোশী। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর তার সঙ্গে বাড়তি দায়িত্ব হিসাবে তাঁকে সামলাতে হবে শিক্ষা মন্ত্রক।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬ ০৮:৩৫
(বাঁ দিকে) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

শনিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্র জানিয়ে দেয়, শিক্ষামন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে প্রহ্লাদ জোশীকে। নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভার বর্ষীয়ান এই সদস্য ইতিমধ্যে কেন্দ্রের দু’টি মন্ত্রকের দায়িত্বে আছেন। তিনি উপভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রক এবং নতুন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রক সামলাচ্ছেন। তার সঙ্গে বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রকের মাথায় বসানো হল প্রহ্লাদকে। দায়িত্ব পেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে সাধ্যমতো এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু দু’টি মন্ত্রক থাকা সত্ত্বেও কেন প্রহ্লাদকেই এই দায়িত্বে আনলেন মোদী?

মন্ত্রিসভায় মোদীর অন্যতম নির্ভরযোগ্য নাম প্রহ্লাদ। কঠিন সময়ে বৈতরণী পার করানোর জন্য শিক্ষামন্ত্রীর পদে তাঁর নিয়োগকে সরকারের বিশেষ কৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, সংসদে এখন বাদল অধিবেশন চলছে। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই প্রহ্লাদ কেন্দ্রের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রক সামলেছেন। সংসদে তাঁর অভিজ্ঞতা, কক্ষের কার্যক্রম পরিচালনার দক্ষতা এবং কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা এখন কাজে লাগতে পারে। ধর্মেন্দ্রের ইস্তফার পর প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণের মুখে সরকারকে সংসদে জবাবদিহি করতে হতে পারে। নতুন করে যাতে সংসদে কোনও হট্টগোল না হয়, বিরোধীরা যাতে এ বিষয়ে আর কোনও গোলমাল করতে না-পারেন, নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তা নিশ্চিত করতে পারবেন প্রহ্লাদ। শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর সংসদের বাদল অধিবেশন সামাল দেওয়াই এখন তাঁর সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে কাজ করেন প্রহ্লাদ। দক্ষ প্রশাসক হিসাবে জটিল আমলাতান্ত্রিক বিভাগগুলিতেও তিনি স্থিতিশীলতা ফেরাতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। সংসদের উভয়কক্ষে বিরোধী আক্রমণ সামাল দেওয়ায় মোদী তাঁর অভিজ্ঞতার উপর ভরসা রেখেছেন।

নিট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের পর থেকে শিক্ষাব্যবস্থার ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌স্বচ্ছতার উপর জনসাধারণের ভরসা টলমল। লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর সেই ভরসা ফিরিয়ে আনা প্রহ্লাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন এবং ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন মোদী। ইতিমধ্যে সেই খসড়া বিল প্রস্তুত। তাতে অনুমোদনও দিয়েছে মোদীর মন্ত্রিসভা। সূত্রের খবর, সোমবার লোকসভায় পেশ হতে পারে সেই ‘পাবলিক এগ্‌জ়ামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিন্স) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ বিলটি। এ ক্ষেত্রে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়টি তদারকি করতে হবে শিক্ষামন্ত্রীকে। প্রশ্নফাঁস রোধের বিল সংসদে পাস হলে তার সঠিক বাস্তবায়ন মন্ত্রীর দায়িত্ব। সবমিলিয়ে টালমাটাল শাস্ত্রী ভবনে স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রহ্লাদকে বাজি রেখেছেন মোদী।

Union Education Minister prahlad joshi Dharmendra Pradhan Narendra Modi

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy