Advertisement
E-Paper

শতবর্ষপ্রাচীন প্রতিমার পুজোর ভোগে ১০ রকমের খাবার! দেবাদৃতার ঘরোয়া লক্ষ্মীপুজো ঠিক কেমন হল

ভোগের রান্না প্রতি বার দেবাদৃতা বসুর মা নিজে হাতে করেন, কারণ তিনি দীক্ষিত। তবে দুই মেয়েই অন্য সব রকম উপায়ে তাঁকে সাহায্য করেন। এ বার দেবাদৃতাকে একাই করতে হয়েছেন। তবে কোনও খামতি পড়েনি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ২০:৩৬
দেবাদৃতা বসুর বাড়ির লক্ষ্মীপুজো।

দেবাদৃতা বসুর বাড়ির লক্ষ্মীপুজো। — নিজস্ব চিত্র।

ভোর ৩টেয় উঠে পুজোর প্রস্তুতি! বাড়িতে রয়েছে প্রায় শতবর্ষপ্রাচীন প্রতিমা। পরিবারের দাবি, দেবাদৃতার ঠাকুমার শাশুড়ির শাশুড়ি সম্ভবত কোনও মেলা থেকে এই প্রতিমা বাড়ির মন্দিরে স্থাপন করেন। সেই লক্ষ্মীর আরাধনায় কোনও খামতি রাখেননি দেবাদৃতা বসু। ‘কমলা নিবাস’-এর নায়িকা বাড়ির ঘরোয়া পুজো দেখতে হাজির হয়েছে আনন্দবাজার ডট কম।

দুর্গাপুজোয় মেঘালয় থেকে ঘুরে আসার পর লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন শুরু করেছেন টেলি নায়িকা। বেড়াতে যাওয়ার আগে কিছু উপকরণ কিনে রেখেছিলেন তাঁর মা। ভোগের জন্য আনাজ কাটা, আলপনা দেওয়া, নৈবেদ্য ও পুষ্পপত্র সাজানো, নাড়ু বানানো— সব রকম ভাবে প্রস্তুতিতে অংশ নিয়েছেন তিনি। কিন্তু এ বার বোন দেবপ্রিয়া বসু, প্রেমিক রাহুল দেব বসু পুজোয় যোগ দিতে পারেননি। বোনের ‘দুলারি’ ধারাবাহিকের শুটিং চলছে। ও দিকে রাহুল বেড়াতে গিয়েছেন। নয়তো গত বছরের আগের বছর লক্ষ্মীপুজোয় চন্দন বেটে সকলকে চমকে দিয়েছিলেন রাহুল। এ বার পুজোয় থাকতে পারেননি। কিন্তু ডিজিটাল মাধ্যমের সুবাদে দেবাদৃতাদের বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় অংশ নিয়েছেন অভিনেতা।

অভিনেত্রীর ঘরোয়া পুজোর ভোগ।

অভিনেত্রীর ঘরোয়া পুজোর ভোগ। — নিজস্ব চিত্র

তবে শুটিংয়ে যাওয়ার আগে বোন দেবপ্রিয়া মা, বাবা, দিদি, ঠাকুমার সঙ্গে আলপনা দিয়ে গিয়েছেন। ফিরে আসার পর আবার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাবেন, খাওয়াদাওয়া করবেন। এখন পরিবারের চার জনই ধারাবাহিকে অভিনয় করেন বলে একসঙ্গে সময় কাটানো হয় না আগের মতো। তাই এমন উপলক্ষ বসু পরিবারের কাছে বড়ই আনন্দের।

ভোগের রান্না প্রতিবার মা নিজে হাতে করেন, কারণ তিনি দীক্ষিত। তবে দুই মেয়েই অন্য সব রকম উপায়ে তাঁকে সাহায্য করেন। এ বার দেবাদৃতাকে একাই করতে হয়েছেন। তবে কোনও খামতি পড়েনি। তার পরেও তাঁদের পরিবারের লক্ষ্মী প্রতিমা ভোগের পাতে পেয়েছেন বাসন্তী পোলাও, পনিরের তরকারি, আলুভাজা, বেগুনভাজা, ঢেঁড়সভাজা, কুমড়ো ভাজা, পটল ভাজা, সুজির পায়েস, লুচি আর নাড়ু। পুজোর পরে যদিও নাড়ুর অধিকাংশই দেবাদৃতার পেটেই পড়ে। সেই বিষয়ে তিনি একেবারেই ক্ষমাপ্রার্থী নন। শুটিংয়ের সেটেও যদি নাড়ুর আবদার করা হয়, বাড়ি থেকে নিয়ে যেতে যেতেই হয়তো তার বেশির ভাগটা নায়িকা খেয়ে নেন। তিনি সকলকে বলে দিয়েছেন, নাড়ু খেতে হলে বাড়ির পুজোয় চলে আসতে হবে। কারণ, নিয়ে যেতে যেতে নাড়ুর অস্তিত্ব থাকবে কি না, তার আশ্বাস দিতে সক্ষম নন অভিনেত্রী।

যে বাড়িতে নিয়ম করে লক্ষ্মীপুজো হয় প্রতিবার, সে বাড়ির দুই মেয়েই কিন্তু বেশ লক্ষ্মীমন্ত। শুটিংয়ের পর পার্টির আমন্ত্রণ এলেও বাবাকে ফোন করে অনুমতি নিয়ে তবেই যান তাঁরা। সব পরিস্থিতিতেই বাড়ির সকলের অনুমতির প্রয়োজন পড়ে। নয়তো বকুনির ভয়! আর সেই ভীত দেবাদৃতা, দেবপ্রিয়া দু’জনেই।

সংক্ষেপে
  • লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
  • উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
  • সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্‌সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
Debadrita Basu Laxmi Puja

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy