‘জীবনের অমূল্য সময় নষ্ট করেছি’! তৃতীয় বিবাহবিচ্ছেদের পর অনুশোচনা অভিনেত্রীর, দিন কাটে একাকী মা হিসেবেই
হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মালয়ালম— নানা ভাষায় অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী। তিন বার সাত পাকে বাঁধা পড়েছেন। কিন্তু কোনও বিয়েই সফল হয়নি। দ্বিতীয় বিয়ে থেকে এক পুত্রসন্তানও রয়েছে তাঁর।
বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন তিন-তিন বার। দ্বিতীয় বিয়ে থেকে এক পুত্রসন্তানও রয়েছে। কিন্তু সফল হয়নি একটিও বিবাহ। বর্তমানে একাকী মা হিসেবেই জীবন কাটাচ্ছেন অভিনেত্রী।
তিনি মীরা বসুদেবন। ১৯৮২ সালের ২৯ জানুয়ারি মুম্বইয়ের এক তামিল পরিবারে মীরার জন্ম। তাঁর বাবার নাম বসুদেবন এবং মায়ের নাম হেমলতা।
পড়াশোনা শেষ করার পর মডেলিং জগতে পা রাখেন মীরা। বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে শুরু করেন। তেমনই একটি বিজ্ঞাপনে মীরাকে দেখে পছন্দ হয়ে যায় চলচ্চিত্র পরিচালক পার্বতী বালগোপালনের মায়ের।
এ ভাবেই ২০০৩ সালে হিন্দি ছবি ‘রুলস: প্যার কা সুপারহিট ফর্মুলা’র মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখার সুযোগ পান মীরা। সেখানে তাঁর বিপরীতে ছিলেন মিলিন্দ সোমান। এই ছবির জন্য সেরা উদীয়মান অভিনেত্রী হিসেবে মনোনীত হন তিনি।
‘রুলস: প্যার কা সুপারহিট ফর্মুলা’র মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে পরিচয় ঘটলেও মীরার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি তেলুগু ভাষায়, নাম ‘গোলমাল’। সেটাও ২০০৩ সালেই। হিন্দি এবং তেলুগুর পাশাপাশি মালয়ালম এবং তামিল ছবিতেও অভিনয় করেন মীরা। ‘জাদু সা চল গয়া’, ‘জেরি’, ‘ওরুভান’, ‘একান্থম’, ‘বাল্মীকম’, ‘কাক্কি’ এবং ‘থোড়ি লাইফ থোড়া ম্যাজিক’ প্রভৃতি চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় সমালোচকদের নজর কেড়েছিল।
আরও পড়ুন:
২০০৫-এ তামিলনাড়ুর শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবেও পুরস্কৃত হন। ওই বছরই চলচ্চিত্রগ্রাহক অশোক কুমারের পুত্র বিশালের সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েন মীরা। তবে সে বিয়ে সুখের হয়নি। ২০১০ সালের জুলাই মাসে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
বিশালের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ এনেছিলেন মীরা। এই মর্মে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। বিশালের কারণে তাঁর কর্মজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এমন দাবিও করেছিলেন। বিশাল পাল্টা দোষারোপ করেন যে তাঁর পারিবারিক পরিচয়কে কেরিয়ারের স্বার্থে ব্যবহার করতেন অভিনেত্রী।
প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও অভিনয়ের প্রতি ভালবাসার সঙ্গে কিন্তু আপস করেননি মীরা। এই সময়কালে ‘থানমাত্রা’, ‘হ্যালো, কৌন হ্যায়’, ‘চ্যান কুলি কি ম্যায় কুলি’, ‘ডিসেন্ট পার্টিস’, ‘ভাইরাম: ফাইট ফর জাস্টিস’-সহ বহু ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। ২০০৭ সালে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে কেরলমের একটি পুরস্কারও জেতেন।
