মুখে অমিত শাহ বলছেন, নরেন্দ্র মোদী সরকার সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের যাবতীয় অভিযোগ আলোচনা করতে রাজি। বাস্তবে বিশেষ অধিবেশন দূরে থাক, মোদী সরকার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনই গুটিয়ে ফেলতে চাইছে, যাতে এককাট্টা ইন্ডিয়া শিবির সংসদকে ‘ভোট চুরি’ নিয়ে বিক্ষোভের মঞ্চ হিসেবে কাজে লাগাতে না পারে। জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লির সড়ক বা রামলীলা ময়দানে বিরোধী শিবির ও ককরোচ জনতা পার্টি যে প্রতিবাদ করছে, তা যাতে সংসদে উঠে না আসে।
সরকারি সূত্রের খবর, এ বার সংসদের শীতকালীন অধিবেশন ৩০ নভেম্বর থেকে শুরু করে ১৮ ডিসেম্বরে শেষ করে দেওয়ার কথা ভাবছে মোদী সরকার। ফলে মাত্র ১৫ দিন অধিবেশন বসবে। সাধারণত নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে বড়দিনের ছুটির আগে পর্যন্ত শীতকালীন অধিবেশন চলে। সেই হিসেবে ২৩ নভেম্বর থেকে বা ২৪ নভেম্বর গুরু নানক জয়ন্তীর ছুটির পরে ২৫ নভেম্বর থেকে অধিবেশন শুরু হবে বলে রাজনৈতিক শিবির মনে করছিল। বাস্তবে মোদী সরকার আরও এক সপ্তাহ পরে অধিবেশন শুরু করে বড়দিনের ছুটির এক সপ্তাহ আগে অধিবেশন শেষ করে দিতে চাইছে বলে খবর। মুখে অবশ্য অমিত শাহ চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, মোদী সরকার এসআইআর নিয়ে আলোচনা করতে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতেও রাজি। রাহুল গান্ধী সেখানে এসআইআর নিয়ে বিতর্কে আসুন! সোমবার হায়দরাবাদে এ কথা বলার পরে মঙ্গলবার ফের রায়পুর থেকে অমিত শাহ বলেছেন, ‘‘বিরোধীরা নকল সংসদ করে সংসদের অপমান করছেন। আমি রাহুলজিকে বলতে চাই, নরেন্দ্র মোদী সরকার সব বিষয়ে বিতর্কে রাজি। সংসদ চলতে দিন। আমরা বিশেষ অধিবেশন ডেকে এসআইআর নিয়ে আলোচনা করতে তৈরি।’’ রাহুল গান্ধী পাল্টা জবাবে ফের নরেন্দ্র মোদীকে তাঁর সঙ্গে প্রকাশ্য বিতর্কে আসার চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন।
নরেন্দ্র মোদী বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির মদতে দেশে বিভাজন তৈরির অভিযোগ তুলেছিলেন। রাহুল তার জবাবে মোদীর বিরুদ্ধেই বিদেশি মদতে প্রধানমন্ত্রী হওয়া ও সরকারে টিকে থাকার অভিযোগ আনেন। মোদীকে তাঁর সঙ্গে প্রকাশ্যে বিতর্কে আসার চ্যালেঞ্জও জানান। মঙ্গলবার রাহুল হাতে গোলাপ নিয়ে এক ভিডিয়ো বার্তায় ফের মোদীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, ২৪ ঘণ্টা হয়ে গেলেও জবাব মেলেনি। রাহুলের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী রাজি হলে কী ভাবে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে তিনি রাজি হলেন, কেন হলেন, এত তাড়াহুড়ো কেন হল, আদানির বিরুদ্ধে আমেরিকার মামলা গুটিয়ে নেওয়া, এপস্টিন ফাইল নিয়ে বিতর্ক হবে। রাহুল তরুণদের কাছে জানতে চেয়েছেন, তাঁরা এই বিতর্ক দেখতে চান কি না। মন্ত্রীদের অনুরোধ জানিয়েছেন মোদীকে রাজি করাতে।
মোদী সরকার এখনও খাতায়-কলমে সংসদের বাদল অধিবেশনেই ইতি টানেনি। এ দিকে বাদল অধিবেশন শেষ হয়েছে ৮২ দিন আগে। সংসদের ভাষায়, বাদল অধিবেশন অনির্দিষ্ট কালের জন্য মুলতুবি করা হয়েছে। এখনও ইতি টানা হয়নি বা ‘প্রোরগ’ করা হয়নি। মনে করা হচ্ছিল, লোকসভা-রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করার জন্য মোদী সরকার চেষ্টা করছে। সংখ্যা জোগাড় হলেই লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশ করানোর জন্য বিশেষ অধিবেশন ডাকা হবে।
কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশের বক্তব্য, ‘‘অমিত শাহ আসলে কলঙ্কিত উপায়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশ করাতে চাইছেন। যাতে ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনে নিশ্চিত হার বাঁচানো যায়। এখন উনি বলছেন, এসআইআর নিয়ে বিশেষ অধিবেশন ডাকতে সরকার তৈরি। গত বছর যখন বিরোধীরা এই দাবি তুলেছিল, তখন সরকার এটি নির্বাচন কমিশনের বিষয় বলে এড়িয়ে গিয়েছিল। এসআইআর নিয়ে সত্যিই বিশেষ অধিবেশন চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা নিশ্চিত করুন।
বিজেপি সূত্রের বক্তব্য, রবিবার রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের জনসভায় ভিড় যথেষ্ট চিন্তার কারণ। এত ভিড় বিজেপি অনুমান করেনি। তাই বিরোধীদের ভোট চুরি নিয়ে প্রচারের জবাবে বিজেপিকে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায় নামতে হয়েছে। রাস্তার আন্দোলনে ইতি টানতে সংসদে আলোচনার কথা বলছে তারা। এর মধ্যে রাহুল বিদেশি মদত নিয়ে প্রকাশ্য বিতর্কের আহ্বান জানিয়ে নতুন প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন মোদীকে। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু লোকসভার বিরোধী দলনেতার চ্যালেঞ্জের জবাবে বলেছেন, ‘‘ভারতের শত্রুদের ভাষায় কথা বলে অন্যের বিরুদ্ধে বিদেশি মদতের অভিযোগ হাস্যকর। তা ছাড়া শীর্ষ পর্যায়ের বিতর্ক পরিণত ব্যক্তিদের মধ্যে হয়।’’