আতিশয্যের বহর নেই। বরাবর ঘরোয়া কায়দাতেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো করেন শ্রীলেখা মিত্র। এ বারও একই ভাবে পুজো করছেন। যদিও এই লক্ষ্মীপুজোটা আরও একটু রঙিন হয়ে উঠবে অভিনেত্রীর জন্য। এ বার কন্যা ঐশী এসেছেন তাঁর কাছে।
পুজোর আগেই কলকাতায় এসেছেন কন্যা। আর লক্ষ্মীপুজোটা তিনি মায়ের সঙ্গেই কাটাবেন। শ্রীলেখার কথায়, “প্রস্তুতি তেমন কিছু থাকে না। মেয়ে এসেছে, ও থাকবে আমার কাছে। আমার গৃহসহায়িকা, যিনি ২০ বছর ধরে আমার সঙ্গে রয়েছেন, তিনিও থাকবেন। আমার পুজোয় আসলে আড়ম্বর থাকে না। তবে ভক্তি থাকে।”
লক্ষ্মীপুজোয় যে বিষয়গুলি আবশ্যিক, সেগুলিই রাখেন শ্রীলেখা। চেষ্টা করেন আলপনা দেওয়ারও। বাঙালির লক্ষ্মীপুজোর এক বিশেষ অঙ্গ ঘরের মেঝেয় আলপনা দেওয়া। কিন্তু নিজের আলপনা দেওয়ার দক্ষতা নিয়ে কিছুটা হতাশ অভিনেত্রী। হাসতে হাসতেই তিনি বলেন, “আমি আলপনা দিই ঠিকই। কিন্তু আঁকাআঁকিতে আমি খুব খারাপ। লক্ষ্মীর পা, ধানের শিস এগুলো আঁকার চেষ্টা করি। এক বার আমার আঁকা লক্ষ্মীর পা দেখে একজন প্রশ্ন করেছিল, ইংরেজিতে ৫২ (ফিফটি টু) লেখা নাকি? ওটা লক্ষ্মীর পা, সেটা নাকি বোঝাই যায়নি। এমনই খারাপ আঁকি।”
চিরকাল ঘরোয়া কায়দাতেই পুজো করেন শ্রীলেখা।
কিন্তু হাল ছাড়েননি শ্রীলেখা। তাই তিনি বলেন, এ বারও চেষ্টা করব লক্ষ্মীর পা আঁকার। আশা করব, দেবী লক্ষ্মী ছোট্ট ছোট্ট পায়ে আমার বাড়িতে আসেন। সকলের বাড়িতেই যেন তিনি আলো করে আসেন।
একসময় বাড়িতেই ভোগ বা মিষ্টির আয়োজন হত। তবে এখন বেশির ভাগটা দোকান থেকেই কিনে আনেন শ্রীলেখা। তাঁর কথায়, “মাসিরও বয়স হয়েছে। তিনি আর পারেন না নাড়ু বানাতে। আমিও এ সবে তেমন পাকাপোক্ত নই। তাই পুজোর নাড়ু বা মিষ্টির বেশির ভাগ দোকান থেকেই নিয়ে আসি।” একসময় অভিনেত্রীর বাড়িতে সরায় পুজো হত। এ বার ফের সেই ধারাই ফিরিয়ে আনার কথা ভেবেছেন তিনি। ছোট করে পুজো করলেও মনের ভক্তিতে কোনও ঘাটতি নেই, জানান অভিনেত্রী। তাই তাঁর বিশ্বাস, “ছোট্ট ভাবে মিষ্টি করে পুজো করব। এতেই মা লক্ষ্মী আসবেন।”
মেয়ে ঐশীর সঙ্গে শ্রীলেখা।
এ বার লক্ষ্মীর থেকে কী প্রার্থনা করছেন শ্রীলেখা? অভিনেত্রী বলেন, “মা দুর্গার কাছে যা চেয়েছিলাম, তাই চাইব লক্ষ্মীর কাছেও। কিন্তু চাওয়ার পরেও তো চোরবাগানের মতো ঘটনা ঘটল। মক্কায় বাংলাদেশি দম্পতির মৃত্যুদণ্ডের মতো ঘটনা ঘটল। তাই একটাই প্রার্থনা, মানুষকে একটু শান্ত করো। মানুষকে ভাল রেখো।” এর পাশাপাশি লক্ষ্মীর কাছে শ্রীলেখার আরও একটি প্রার্থনা, “আমাকেও সুস্থ রেখো। আমি সুস্থ বা ভাল না থাকলে, আমার আশপাশের চারপেয়ে বাচ্চাদের জন্য যে কাজগুলো করতে চাই, সেগুলো করতে পারব না। যত দিন বেঁচে আছি, সুস্থ ভাবে যেন বাঁচতে পারি।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
- উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
- সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
-
শতবর্ষপ্রাচীন প্রতিমার পুজোর ভোগে ১০ রকমের খাবার! দেবাদৃতার ঘরোয়া লক্ষ্মীপুজো ঠিক কেমন হল
-
‘মায়ের পছন্দ না হলে আমার হাত দিয়ে অন্য কিছু করান,’ অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় এ বার কী কী আয়োজন?
-
কেন জোড়া ইলিশ দেওয়া হয় লক্ষ্মীপুজোয়? তেল-মশলা ছাড়াই বানানো হয় ভোগপ্রসাদ, রন্ধনের নিয়মও আলাদা
-
লক্ষ্মীলাভে কেন পিছিয়ে বাংলা ছবি, কোন পথে আসবে সমৃদ্ধি? কী বলছেন প্রযোজক-পরিচালক-অভিনেতারা
-
উত্তমকুমারের স্ত্রীর মুখের আদলে লক্ষ্মীর মূর্তি, ভোগে নায়কের পছন্দের বেগুন-বাসন্তী, আর কী আয়োজন হয় তাঁর বাড়ির পুজোয়?