ভারতকে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য করার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছে ভেটো প্রয়োগের অধিকারী দেশ রাশিয়া। দীর্ঘদিন ধরে নয়াদিল্লি যে দাবি জানিয়ে আসছে, ভ্লাদিমির পুতিন আনুষ্ঠানিক ভাবে তাকে সমর্থন করলেন। কিন্তু তাতে ভারতের লাভ হল কতটা? আদৌ কি লাভ হবে?
রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র আমেরিকা, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং চিন। তা ছাড়াও ১০টি দেশ পর্যায়ক্রমে অস্থায়ী সদস্য হিসেবে দু’বছরের জন্য নির্বাচিত হতে পারে। অস্থায়ী সদস্য হিসেবে ভারতের সেই মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে ২০২২ সালেই। কিন্তু স্থায়ী সদস্য হওয়ার দাবি অনেক দিন ধরেই জানিয়ে আসছে ভারত। সেই লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে ব্রাজ়িল, জার্মানি ও জাপানকে নিয়ে ভারত জি৪ নামক একটি গোষ্ঠীও তৈরি করেছে। ভারতের সদস্যপদের পক্ষে সওয়াল করলেও রাশিয়া কিন্তু জি৪-কে সমর্থন করেনি। বরং জার্মানি এবং জাপানের স্থায়ী সদস্যপদের দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছে পুতিনের দেশ।
আরও পড়ুন:
রাশিয়া জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের তালিকায় পশ্চিমি কোনও দেশের অন্তর্ভুক্তির আর প্রয়োজন নেই। বরং এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করা দরকার। ইউরোপের জার্মানি সেই কারণেই তাদের বিরোধিতার তালিকায় রয়েছে। তবে জাপান এশিয়ার দেশ হলেও তারা আমেরিকার ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশ। সেই কারণে জাপানকেও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে দেখতে চায় না মস্কো। ভারতের পাশাপাশি ব্রাজ়িলের সদস্যপদের পক্ষে তারা সওয়াল করেছে।
নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ বাড়াতে হলে প্রথমে রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ সংশোধন করতে হবে। তার জন্য কয়েকটি সাংবিধানিক ধাপ রয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদের ২৩ নম্বর ধারায় পাঁচটি দেশকেই স্থায়ী সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা আছে। ফলে নতুন করে কোনও দেশকে ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে গেলে আগে সনদ সংশোধন করতে হবে। তার জন্য প্রথমে প্রয়োজন রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন। রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদের ১০৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী, সংশোধনীটি সাধারণ সভার দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য রাষ্ট্রকে তাদের নিজ নিজ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী অনুমোদন করতে হবে। সেই দুই-তৃতীয়াংশের মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রকেও অবশ্যই থাকতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ওই পাঁচ স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন। কোনও একটি দেশও যদি ‘না’ করে দেয়, তাহলে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় সনদ সংশোধন কার্যকর হবে না।
ভারতের ক্ষেত্রে রাস্তা কঠিন। রাশিয়া সমর্থন করলেও স্থায়ী সদস্যগুলির মধ্যে আর কোনও দেশ আনুষ্ঠানিক ভাবে নয়াদিল্লিকে সমর্থন করেনি। প্রকাশ্যে একাধিক বার ভারতের দাবির বিরোধিতা করেছে চিন। ফলে বাকি চার দেশকে রাজি করাতে না-পারলে ভারতের দাবি মান্যতা পাবে না। রাশিয়ার এই সমর্থন ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবির পক্ষে মস্কোর ধারাবাহিক অবস্থানকেই ফের স্পষ্ট করল।