একটি জমিতে জঙ্গল পরিষ্কারের কাজ চলছিল। সেই সময় সামফাইকর্মী কিছুতে হোঁচট খান। কিসে হোঁচট খেলেন, তা দেখতে গিয়েই আঁতকে ওঠেন ওই সাফাইকর্মী। দেখেন, মাটির নীচ থেকে কারও একটি হাত বেরিয়ে রয়েছে। এই দৃশ্য দেখে চিৎকার করে বাকিদের জড়ো করেন। সাফাইকর্মীর এই হোঁচটই শেষ পর্যন্ত খুনের কিনারা করল। ঘটনাটি বেঙ্গালুরুর।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। দেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু দেহে এমন ভাবে পচন ধরেছিল যে চেনার উপায় ছিল না। শুধু তা-ই নয়, কুকুরেও ছিঁড়ে খেয়েছিল দেহাংশ। তবে পরনের পোশাক দেখে এটুকুই বোঝা যাচ্ছিল যে, দেহটি কোনও মহিলার। আশপাশে কোনও নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে কি না খোঁজ শুরু হয়। কিন্তু সে রকম কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। তদন্তকারী এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মহিলার পরনের পোশাকে থাকা ট্যাগ থেকে একটি দোকানের হদিস মেলে।
ঘটনাচক্রে, ওই পোশাকের দোকানেই কাজ করতেন মহিলা। সেই সূত্র ধরে মহিলার নাম জানতে পারে পুলিশ। তাঁর নাম অনসূয়া বেহরা (২৮)। বিবাহিতা। তাঁর স্বামীর নাম সাগর চন্দ্র রাওয়াত। তিনি আদতে বিহারের বাসিন্দা। কিন্তু কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুতে থাকেন। রাওয়াত সেখানে একটি হোটেলে কাজ করেন। তাঁকে আটক করে পুলিশ। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, সাগর এবং অনসূয়ার প্রেম করে বিয়ে হয়। তার পর তাঁরা চলে আসেন বেঙ্গালুরুতে। সেখানে হোটেলে কাজ করা শুরু করেন সাগর। আর অনসূয়া একটি পোশাকের দোকানে কাজ খুঁজে নেন। পড়শিরা জানিয়েছেন, দম্পতির মধ্যে নিত্যদিন অশান্তি লেগে থাকত টাকাপয়সা নিয়ে। গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে আচমকা নিখোঁজ হয়ে যান অনসূয়া। তদন্তে প্রকাশ, ওই দিন অনসূয়াকে খুন করেন সাগর। তার পর তাঁর দেহ তিন দিন ধরে বাড়িতে রেখে দেন। তিন দিন পর সেই দেহ বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি ফাঁকা জমিতে পুঁতে দিয়ে আসেন সাগর। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, স্ত্রীর দেহ কেউ দেখে ফেলেছেন কি না, তা পরীক্ষা করতে প্রতি দিন এক বার করে ওই জমির আশপাশে ঘুরে আসতেন সাগর।
তত দিনে দেহে পচনও ধরে গিয়েছিল। বৃষ্টির কারণে মাটি ধুয়ে গিয়ে দেহাংশ বেরিয়ে আসে। জঙ্গল থাকায় কেউ ও দিকে নজর দিতেন না। তবে কয়েক জন স্থানীয়ের দাবি, বেশ কিছু দিন ধরেই পচা গন্ধ পাচ্ছিলেন। ভেবেছেন, কোনও পশু মরেছে। কিন্তু তাঁরা কল্পনা করতে পারেননি যে, সেখানে এক জনের দেহ পুঁতে রাখা আছে। জমির মালিক শুক্রবার জঙ্গল পরিষ্কার করাচ্ছিলেন, সেই সময়েই এক সাফাইকর্মী বেরিয়ে থাকা হাতে হোঁচট খান। স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে সাগরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।