বিলাসবহুল অট্টালিকা নয়, কাচে মোড়া ঝাঁ চকচকে প্রাসাদও নয়। বরং বাড়ির জানলা খুললেই চোখে পড়বে সবুজের সমারোহ, সামনে পাহাড়ের ঢাল, কাছেই বর্ষার জলে ভরে ওঠা ছোট ছোট ঝর্না। আর দিনের শেষে পশ্চিম আকাশে সূর্য ডোবার দৃশ্য। মুম্বই শহর থেকে দূরে এমনই এক বাড়ি তৈরি করেছেন অভিনেতা ইমরান খান।
শুধু বাড়ি কেনা বা সাজিয়ে তোলাই নয়, বাড়ির নকশা তৈরির দায়িত্বও নিজের হাতে নিয়েছিলেন তিনি। স্থাপত্যবিদ্যার কোনও প্রথাগত শিক্ষা না থাকলেও নিজের আগ্রহে শিখেছেন প্রয়োজনীয় কাজ, প্রকৃতিকে কাছ থেকে বুঝেছেন, তার পর তৈরি করেছেন নিজের স্বপ্নের ঠিকানা।
মহারাষ্ট্রের কারজাত এলাকায় তৈরি এই বাড়ির জায়গাটি প্রথম দেখেই পছন্দ হয়েছিল ইমরানের। জায়গাটি ছিল অসমান। দু’পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে বর্ষায় জলপূর্ণ হয়ে ওঠা দু’টি জলধারা। পিছনে পাহাড়ের খাড়া ঢাল, আর বাড়ির সামনের দিকে সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ। এই প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলিই বাড়ির নকশা তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
জায়গাটিকে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী বদলে ফেলার বদলে তিনি চেয়েছিলেন, প্রকৃতিই ঠিক করে দিক বাড়িটি কেমন হবে। সেই জন্য নির্মাণ শুরু করার আগে প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন ঋতুতে সেখানে যেতেন তিনি। কখন সূর্য ওঠে, কখন অস্ত যায়, দিনের কোন সময়ে আলো কোথায় পড়ে, বর্ষায় জলধারাগুলির গতিপথ কী রকম হয়, ঋতু বদলের সঙ্গে গাছপালার রং কী ভাবে পাল্টায়— সব কিছু লক্ষ করতেন। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই বার বার নিজের আঁকা নকশা বদলেছেন অভিনেতা।
২০২৪ সালে বাড়ি তৈরির গল্প এবং ছবি সমাজমাধ্যমে দিয়েছিলেন ইমরান। তাঁর বক্তব্য, বাড়িটি যেন আশপাশের দৃশ্যকে ঢেকে না দেয়। বরং বাড়িটি হবে এমন একটি আশ্রয়, যেখান থেকে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। সেই সময়ে তিনি জানান, নিজের বাড়ির পরিকল্পনা করতে গিয়ে ইমরান নিজেই ত্রিমাত্রিক নকশা তৈরির সফ্টওয়্যারের ব্যবহার শেখেন। সেই সফটওয়্যারের সাহায্যে বাড়ির নকশা তৈরি করেন তিনি। তবে নির্মাণের ক্ষেত্রে একা সিদ্ধান্ত নেননি। কন্ট্র্যাক্টর এবং স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রেও প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে হাঁটেন ইমরান। সাধারণ কংক্রিটের ছাদযুক্ত কাঠামোর বদলে আশপাশের গ্রামের বাড়ি তৈরির পদ্ধতি থেকে অনুপ্রেরণা নেন তিনি। বাড়ির ভিত তৈরি হয়েছে পাথরের উঁচু বেদির উপর। তার উপর একতলা ইটের দেওয়াল, ছাদ ধরে রাখার জন্য ইস্পাতের বিম এবং তার উপরে আগে থেকে তৈরি ইনসুলেটেড রুফিং শিট ব্যবহার করা হয়েছে। বড় জানলা ও কাচের দরজা দিয়ে আলো ঢোকার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে প্রকৃতিকে উপভোগ করার জন্য বাড়ির বাইরে না গেলেও হয়।
অভিনেতার দাবি, কারজাত এলাকায় যে তৈরি ভিলাগুলি বিক্রির বিজ্ঞাপন তিনি দেখেন, সেগুলির একটির দাম দিয়ে বাড়ি তৈরি করার তুলনায় নিজের বাড়ি তৈরিতে কম খরচ হয়েছে। তবে বাড়ি তৈরির মোট খরচের নির্দিষ্ট অঙ্ক তিনি জানাননি। ফলে কত টাকা সাশ্রয় হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, আগে থেকে তৈরি বিলাসবহুল বাড়ি কেনার বদলে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাড়ি তৈরি করার মধ্যে তিনি বেশি আনন্দ পেয়েছেন।