Advertisement
E-Paper

‘ককরোচ’-এর জয়! পদত্যাগ করতেই হল ধর্মেন্দ্রকে, গোটা দেশে প্রতিবাদের মুখে অবশেষে নতিস্বীকার কেন্দ্রীয় সরকারের

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে প্রথম থেকেই অনড় ছিল সিজেপি। শনিবার সরকারের সঙ্গে তাদের তৃতীয় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই পদত্যাগ করলেন ধর্মেন্দ্র।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১৪:২৭
ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের মধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের মধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের চাপে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল সিজেপি। বলা হয়েছিল, মন্ত্রীর ইস্তফা ছাড়া কোনও শর্তেই তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করবে না। এ বিষয়ে কোনও বোঝাপড়া চলবে না। দুর্নীতির দায় মন্ত্রীকে নিতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সিজেপি-র প্রতিনিধিদের দু’দফা বৈঠক হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা দাবিতে অনড় ছিলেন। শনিবার বিকেলে তৃতীয় দফার আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র। ধর্মেন্দ্র জানিয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নিয়ম অনুযায়ী তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠান। রাষ্ট্রপতি সেই ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেছেন।

সিজেপি-র তরফে মোট তিনটি দাবি সরকারের কাছে রাখা হয়েছিল। তার মধ্যে প্রথম দাবিই ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা। এ ছাড়া, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না করার নিশ্চয়তা এবং নিটের প্রশ্নফাঁসে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দাবিটি সরকার মেনে নিলেও এক নম্বর দাবি শুক্রবার পর্যন্ত মানা হয়নি। কেন্দ্রের তরফে জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহ জানিয়েছিলেন, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ ফের তাঁরা ‘ককরোচ’দের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। তার দেড় ঘণ্টা আগেই সিজেপি-র প্রথম দাবি মান্যতা পেল। উল্লেখ্য, শনিবার সকালেই সিজেপি জানিয়েছিল, যদি শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগে রাজি না-থাকেন, তবে সরকারের সঙ্গে আলোচনার কোনও অর্থ নেই।

ইস্তফার কথা ঘোষণা করে শনিবার দুপুরে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন ধর্মেন্দ্র। জানিয়েছেন, গত ১০ দিনের ঘটনায় তিনি দুঃখিত। ধর্মেন্দ্র লিখেছেন, ‘‘ছাত্র, শিক্ষক এবং শিক্ষার সংস্কারে গত চার দশক ধরে আমি নিজেকে নিবেদন করে এসেছি। সবসময় বিশ্বাস করেছি, শক্তিশালী, দূরদর্শী শিক্ষাব্যবস্থাই একটা শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি হতে পারে। দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি, ন্যায়সঙ্গত প্রত্যাশাকে আমি গভীর ভাবে শ্রদ্ধা করি। তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করা আমাদের সকলের রাজনৈতিক এবং সামাজিক অঙ্গীকার। দেশের সেবা করার সুযোগ আমি পেয়েছি, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।’’

ধর্মেন্দ্র জানিয়েছেন, গত ৩ মে নিটের পরীক্ষায় যে অনিয়ম ধরা পড়েছিল, প্রথম দিন থেকে তিনি তার দায় নিয়েছিলেন। কখনও দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করেননি। তাঁর কথায়, ‘‘কোনও মেধবী ছাত্রের ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেব না, কারও সঙ্গে অন্যায় হতে দেব না— এটাই আমার সঙ্কল্প ছিল। গত ১০ দিনের ঘটনাক্রমে আমি ব্যথিত। যন্তর মন্তর এবং সারা দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দেশবিরোধী শক্তিগুলি যাতে তার সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যাতে অটুট থাকে, কোনও পড়ুয়া যাতে আইনি জটিলতায় না জড়িয়ে পড়ে, আমাদের সন্তানেরা যাতে কেরিয়ারে মনোনিবেশ করতে পারে, সে কথা বিবেচনা করে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি।’’

ইস্তফা দিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিবৃতি।

ইস্তফা দিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিবৃতি।

ধর্মেন্দ্র জানিয়েছেন, নিটের প্রশ্নফাঁসের পর ২০ লক্ষাধিক পড়ুয়ার পরীক্ষা যাতে সুচারু ভাবে সম্পন্ন করা যায়, তা-ই অগ্রাধিকার ছিল সরকারের। তাতে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্য সরকার এবং জেলা প্রশাসনের বিশেষ ভূমিকা ছিল। সকলের সহযোগিতায় ২১ জুন পুনরায় নিট আয়োজিত হয়। ১৬ জুলাই নিটের ফল প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই সময়ে দায়িত্বশীল পদে থাকা কিছু ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ধর্মেন্দ্র। বলেছেন, ‘‘কিছু মানুষ পড়ুয়াদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। বাধা সৃষ্টি করেছেন। তাতে আমি ব্যথিত।’’

প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রী পরিষদের সকল সদস্যকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ধর্মেন্দ্র। ইস্তফাপত্রের শেষে তিনি লিখেছেন, ‘‘দেশসেবাই আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাতে আমি সবসময় নিবেদিত থাকব। ভবিষ্যতেও ভারতমাতা, ওড়িশার জনগণ এবং দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করব।’’

শিক্ষায় দুর্নীতি, নিটের প্রশ্নফাঁস এবং ধর্মেন্দ্রের ইস্তফা চেয়ে সিজেপি-র বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরের সামনে অনশনে বসেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। টানা ২৬ দিন তিনি অনশন করেন। তাঁরও অন্যতম দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা। তবে বৃহস্পতিবার রাতে গুরুগ্রামের হাসপাতালে নড্ডা এবং জিতেন্দ্রের সঙ্গে সাক্ষাতের পর অনশন ভাঙেন তিনি। কেন ধর্মেন্দ্রের ইস্তফার দাবি পূরণ হওয়ার আগেই অনশন ভেঙে ফেললেন সোনম, তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন। যদিও সিজেপি তাঁর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিল। অনশনপর্বে ১১ কেজি ওজন কমেছে তাঁর। অনশনভঙ্গের দু’দিনের মাথায় মন্ত্রী ইস্তফা দিলেন।

সংক্ষেপে
  • দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠক করার পর সিজেপি জানায়, তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার পরেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তাদের আবেদন, এত দিন যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলছিল, তা তুলে নিন।
  • ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের চাপে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল সিজেপি।
  • ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এই ‘জয়ের’ কৃতিত্ব পুরোটাই দেশের পড়ুয়া এবং যুব সমাজকে দিচ্ছে সিজেপি। কয়েক দিনের এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ দীপকে। শত ‘চাপে’ অনড় ছিলেন দাবিতে। সেই দাবি পূরণ হতেই বাঁধভাঙা আনন্দে ফেটে পড়েন তিনি।
Dharmendra Pradhan Cockroach Janata Party BJP Delhi Abhijeet Dipke Sonam Wangchuk

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy