খুনের সুপারি ঘুরল এক হাত থেকে অন্য হাত, অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন হল নষ্ট! চিত্রনাট্যকেও হার মানায় যে বিচিত্র অপরাধের গল্প
রিয়্যাল এস্টেট ব্যবসায়ী তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীকে মেরে ফেলার দায়িত্ব দিয়েছিলেন এক সুপারি কিলারকে, যা তাঁর পছন্দের সুপারি কিলারের হাত ধরে ঘোরে আরও পাঁচ সুপারি কিলারের কাছে। কিন্তু শেষমেশ কাজটি অসম্পূর্ণই থেকে যায়।
ধরুন আপনি কাউকে একটা কাজ করার দায়িত্ব দিলেন। দক্ষিণাস্বরূপ মোটা অঙ্কের টাকাও দিলেন। কিন্তু তিনি সেই কাজ করলেন না। উল্টে আপনার দেওয়া টাকার কিছু অংশ অপরকে দিয়ে তাঁকে সেই কাজটি করে দিতে বললেন। সেই মানুষটিও একই পন্থা মানলেন। শেষে গিয়ে কাজটি আর হল না। তেমনটাই ঘটেছে চিনের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে।
কিন্তু সেই ব্যবসায়ী আর আপনার দেওয়া কাজের মধ্যে হয়তো বৈসাদ়ৃশ্য একটাই। চিনের সেই ব্যবসায়ী তাঁর এক প্রতিদ্বন্দ্বীকে মেরে ফেলার দায়িত্ব দিয়েছিলেন এক সুপারি কিলারকে, যা তাঁর পছন্দের সুপারি কিলারের হাত ধরে ঘোরে আরও পাঁচ সুপারি কিলারের কাছে। কিন্তু শেষমেশ কাজটি অসম্পূর্ণই থেকে যায়।
ঘটনাটির সূত্রপাত ২০১৩ সালে। চিনের রিয়্যাল এস্টেট ব্যবসায়ী ট্যান ইউহুই তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েইকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই প্রতিদ্বন্দ্বীও পেশায় রিয়্যাল এস্টেট ব্যবসায়ী। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
চিনের নান্নিং ইন্টারমিডিয়েট পিপল্স কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হওয়া খবর অনুযায়ী, ২০১৩ সালে ট্যান আর ওয়েইয়ের মধ্যে পেশাগত কারণে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জল এত দূর গড়ায় যে ওয়েই ট্যানের সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সেখান থেকেই ট্যানের রাগ আরও বেড়ে যায়। পথের কাঁটা পরিষ্কার করতে ট্যান ভাড়াটে খুনি দিয়ে ওয়েইকে খুন করার মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেন। যেমন ভাবনা, তেমন কাজ। সুপারি কিলার শি গুয়ানআঙের দ্বারস্থ হন ট্যান। কাজটি করার জন্য তাঁকে ২০ লক্ষ ইয়েন দেন।
আরও পড়ুন:
শি কাজটি করার জন্য রাজি হন। কিন্তু সুপারি কিলারের মধ্যে যে সাহস থাকা দরকার, তার শিকিভাগও ছিল না শির মধ্যে। তাই কাজটি নিজে না করার সিদ্ধান্ত নেন।
শি খুঁজে বার করেন অপর এক ভাড়াটে খুনিকে। নাম তাঁর মো তিয়ানশিয়াং। মো-কে শি ১০ লক্ষ ইয়ান দিয়ে ওয়েইকে খুন করার সুপারি দেন। মো দিব্য মেনে নেন। কিন্তু শি সেই ১০ লক্ষ ইউয়ান নিজের থেকে দিলেন না। সেই টাকা চাইতে দৌড়োলেন ট্যানের কাছে। কিন্তু ট্যানকে তাঁর পরিকল্পনার কথা জানালেন না। শত্রুকে সরানোর আকাঙ্ক্ষায় ট্যান আরও টাকা দেওয়ার আবদারও মেনে নিলেন।
১০ লক্ষ ইউয়ান হাতে পাওয়ার পর বেঁকে বসলেন মো। তাঁরও তখন মনে হতে লাগল যে এই কাজ করা উচিত হবে না। কিন্তু অর্থ তো নিয়ে ফেলেছেন, তা হলে উপায়? মো খুঁজে বার করেন আর এক সুপারি কিলারকে।
ইয়াং কাশং নামের এক ব্যক্তিকে মো দায়িত্ব দেন ওয়েইকে খুন করার। মো তাঁকে খুনের পূর্বে দুই লক্ষ ৭০ হাজার ইয়েন দেন। খুনের পরে আরও পাঁচ লক্ষ ইয়েন দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন। কিন্তু ইয়াঙেরও এ কাজ করতে মন চাইল না।
আরও পড়ুন:
ইয়াং খুঁজে বার করেন ইয়াং গুশাং নামের এক সুপারি কিলারকে। গুশাংকে ইয়াং মোট সাত লক্ষ ইয়েন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। গুশাংও কাজটি করবেন বলে কথা দিয়ে কথা রাখলেন না। খুঁজে বার করেন অপর এক সুপারি কিলারকে।
গুশাংয়ের খুঁজে বার করা সুপারি কিলারের হাত ধরেই এই ওয়েইকে খুন করার চক্র ভেঙে যায়। গুশাং যাঁকে খুঁজে বার করেছিলেন তাঁর নাম লিং সিয়ানসি। তাঁকে এক লক্ষ ইউয়ান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন গুশাং। তত দিনে পেরিয়ে গিয়েছে প্রায় অর্ধেক বছর।
এর পর লিং যা করেন, তা সুপারি কিলারের এই দলের কোনও সদস্যই ভাবতে পারেননি। লিংও খুন করবেন না বলেই ঠিক করেন। কিন্তু ওয়েইকে খুন করানোর জন্য অন্য কাউকে না খুঁজে তিনি একটি ক্যাফেতে ওয়েইয়ের সঙ্গেই দেখা করেন।
লিং আরও বড় ‘খেলোয়াড়’। তিনি ওয়েইয়ের সঙ্গে তাঁকে মিথ্যা খুন করার পরিকল্পনা করেন। লিং ঠিক করেন যে ওয়েইয়ের মুখে কাপড় গুঁজে, হাত-পা বেঁধে একটা ছবি তুলে নিয়ে গুশাংকে দেখিয়ে বলবেন, তিনি তাঁর দেওয়া কাজটি করেছেন।
ওয়েই এক কথায় লিঙের এই পরিকল্পনায় রাজি হয়ে যান। কারণ তাঁর মাথায় ঘুরছিল অপর এক ‘খেলা’। ছবি পৌঁছে যায় কর্তৃপক্ষের কাছে। তাঁরা ভাবেন যে ওয়েই আর জীবিত নেই। ওয়েইও এক সপ্তাহের জন্য উধাও হয়ে যান।
এক সপ্তাহ পর থেকে শুরু হয় ওয়েইয়ের খেলা। তিনি পুলিশের কাছে গিয়ে পুরো বিষয়টি জানিয়ে দেন। পুলিশ ট্যান-সহ পাঁচ ভাড়াটে খুনিকে গ্রেফতার করে।
চিনের আদালত ট্যানকে পাঁচ বছরের জন্য কারাবাসে রাখার সিদ্ধান্ত জানান। খুনের পরিকল্পনা করার জন্য তাঁকে জেল খাটতে হয়। বাকিদের দুই থেকে চার বছরের জন্য জেলের ভাত খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।