নয়ডার এক আবাসনের ৪৩ তলা থেকে ঝাঁপ দেওয়ার আগে তিনি বলেছিলেন, ‘‘বাঁচার ইচ্ছে নেই’’। তাঁর সেই কথায় স্পষ্ট ছিল হতাশা, মানসিক অবসাদের বিষয়টা। তবে কেন মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন গুরুগ্রামের আইএমটি মানেসার এলাকার বাসিন্দা সম্ভব জৈন? ঘটনার তিন দিন পর সেই বিষয়ে আলোকপাত করল পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কয়েকটি কারণ প্রকাশ্যে এসেছে।
পুলিশ সূত্র উদ্ধৃত করে ‘ইন্ডিয়া টুডে’ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সম্ভবকে গ্রাস করেছিল বিষণ্ণতা। এ ছাড়াও, স্ত্রীর সঙ্গে মতপার্থক্য, সন্তানের চিকিৎসার খরচ এবং ঋণের বোঝায় সম্ভবের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বিয়ে হয় সম্ভবের। তিনি পেশায় ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার। কাজ করতেন নয়ডার এক সংস্থাতেই। ২০২৫ সালে সম্ভবের পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তবে জন্মের পর থেকে সেই সন্তান নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল। ফলে চিকিৎসার খরচ বাড়ছিল। সম্ভবের পরিবার তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, জন্মের পর থেকে সন্তানের চিকিৎসার জন্য প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে গিয়েছিল। তার মধ্যেই স্ত্রীর সঙ্গে নানা কারণে বিরোধ শুরু হয়। এক সময়ে তাঁর স্ত্রী বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
সম্ভবের স্ত্রী প্রথমে এক কোটি টাকা দাবি করেন। পরে দু’জনের মধ্যে এ নিয়ে দর কষাকষি চলে। শেষপর্যন্ত ১৫ লক্ষ টাকা স্ত্রীকে দেবেন বলে জানান সম্ভব। তার মধ্যে সাত লক্ষ টাকা দেওয়া হয়ে গিয়েছিল। বাকি টাকা কয়েক কিস্তিতে মেটানোর কথা ছিল। তদন্তকারীরা এ-ও জানতে পেরেছে, সম্ভবের অন্য অনেক ঋণও ছিল। ফলে সম্ভবের আর্থিক সঙ্কট আরও বেড়ে গিয়েছিল।
আরও পড়ুন:
তদন্তকারী দলের এক সদস্য সুমনেশ কুমার জানিয়েছেন, মৃত্যুর তিন-চার দিন আগে সম্ভব এবং তাঁর বাবার মধ্যে হওয়া হোয়াট্সঅ্যাপ চ্যাট পুলিশের হাতে এসেছে। বাবাকে নিজেদের অবসাদ এবং আত্মহত্যার ভাবনার কথা বার বার বলেছিলেন সম্ভব। পুত্রের কথা শুনে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন সম্ভবের বাবা। সম্ভবকে বার বার অনুরোধ করেছিলেন, পৈতৃক বাড়িতে ফিরে আসার জন্য। এ-ও বলেছিলেন, যে কোনও পরিস্থিতি তিনি সামলে নেবেন। কিন্তু বাবার অনুরোধের পরও সম্ভব বাড়ি ফিরে যাননি। বেছে নেন আত্মহত্যার পথই।
আত্মহত্যা করার ঠিক এক দিন আগে সম্ভব সুপারনোভা সোসাইটিতে একটি ঘর ভাড়া করেছিলেন। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ সম্ভব ৪৩ তলার সেই ঘরের বারান্দায় উঠে বাইরে ঝুলতে শুরু করেন। পাশের ৪২২৭ নম্বর ঘরে কাজ করছিলেন বাতানুকূল (এসি) যন্ত্র মেরামতকারী কয়েক জন। তাঁরা দেখতে পেয়ে বাইরে এসে সম্ভবকে বারান্দার ভিতরে ফিরে আসার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, সেই সময় সম্ভব তাঁদের জানান যে তিনি তীব্র হতাশায় ভুগছেন এবং আর বাঁচতে চান না। এর পরই তিনি বারান্দা থেকে নীচে ঝাঁপ দেন। খবর পেয়ে সেক্টর-১২৬ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়।