২০১২ সালে ফের বিয়ের পিঁড়িতে বসেন মীরা। মডেল-অভিনেতা জন কোক্কনকে বিয়ে করেন তিনি। সেই বিয়েও টিকেছিল বছর চারেক। জন এবং মীরার এক পুত্রসন্তান রয়েছে। তার নাম আরিহা। বিচ্ছেদের পর ২০১৭ সালে ‘চক্করমাভিন কোম্বাথু’ নামে একটি মালয়ালম ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে তাঁর অভিনয় বিশেষ প্রশংসিত হয়।
আরও পড়ুন:
প্রাক্তন স্বামী জন সম্পর্কে মীরার বক্তব্য, তিনি মানুষ হিসেবে খুব ভাল। কিন্তু মতপার্থক্যের কারণে প্রায়ই তাঁদের মধ্যে ঝামেলা হত। সন্তানকে এই পরিবেশে বড় করা উচিত নয় বলে সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। বিচ্ছেদের পরেও সন্তানের দায়িত্ব পালনে কখনও অবহেলা করেননি জন, এমনটাই জানিয়েছেন মীরা।
শুধু বড়পর্দা নয়। মীরা কাজ করেছেন ছোটপর্দাতেও। ‘পেন’, ‘কানালপুভু’, ‘মধুরানমবরাকাট্টু’, ‘কুডুম্বাভিলাক্কু’ নামে বেশ কয়েকটি ধারাবাহিকেও অভিনয় করেন তিনি। বাংলা জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘শ্রীময়ী’র কাহিনি অবলম্বনে তৈরি হয়েছিল ‘কুডুম্বাভিলাক্কু’। মুখ্যচরিত্রে সুমিত্রা হিসেবে মীরার অভিনয় বিপুল প্রশংসা পায়। তামিল ধারাবাহিক ‘চিথি ২’-তে খলনায়িকার ভূমিকায় তাঁর অভিনয়ও জনপ্রিয় হয়।
২০২৪ সালের মে মাসে বিপিন পুথিয়াঙ্কাম নামে এক সিনেমাটোগ্রাফারকে বিয়ে করেন মীরা। ‘কুডুম্বাভিলাক্কু’ ধারাবাহিক থেকে তাঁদের প্রেমের সূচনা বলে জানা যায়। মীরার চেয়ে প্রায় বছর দশেকের ছোট বিপিন। সে কারণে কটাক্ষের শিকার হন অভিনেত্রী। যদিও সে সব কিছুকেই তোয়াক্কা করেননি তিনি।
তবে এই বিয়েও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অভিনেত্রীর তৃতীয় বিবাহের আয়ুষ্কাল ছিল সবচেয়ে কম। বছর দেড়েকের মধ্যেই বিচ্ছেদের পথে হাঁটেন বিপিন-মীরা। ইনস্টাগ্রামে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে এই সম্পর্কে একটি পোস্ট করেন মীরা। সেখানে জানান, ২০২৫-এর অগস্ট মাস থেকে তিনি একাকী জীবনযাপন করছেন। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর এবং শান্তিপূর্ণ সময় কাটাচ্ছেন বলেও ওই পোস্টে দাবি করেন তিনি।
আরও একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে মীরা লেখেন, বিপিন তাঁর ছেলের প্রতি ভাল বাবার মতোই আচরণ করতেন। তিনিই পরিবারকে একসঙ্গে ধরে রেখেছিলেন। তা সত্ত্বেও কেন তাঁদের বিচ্ছেদ হল, সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে কখনওই কিছু বলেননি মীরা বা বিপিন কেউই।
একটি সাক্ষাৎকারে মীরা অনুশোচনার সুরে জানান, তিনটি ব্যর্থ বিয়েতে জীবনের অমূল্য অনেকগুলি বছর নষ্ট হয়েছে তাঁর। সে সময় নিজের কেরিয়ার, ব্যক্তিগত বিকাশ এবং পরিবারকে দিলে আরও উন্নতি করতে পারতেন তিনি। বর্তমানে কাজ নিয়েই ব্যস্ত আছেন অভিনেত্রী। সমাজমাধ্যমে তাঁর অনুরাগীর সংখ্যা কয়েক লক্ষের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে।