তেলেভাজার প্রতি বাঙালির অগাধ ভালবাসা। অফিস ফেরত হালকা খিদে মেটাতেই হোক বা বাড়িতে বন্ধুদের জমায়েত, তেলেভাজা মাস্ট! তবে যত দিন যাচ্ছে পাড়ার দোকানগুলি থেকে একটি তেলেভাজা যেন গায়েব হয়ে যাচ্ছে। দোকানগুলি থেকে আর পাওয়া যাচ্ছে না মুচমুচে ডিমের ডেভিলের সুবাস। নেপথ্যের কারণ হতে পারে মটনের চড়া দাম বা ভাল কারিগরের অভাব।
ব্রিটিশদের স্কচ এগ আর মুঘলদের নার্গিসি কোফতা, দুই ঘরানার মেলবন্ধনেই জন্ম কলকাতার এই আইকনিক তেলেভাজাটির। বাইরে সোনালি রঙের মুচমুচে খোলস, ভিতরে নরম সেদ্ধ ডিম আর ঝাল-মশলাদার মটনের কিমার পুর। এক কামড়েই মুখে যেন ঝাল-নোনতা আর মিষ্টি স্বাদের বিস্ফোরণ। পুজোর সময় ঘুরে আসতে পারেন শহরের সেই সেরা ঠিকানাগুলিতে, যেখানে আজও ডিমের ডেভিল মানেই নস্টালজিয়া।
নিরঞ্জন আগার
সেরা ডিমের ডেভিলের স্বাদ পেতে হলে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ ও রামদুলাল সরকার স্ট্র্রিট ক্রসিংয়ের কাছেই নিরঞ্জন আগারে একবার ঢুঁ মারতেই হবে। এই দোকানে ডেভিল বানানো হয় হাঁসের ডিম দিয়ে। হাঁসের ডিমের বাইরে ঝাল-ঝাল, মিষ্টি-মিষ্টি মটন কিমার মোটা পুর। একবার খেলে সেই স্বাদ ভোলার নয়। দাম ৭৫ টাকা।
মিত্র ক্যাফে
১৯১০ সালে দুই বন্ধু সুশীলচন্দ্র রায় ও গণেশ মিত্র মিলে শোভাবাজারের কাছে তৈরি করেছিলেন মিত্র ক্যাফে। একসময়ে উত্তমকুমার থেকে শুরু করে বিকাশ রায়, ছবি বিশ্বাসদের চপ-কাটলেট খাওয়ার ঠিকানা ছিল এই ক্যাফে। এখনকার অনেক তারকারও দোকানটির ভক্ত। তবে এখন কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণেও ছড়িয়ে রয়েছে এই দোকানের শাখা। ফিশ ফ্রাই, কবিরাজির জন্য বিখ্যাত হলেও এখানকার মটন এগ ডেভিলের স্বাদও বেশ ভাল। ডেভিলে কামড় বসালে মটন কিমার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় এই ঠিকানায়। দাম ৮০ টাকা।
আপনজন
কালীঘাটের কাছে এই দোকানটি স্থানীয়দের মধ্যে ভাজাভুজির জন্য বেশ বিখ্যাত। তবে এখানকার ডিমের ডেভিলও ভোজনরসিকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। কলকাতায় যে ক’টা দোকানে এখনও ভাল মানের ডিমের ডেভিল পাওয়া যায়, আপনজন তার মধ্যে অন্যতম। এই দোকানেও হাঁসের ডিম দিয়ে তৈরি করা হয় ডেভিল। দাম ৭০ টাকা।
এ্যালেন কিচেন
যতীন্দ্রমোহন অ্যাভিনিউ-র এই দোকানটি ঘিয়ে ভাজা প্রণ কাটলেটের জন্য বিখ্যাত হলেও এখানকার মটন ডেভিলটাও খেতে বেশ। তেলে নয় সেই ডেভিল ভাজা হয় ঘিয়ে। তাই আর পাঁচটা ডেভিলের থেকে স্বাদ একটু হলেও আলাদা। শুধু মটন নয়, এখানে মাছের পুর দিয়েও ডেভিল বানানো হয়, সেটাও খেতে মন্দ নয়। দু’টোরই দাম ৯০টাকা।
সিক্স বালিগঞ্জ প্লেস
রাস্তার ধারের খাবার যাঁরা এড়িয়ে যেতে চান, তাঁরা মটন ডেভিলের স্বাদ নিতে ঘুরে আসতে পারেন সিক্স বালিগঞ্জ প্লেস থেকে। এখানকার ডেভিলে হাঁসের গোটা ডিমের সঙ্গে পাবেন ঝাল ঝাল মটন কিমার স্বাদ। বাইরেটা একেবারে মুচমুচে। ঝাঁঝালো কাসুন্দির সঙ্গে সেই ডেভিলের স্বাদের কোনও তুলনা নেই। দাম যদিও অনেকটাই বেশি। দু’টি ডেভিলের দাম এখানে ৪৫৫ টাকা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
- উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
- সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
-
শতবর্ষপ্রাচীন প্রতিমার পুজোর ভোগে ১০ রকমের খাবার! দেবাদৃতার ঘরোয়া লক্ষ্মীপুজো ঠিক কেমন হল
-
ঘরোয়া ভাবে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এ বার লক্ষ্মীপুজো শ্রীলেখার! দেবীর কাছে কোন বিশেষ প্রার্থনা করবেন তিনি?
-
‘মায়ের পছন্দ না হলে আমার হাত দিয়ে অন্য কিছু করান,’ অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় এ বার কী কী আয়োজন?
-
কেন জোড়া ইলিশ দেওয়া হয় লক্ষ্মীপুজোয়? তেল-মশলা ছাড়াই বানানো হয় ভোগপ্রসাদ, রন্ধনের নিয়মও আলাদা
-
লক্ষ্মীলাভে কেন পিছিয়ে বাংলা ছবি, কোন পথে আসবে সমৃদ্ধি? কী বলছেন প্রযোজক-পরিচালক-অভিনেতারা